সহকারী অধ্যাপক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৪৭ অপরাহ্ণ
আল-ইনশিকাকের আলোকে কিয়ামত, জবাবদিহি ও চিরস্থায়ী সফলতা
আল-ইনশিকাকের আলোকে কিয়ামত, জবাবদিহি ও চিরস্থায়ী সফলতা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মানুষ এই পৃথিবীতে এসেছে চিরকাল থাকার জন্য নয়; বরং একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য। জন্মের পর মানুষ ধীরে ধীরে জীবনের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে বার্ধক্য, মৃত্যু এবং অবশেষে আখিরাতের জীবনের দিকে এগিয়ে যায়। দুনিয়ার জীবন যতই দীর্ঘ মনে হোক, প্রকৃতপক্ষে তা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু মানুষের সামনে রয়েছে এমন এক জীবন, যার কোনো শেষ নেই—সেটিই আখিরাত।
পবিত্র কুরআনের ৮৪ নম্বর সূরা আল-ইনশিকাক মানুষের এই চিরন্তন যাত্রাপথকে অত্যন্ত গভীর ও হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছে। সূরাটিতে কিয়ামতের ভয়াবহ পরিবর্তন, মানুষের রবের দিকে অবিরাম অগ্রযাত্রা, আমলনামা হাতে পাওয়ার দৃশ্য, হিসাব-নিকাশের পরিণতি এবং ঈমানদারদের পুরস্কারের কথা বর্ণিত হয়েছে।
এই সূরা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—জীবন কোনো উদ্দেশ্যহীন যাত্রা নয়। প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ, প্রতিটি আচরণ এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের হিসাব একদিন দিতে হবে। তাই দুনিয়ার মোহে আত্মভোলা নয়; বরং ঈমান, তাকওয়া, সৎকর্ম, তাওবা ও আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী
সূরার শুরুতেই কিয়ামতের মহাদৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে—
“যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, এবং তার রবের আদেশ পালন করবে এবং এটাই তার করণীয়।”
আজ যে আকাশকে আমরা সুবিস্তৃত ও সুদৃঢ় দেখি, কিয়ামতের দিন তার বর্তমান অবস্থা পরিবর্তিত হবে। পৃথিবীর পরিচিত নিয়ম-শৃঙ্খলা ভেঙে যাবে। পৃথিবীকেও সমতল করা হবে এবং তার অভ্যন্তরে থাকা বস্তুসমূহ বাইরে নিক্ষিপ্ত হবে।
এসব দৃশ্য মানুষকে একটি মৌলিক সত্য শিক্ষা দেয়—এই দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ যেভাবে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর হুকুমেই একদিন এই বর্তমান জগতের অবসান ঘটবে। কিয়ামত কোনো কল্পকাহিনি নয়; এটি ইসলামী আকিদার একটি অপরিহার্য সত্য।
অতএব, যে মানুষ কিয়ামতকে বিশ্বাস করে, তার জীবনযাপনও সেই বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
মানুষ তার রবের দিকে এগিয়ে চলেছে
সূরার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা হলো—
“হে মানুষ! তুমি তো তোমার রবের দিকে ধাবমান অত্যন্ত শ্রমের সাথে, অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে।”
মানুষের জীবন আসলে একটি অবিরাম যাত্রা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত তাকে তার নির্ধারিত পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ চাইলেও সময়কে থামাতে পারে না, অতীতকে ফিরিয়ে আনতে পারে না এবং মৃত্যুকে এড়িয়ে যেতে পারে না।
শৈশব পেরিয়ে যৌবন, যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্য—এভাবেই মানুষ অজান্তেই জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যায়। ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি, প্রভাব কিংবা পার্থিব সাফল্য কোনো কিছুই তাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না।
তাই মানুষের উচিত নিজেকে প্রশ্ন করা—
আমি কোথায় যাচ্ছি?
আমার জীবনের উদ্দেশ্য কী?
আমি আমার রবের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছি?
