সহকারী শিক্ষক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
আজকের সোনার দাম বাংলাদেশ ২০২৬ (Gold Price in Bangladesh Today)
সোনা কিনতে দোকানে ঢোকার আগে বেশিরভাগ মানুষের মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘোরে— আজকে সোনার ভরি কত? দামটা বদলায় প্রায় প্রতিদিন, কখনো এক সপ্তাহে দুই-তিনবারও। শুধু একটা সংখ্যা জেনে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; ২২, ২১, ১৮ ক্যারেটের আলাদা আলাদা দাম, ভরি-আনা-রতি-গ্রামের হিসাব, বাজুস কীভাবে দাম ঠিক করে, ভ্যাট-মজুরি কীভাবে যোগ হয়— এসব না জানলে দোকানে গিয়ে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই লেখায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন তথা বাজুস (BAJUS) নির্ধারিত সর্বশেষ গোল্ড রেট থেকে শুরু করে সোনা কেনা-বেচার প্রতিটা খুঁটিনাটি বিষয় এক জায়গায় গুছিয়ে দেওয়া হলো।
আজকের সোনার দাম বাংলাদেশ: এক নজরে বাজুস রেট
বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর দাম আজও (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দেশের বাজারে চলছে। নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই রেটেই সোনা বিক্রি হবে।
ক্যারেট / ধরন | প্রতি গ্রাম | প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) | বিশুদ্ধতা |
২২ ক্যারেট (হলমার্ক ৯১৬) | ২০,১১৫ টাকা | ২,৩৪,৬২১ টাকা | ৯১.৬৭% |
২১ ক্যারেট | ১৯,২১০ টাকা | ২,২৪,০৬৫ টাকা | ৮৭.৫০% |
১৮ ক্যারেট | ১৬,৪৯৫ টাকা | ১,৯২,৩৯৮ টাকা | ৭৫.০০% |
সনাতন পদ্ধতি (Traditional) | ১৩,৪৭৫ টাকা | ১,৫৭,১৭২ টাকা | নির্দিষ্ট মান নেই |
মনে রাখবেন, উপরের দামগুলো বাজুসের ঘোষিত মূল্য। গহনা কেনার সময় এর সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬% মজুরি (মেকিং চার্জ) যোগ হবে। অর্থাৎ দোকানের চূড়ান্ত বিল এই টেবিলের দামের চেয়ে বেশি হবে— নিচে হিসাবসহ দেখানো হলো।
সর্বশেষ দাম কবে বাড়ল: ১২ সেপ্টেম্বর বনাম ১৯ সেপ্টেম্বর
স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজুস ১৯ সেপ্টেম্বর দাম সমন্বয় করে। এক নজরে দেখুন আগের আর নতুন রেটের পার্থক্য:
ক্যারেট | ১২ সেপ্টেম্বরের দাম (প্রতি ভরি) | ১৯ সেপ্টেম্বরের দাম (প্রতি ভরি) | বাড়ল |
২২ ক্যারেট | ২,৩২,৯৩০ টাকা | ২,৩৪,৬২১ টাকা | ১,৬৯১ টাকা |
২১ ক্যারেট | ২,২২,৪৯১ টাকা | ২,২৪,০৬৫ টাকা | ১,৫৭৪ টাকা |
১৮ ক্যারেট | ১,৯১,০৫৬ টাকা | ১,৯২,৩৯৮ টাকা | ১,৩৪২ টাকা |
সনাতন পদ্ধতি | ১,৫৬,০৬৪ টাকা | ১,৫৭,১৭২ টাকা | ১,১০৮ টাকা |
দুই দফা মিলিয়ে সেপ্টেম্বরেই ২২ ক্যারেট সোনার ভরিতে মোট ২,৭৪১ টাকা বেড়েছে। এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর ভরিতে ১,০৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
