Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৫৫ অপরাহ্ণ

বিগ ব্যাং-এর পর ঠিক কী ঘটেছিল?


সেই সময়ের কোনও ছবি আমাদের হাতে নেই। কিন্তু মহাবিশ্ব জুড়ে রয়ে গেছে এক রাসায়নিক ছাপ, হিলিয়াম। এই হিলিয়ামই বলে দিতে পারে, জন্মের প্রথম কয়েক মিনিটে মহাবিশ্ব কেমন ছিল।

সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথম পাঁচ মিনিটে তৈরি হিলিয়ামের পরিমাণ মাপতে গিয়ে বড়সড় সাফল্য পেয়েছেন। তারা এখন বলতে পারছেন অনিশ্চয়তা মাত্র ০.৫ শতাংশ; অর্থাৎ, আগের চেয়ে প্রায় তিন গুণ কম।


হিলিয়াম কেন ‘ফসিল রেকর্ড’?

বিগ ব্যাং-এর পর মহাবিশ্ব ঠান্ডা হতে শুরু করলে হাইড্রোজেনের সঙ্গে দ্রুত হিলিয়ামও তৈরি হয়। আজ মহাবিশ্বে যত হিলিয়াম আছে, তার প্রায় ৯০% এসেছে সেই আদিম যুগ থেকেই। বাকিটা তৈরি হয়েছে নক্ষত্রের ভেতরে। তাই আদিম হিলিয়ামের হিসাব আসলে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্বের এক অমূল্য ফসিল।


আজকের গ্যালাক্সির গ্যাস সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে। তাই বিজ্ঞানীরা বেছে নিয়েছেন ১৫টি ছোট, দূরবর্তী ও কম বিবর্তিত গ্যালাক্সি। যারা রাসায়নিকভাবে এখনও মহাবিশ্বের শৈশবের মতোই আছে।

তারা ব্যবহার করেছেন অ্যারিজোনার লার্জ বাইনোকুলার টেলিস্কোপের প্রায় ১৩০ ঘণ্টার ডেটা। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির বিশেষ স্পেকট্রোগ্রাফ দিয়ে হিলিয়ামের ১০টির বেশি ও হাইড্রোজেনের ১৫টি বর্ণালি রেখা একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাপমাত্রা ও ঘনত্বজনিত নানা পদ্ধতিগত ত্রুটি শনাক্ত করে সেগুলোর প্রভাব যতটা সম্ভব কমানো হয়েছে।


 কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ?

আদিম হিলিয়ামের সূক্ষ্ম হিসাব নিউট্রিনোর ভূমিকা বুঝতে সাহায্য করে। নতুন এই ফল কণা পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের পূর্বাভাসের সঙ্গে ভালোমতোই মিলে যায়। আর দূরের আদিম গ্যালাক্সির আলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা যেন মহাবিশ্বের শৈশবের ইতিহাস খুঁড়ে দেখছেন।


এই গবেষণা বিগ ব্যাং তত্ত্বকে বদলে দিচ্ছে না; বরং বহু দশকের পুরনো ধারণাকে আরও কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে  যাচাই করছে। বিজ্ঞান এভাবেই ধাপে ধাপে আরও নিখুঁত সত্যের দিকে এগোয়। এই আবিষ্কার তারই চমৎকার উদাহরণ।


মন্তব্য করুন