এই আত্মজিজ্ঞাসাই একজন মুমিনের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।
আমলনামা: জীবনের পূর্ণ হিসাব
সূরার ৭ থেকে ১৫ নম্বর আয়াতে মানুষের আমলনামা ও হিসাবের পরিণতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
যার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, তার জন্য সহজ হিসাব হবে এবং সে আনন্দের সঙ্গে তার আপনজনদের কাছে ফিরে যাবে। অন্যদিকে যার আমলনামা পেছন দিক থেকে দেওয়া হবে, সে ধ্বংস কামনা করবে এবং জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
এখানে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—কোনো আমলই আল্লাহর কাছে অগোচর নয়।
মানুষ পৃথিবীতে অনেক কিছু গোপন করতে পারে। মানুষের কাছ থেকে কোনো কথা লুকাতে পারে, কোনো অন্যায় গোপনে করতে পারে, বাহ্যিকভাবে নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। কিন্তু আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই গোপন নয়।
কুরআন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের প্রকাশ্য ও গোপন সব কর্মকাণ্ড আল্লাহ জানেন।
তাই প্রকৃত তাকওয়া হলো—মানুষের সামনে যেমন আল্লাহকে ভয় করা, একাকী অবস্থাতেও তেমনি আল্লাহকে ভয় করা।
সহজ হিসাবের প্রত্যাশা
মুমিনের অন্যতম আশা হলো কিয়ামতের দিন আল্লাহ যেন তার হিসাব সহজ করে দেন। তবে এই আশা শুধু মুখের কথা হলে চলবে না; এর সঙ্গে ঈমান ও সৎকর্ম থাকতে হবে।
আল্লাহ বলেন—
“তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।”
এখানে দুটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—ঈমান ও সৎকর্ম।
শুধু মুখে ঈমানের দাবি যথেষ্ট নয়; ঈমানের প্রভাব মানুষের চরিত্র ও কর্মে প্রকাশ পেতে হবে। নামাজ, রোজা, যাকাত, হজসহ ফরজ ইবাদত পালন, হালাল-হারাম মেনে চলা, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, প্রতিবেশীর হক আদায়, মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার—এসবই সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত।
দুনিয়ার আনন্দে আত্মভোলা নয়
যে ব্যক্তির আমলনামা পেছন দিক থেকে দেওয়া হবে, তার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হয়েছে—
“সে তো তার পরিবার-পরিজনে আনন্দিত ছিল। সে ধারণা করেছিল যে, সে কখনো ফিরে যাবে না।”
এখানে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ করা নিজে কোনো অপরাধ নয়। ইসলাম পরিবারকে ভালোবাসতে, দায়িত্ব পালন করতে এবং বৈধ আনন্দ উপভোগ করতে নিষেধ করেনি। সমস্যা হলো—যখন মানুষ দুনিয়ার আনন্দে এমনভাবে ডুবে যায় যে আল্লাহ, মৃত্যু ও আখিরাতকে ভুলে যায়।
দুনিয়া উপভোগ করা যাবে, কিন্তু দুনিয়াকে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বানানো যাবে না। সম্পদ থাকবে হাতে, হৃদয়ে নয়; পরিবার থাকবে ভালোবাসার কেন্দ্র, কিন্তু আল্লাহর আনুগত্যের বিকল্প নয়।
আল্লাহ সবকিছু দেখেন
সূরার একটি গভীর শিক্ষা হলো—
“হ্যাঁ, অবশ্যই! তার রব তাকে সম্যক্ দেখছিলেন।”
এই উপলব্ধি একজন মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে।
আমি একা নই—আল্লাহ আমাকে দেখছেন।
আমি গোপনে যা করছি—আল্লাহ তা জানেন।
আমি মানুষের কাছ থেকে যা লুকাচ্ছি—আল্লাহর কাছ থেকে তা লুকাতে পারছি না।
আমার প্রতিটি কাজের হিসাব একদিন দিতে হবে।
এই বিশ্বাস মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে রাখে, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
রাত-দিনের পরিবর্তন ও আল্লাহর নিদর্শন
সূরার ১৬ থেকে ১৯ নম্বর আয়াতে সন্ধ্যার লাল আভা, রাত এবং পূর্ণ চাঁদের প্রতি শপথ করে বলা হয়েছে—
“তোমরা অবশ্যই স্তরে স্তরে উন্নীত হবে।”
মানুষের জীবনও যেন এক স্তর থেকে আরেক স্তরে অগ্রসর হওয়ার ধারাবাহিকতা। শৈশব, কৈশোর, যৌবন, বার্ধক্য—তারপর মৃত্যু। এরপর কবরের জীবন, পুনরুত্থান, হাশর, হিসাব-নিকাশ এবং চূড়ান্ত পরিণতি।
অতএব, মানুষের জীবনকে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রতিটি পর্যায় তাকে তার চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
কেন মানুষ ঈমান আনে না?
