সিনিয়র শিক্ষক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৫৪ অপরাহ্ণ
ফিরে দেখা সেই স্কুলজীবন
ফিরে দেখা সেই স্কুলজীবন
স্কুলজীবন—জীবনের এমন একটি অধ্যায়, যার স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না। সময়ের স্রোতে আমরা হয়তো ছড়িয়ে পড়েছি দেশের নানা প্রান্তে, কেউ চাকরিতে, কেউ ব্যবসায়, কেউবা সংসার ও জীবনের নানা ব্যস্ততায়। কিন্তু মনের গভীরে আজও বেঁচে আছে সেই স্কুলের মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, টিফিনের সময় আর প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত।
একসময় যে বন্ধুর সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হতো, একই বেঞ্চে বসে গল্প করতাম, একসঙ্গে টিফিন ভাগ করে খেতাম—আজ তার সঙ্গে দেখা হয়তো বছরের পর বছর পর। তবুও দেখা হলে মনে হয়, সময় যেন থেমে গেছে। বয়স বেড়েছে, চেহারায় পরিবর্তন এসেছে, জীবনে এসেছে নানা দায়িত্ব; কিন্তু বন্ধুত্বের সেই নির্মল অনুভূতিটা যেন একই রয়ে গেছে।
স্কুলের পুনর্মিলন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি আমাদের শিকড়ে ফিরে যাওয়ার একটি সুযোগ। পুরোনো বন্ধুদের একসঙ্গে পাওয়া, হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলোকে আবার জীবন্ত করা, প্রিয় শিক্ষকদের স্মরণ করা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পুরোনো দিনের গল্প ভাগ করে নেওয়ার এক অপূর্ব আয়োজন।
পুনর্মিলনের দিনে যখন সবাই এক জায়গায় মিলিত হয়, তখন হাসি-আনন্দের মাঝে ফিরে আসে শৈশব ও কৈশোরের সেই দিনগুলো। কেউ পুরোনো ছবি বের করে, কেউ স্মৃতির গল্প বলে, কেউ আবার সেই পুরোনো দুষ্টুমির কথা মনে করিয়ে দিয়ে সবাইকে হাসায়।
জীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেক কিছুই ভুলে যাই। কিন্তু স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলো কখনো ভোলা যায় না। কারণ সেই বন্ধুত্বে ছিল কোনো স্বার্থের হিসাব নেই, ছিল না পাওয়ার প্রত্যাশা—ছিল শুধু আন্তরিকতা, ভালোবাসা আর একসঙ্গে বেড়ে ওঠার আনন্দ।
আবার দেখা হোক পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে।
আবার জমুক সেই প্রাণখোলা আড্ডা।
আবার ফিরে আসুক স্কুলজীবনের সেই নির্মল হাসি।
পুনর্মিলনের এই আয়োজন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
বন্ধুত্বের বয়স হয় না, দূরত্ব বন্ধুত্বকে শেষ করতে পারে না, আর সত্যিকারের স্কুলস্মৃতি কখনো হারিয়ে যায় না।
আজ আমরা সবাই জীবনের নানা পরিচয়ে পরিচিত। কিন্তু এক জায়গায় এসে আমাদের পরিচয় একটাই—
আমরা সেই স্কুলের বন্ধু, সেই স্কুলের সন্তান।
হয়তো সময় আমাদের অনেক দূরে
১৪
২৪ মন্তব্য