সূরায় প্রশ্ন করা হয়েছে—
“অতএব তাদের কী হলো যে, তারা ঈমান আনে না?”
মানুষের সামনে আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে। আকাশ, পৃথিবী, সূর্য, চন্দ্র, রাত-দিনের পরিবর্তন, মানুষের নিজের সৃষ্টি—সবই মহান স্রষ্টার কুদরতের পরিচয় বহন করে।
তারপরও মানুষ কখনো অহংকার, কখনো প্রবৃত্তির অনুসরণ, কখনো দুনিয়ার মোহ এবং কখনো অবহেলার কারণে ঈমানের সত্য থেকে দূরে সরে যায়।
একজন মুমিনের উচিত কুরআনের বাণী মনোযোগ দিয়ে শোনা, চিন্তা করা এবং জীবনে বাস্তবায়ন করা।
কুরআন শুনে বিনয়ী হওয়া
আল্লাহ বলেন—
“আর যখন তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন তারা সিজদা করে না?”
কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়; এটি হিদায়াতের কিতাব। একজন মুমিন কুরআন পড়বে, শুনবে, বুঝবে এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করবে।
সিজদা মুমিনের বিনয়ের প্রতীক। আল্লাহর সামনে মাথা নত করা মানে নিজের অহংকারকে পরিত্যাগ করে রবের আনুগত্য গ্রহণ করা।
তাই কুরআনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হওয়া উচিত শুধু অনুষ্ঠানভিত্তিক নয়; বরং জীবনভিত্তিক।
গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু আল্লাহ জানেন
সূরায় বলা হয়েছে—
“তারা যা গোপন করে আল্লাহ সে সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন।”
মানুষের জীবনে গোপন ও প্রকাশ্য—দুই ধরনের কাজই রয়েছে। কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই আড়াল করা সম্ভব নয়।
এই বিশ্বাস আমাদের আমলকে বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। মানুষ না দেখলেও আল্লাহ দেখেন—এই অনুভূতি একজন মুমিনকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে।
তাই লোক দেখানো ইবাদত নয়; প্রয়োজন ইখলাস। মানুষের প্রশংসা নয়; প্রয়োজন আল্লাহর সন্তুষ্টি।
ঈমান ও সৎকর্মের অফুরন্ত পুরস্কার
সূরার শেষ আয়াতটি আশার আলোয় ভরা—
“তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।”
এটাই মুমিনের চূড়ান্ত আশার জায়গা।
দুনিয়ার জীবনে একজন সৎ মানুষ অনেক সময় কষ্ট পেতে পারে, অবহেলিত হতে পারে, তার ন্যায্য অধিকার পেতে দেরি হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর কাছে কোনো সৎকর্ম হারিয়ে যায় না।
মানুষের চোখে কোনো কাজ ছোট হতে পারে; কিন্তু আল্লাহর কাছে তা মূল্যবান হতে পারে। একটি সত্য কথা, একটি ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত, একজন অসহায় মানুষের সহযোগিতা, পিতা-মাতার খেদমত, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, গোপনে করা কোনো নেক আমল—সবই আল্লাহর জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে।
তাই মুমিন কখনো সৎকর্মকে বৃথা মনে করে না।
সূরা আল-ইনশিকাকের শিক্ষায় আমাদের করণীয়
সূরাটি শুধু কিয়ামতের ভয়াবহতা বর্ণনা করে না; বরং আমাদের জীবন সংশোধনের পথও দেখায়। এর আলোকে আমাদের কয়েকটি বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন—
প্রথমত—ঈমানকে দৃঢ় করতে হবে।
তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত ও ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলো যথাযথভাবে ধারণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত—নামাজ ও ফরজ ইবাদত প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ইবাদতকে জীবনের বোঝা নয়, আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তৃতীয়ত—সৎকর্ম বৃদ্ধি করতে হবে।
ভালো কাজ যত ছোটই হোক, তা অবহেলা করা যাবে না।
চতুর্থত—গুনাহ থেকে বাঁচতে হবে।
গোপন গুনাহকেও ভয় করতে হবে, কারণ আল্লাহ সবকিছু দেখেন।
পঞ্চমত—তাওবা করতে হবে।
মানুষ ভুল করতেই পারে; কিন্তু ভুলের পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
ষষ্ঠত—অহংকার পরিহার করতে হবে।
মানুষের মর্যাদা সম্পদ, পদ বা ক্ষমতায় নয়; বরং ঈমান, তাকওয়া ও সৎচরিত্রে।
সপ্তমত—কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে হবে।
কুরআন শুধু পাঠের বিষয় নয়; এটি জীবন পরিচালনার নির্দেশনা।
অষ্টমত—মানুষের হক আদায় করতে হবে।
অন্যের সম্পদ, সম্মান, অধিকার ও আমানতের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
পরিবার ও সমাজজীবনে সূরাটির শিক্ষা
সূরা আল-ইনশিকাকের শিক্ষা ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজজীবনেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অধিকার রক্ষা করবে, সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলবে, পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করবে, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখবে এবং প্রতিবেশীর অধিকার আদায় করবে।
কারও সঙ্গে কথা বলার আগে ভাবতে হবে—আমার কথায় কি তার হৃদয় ভেঙে যাবে? আমার আচরণে কি কোনো সম্পর্ক নষ্ট হবে? আমি কি কারও হক নষ্ট করছি?
কারণ কিয়ামতের দিন শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের বিষয় নয়, মানুষের অধিকার সম্পর্কেও জবাবদিহির বিষয় রয়েছে।
দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য
ইসলাম দুনিয়ার জীবনকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে বলেনি। বরং বৈধ উপায়ে উপার্জন, পরিবার পরিচালনা, শিক্ষা, কর্ম, সমাজসেবা—সবই নেক নিয়তে ইবাদতে পরিণত হতে পারে।
কিন্তু দুনিয়ার প্রয়োজন যেন আখিরাতের লক্ষ্যকে ভুলিয়ে না দেয়।
আমাদের হাতে সময় সীমিত, অথচ দায়িত্ব অনেক। তাই সময়কে মূল্য দিতে হবে। যে সময় চলে যায়, তা আর ফিরে আসে না। আজকের সুযোগ আগামীকাল নাও থাকতে পারে।
তাই নামাজ আজই, তাওবা আজই, ভালো কাজ আজই, মানুষের হক আদায় আজই—কারণ মৃত্যু কখন এসে দাঁড়াবে, তা কেউ জানে না।
উপসংহার
সূরা আল-ইনশিকাক মানুষের সামনে জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবতা তুলে ধরে—আকাশ বিদীর্ণ হবে, পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা পরিবর্তিত হবে, মানুষ তার রবের দিকে অগ্রসর হবে, আমলনামা হাতে পাবে এবং প্রত্যেককে তার কর্মের পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
যারা ঈমান ও সৎকর্ম নিয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার। আর যারা সত্যকে অস্বীকার করে, গুনাহ ও অবাধ্যতায় জীবন কাটিয়ে দেবে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন পরিণতি।
অতএব, বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের আগেই নিজের হিসাব নেয়; মৃত্যুর আগেই আখিরাতের প্রস্তুতি নেয়; গুনাহের পর তাওবা করে; মানুষের হক আদায় করে; কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানায়।
জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাত চিরস্থায়ী।
দুনিয়ার পথ সীমিত, কিন্তু আখিরাতের গন্তব্য অনন্ত।
আজ আমাদের হাতে আমলের সুযোগ আছে; কাল থাকবে শুধু হিসাবের অপেক্ষা।
তাই আসুন, আমরা ঈমানকে দৃঢ় করি, তাকওয়া অর্জন করি, সৎকর্মে জীবন সাজাই, গুনাহ থেকে ফিরে আসি এবং কুরআন-সুন্নাহর সরল পথে চলি।
হে আল্লাহ! আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করো, আমলনামা ডান হাতে পাওয়ার তাওফিক দাও, হিসাব সহজ করে দাও, গুনাহ ক্ষমা করো এবং তোমার সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের তাওফিক দাও। আমিন।
৪
৪ মন্তব্য