২২ ক্যারেট সোনার দাম আজ (আজকের স্বর্ণের দাম ২২ ক্যারেট)
বাংলাদেশে গহনার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ক্যারেট হলো ২২ ক্যারেট, যার হলমার্ক কোড ৯১৬ এবং বিশুদ্ধতা ৯১.৬৭%। আজকের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২,৩৪,৬২১ টাকা এবং প্রতি গ্রাম ২০,১১৫ টাকা।
এই হিসাবে ছোট এককের দাম:
· ১ আনা ২২ ক্যারেট সোনার দাম = ২,৩৪,৬২১ ÷ ১৬ = প্রায় ১৪,৬৬৪ টাকা
· ১ রতি ২২ ক্যারেট সোনার দাম = ২,৩৪,৬২১ ÷ ৯৬ = প্রায় ২,৪৪৪ টাকা
বিয়ে বা উপহারের গহনা কিনতে চাইলে ২২ ক্যারেট হলমার্ক সোনাই সবচেয়ে নিরাপদ পছন্দ, কারণ পরে বিক্রি বা এক্সচেঞ্জ করার সময়ও এই ক্যারেটে দাম ভালো পাওয়া যায়।
২১ ক্যারেট সোনার দাম আজ (২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত)
২১ ক্যারেট সোনার বিশুদ্ধতা ৮৭.৫০%, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের চেয়ে একটু কম খাঁটি কিন্তু গঠনে তুলনামূলক মজবুত। আজকে ২১ ক্যারেট সোনার ভরি প্রতি দাম ২,২৪,০৬৫ টাকা এবং প্রতি গ্রাম ১৯,২১০ টাকা। ১ আনার দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৪,০০৪ টাকা।
ভারী নকশার বা প্রতিদিন পরার গহনায় অনেকে ইচ্ছে করেই ২১ ক্যারেট বেছে নেন, কারণ এতে গহনা সহজে বেঁকে বা ক্ষয়ে যায় না। দামেও ভরি প্রতি প্রায় দশ হাজার টাকা কম পড়ে ২২ ক্যারেটের তুলনায়।
১৮ ক্যারেট সোনার দাম আজ (১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম)
১৮ ক্যারেট সোনার বিশুদ্ধতা ৭৫%, বাকিটা তামা বা অন্য ধাতুর মিশ্রণ। আজকের ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ১,৯২,৩৯৮ টাকা এবং প্রতি গ্রাম ১৬,৪৯৫ টাকা। ১ আনার দাম প্রায় ১২,০২৫ টাকা।
দাম তুলনামূলক কম আর টেকসই বেশি হওয়ায় ডায়মন্ড সেটিং বা হালকা ডেইলি-ওয়্যার গহনায় ১৮ ক্যারেট সোনা বেশি ব্যবহার হয়। বাজেট কম থাকলে অথচ নিয়মিত পরার গহনা চাইলে এটাই বুদ্ধিমানের পছন্দ।
২৪ ক্যারেট সোনার দাম কত (২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বাংলাদেশ)
অনেকেই খোঁজেন ২৪ ক্যারেট সোনার দাম কত। আসলে ২৪ ক্যারেট মানে ৯৯.৯৯% বিশুদ্ধ সোনা, যা এতটাই নরম যে গহনা তৈরির উপযোগী নয়— তাই বাজুস গহনার জন্য আলাদা কোনো ২৪ ক্যারেট রেট ঘোষণা করে না। বাজারে একে বলা হয় তেজাবি সোনা বা বার/কয়েনের সোনা, যার দাম মূলত আন্তর্জাতিক বুলিয়ন মার্কেটের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। মজার ব্যাপার হলো, এই তেজাবি সোনার দামের ওঠানামা দেখেই বাজুস ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের রেট নির্ধারণ করে।
সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম আজ
সনাতন পদ্ধতির সোনার কোনো নির্দিষ্ট বিশুদ্ধতার মান নেই, তাই এর দামও সবচেয়ে কম— আজকে প্রতি ভরি ১,৫৭,১৭২ টাকা এবং প্রতি গ্রাম ১৩,৪৭৫ টাকা। সাধারণত পুরনো নকশার বা দেশীয় কারিগরের হাতে তৈরি গহনায় এই মানের সোনা ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে মনে রাখবেন, নির্দিষ্ট মান না থাকায় পরে বিক্রির সময় এর দাম নিয়ে দর-কষাকষি হতে পারে।
বাজুস আজকের রুপার দাম (Silver Price in Bangladesh)
সোনার পাশাপাশি বাজুস রূপার দামও নিয়মিত ঘোষণা করে। ১৯ সেপ্টেম্বরের সমন্বয়ে রুপার দামও বেড়েছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী:
ক্যারেট / ধরন | প্রতি গ্রাম | প্রতি ভরি |
২২ ক্যারেট রূপা | ৪৪০ টাকা | ৫,১৩২ টাকা |
২১ ক্যারেট রূপা | ৪২৫ টাকা | ৪,৯৫৭ টাকা |
১৮ ক্যারেট রূপা | ৩৬৫ টাকা | ৪,২৫৭ টাকা |
সনাতন রূপা | ২৭৫ টাকা | ৩,২০৮ টাকা |
১ ভরি সোনার দাম কত – ভরি টু গ্রাম কনভার্সন (1 Vori to Gram)
বাংলাদেশে সোনা মাপার সবচেয়ে প্রচলিত একক ভরি (তোলা নামেও পরিচিত)। ১ ভরি সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম, ১৬ আনা এবং ৯৬ রতি। এই হিসাবই বাংলাদেশের সব জুয়েলারি দোকানে সোনা বেচাকেনার সময় ব্যবহার হয়।
একক | সমতুল্য | গ্রামে মান |
১ ভরি (তোলা) | ১৬ আনা = ৯৬ রতি | ১১.৬৬৪ গ্রাম |
১ আনা | ৬ রতি | ০.৭২৯ গ্রাম (প্রায়) |
১ রতি | — | ০.১২১৫ গ্রাম (প্রায়) |
১ আউন্স (Troy Ounce) | প্রায় ২.৪০ ভরি | ৩১.১০৩৫ গ্রাম |
গ্রাম থেকে ভরি বের করার নিয়ম
উল্টোভাবে গ্রাম থেকে ভরি বের করতে চাইলে মোট গ্রামকে ১১.৬৬৪ দিয়ে ভাগ করতে হবে। যেমন কারো কাছে ৫০ গ্রাম সোনা থাকলে তা হবে ৫০ ÷ ১১.৬৬৪ = প্রায় ৪.২৯ ভরি। আর দাম বের করতে হলে সেই ভরির সংখ্যাকে দিনের ভরি প্রতি রেট দিয়ে গুণ করলেই চলবে।
১ আনা ও ২ আনা সোনার দাম (1 Ana, 2 Ana Gold Price)
ভরি প্রতি দামকে ১৬ দিয়ে ভাগ করলেই ১ আনার দাম পাওয়া যায়। আজকের ২২ ক্যারেট রেট অনুযায়ী:
· ১ আনা সোনার দাম = ২,৩৪,৬২১ ÷ ১৬ = প্রায় ১৪,৬৬৪ টাকা
· ২ আনা সোনার দাম = প্রায় ২৯,৩২৮ টাকা
· ৪ আনা সোনার দাম = প্রায় ৫৮,৬৫৫ টাকা
এই একই সূত্র ২১ ও ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য— শুধু সেই ক্যারেটের ভরি প্রতি দামটা ১৬ দিয়ে ভাগ করলেই হবে।
১ রতি সোনার দাম কত
১ ভরিতে ৯৬ রতি থাকে, তাই ভরি প্রতি দামকে ৯৬ দিয়ে ভাগ করলেই ১ রতির দাম বের করা যায়। আজকের ২২ ক্যারেট রেটে ১ রতি সোনার দাম দাঁড়ায় ২,৩৪,৬২১ ÷ ৯৬ = প্রায় ২,৪৪৪ টাকা। ছোট আংটি বা নাকফুলের মতো হালকা গহনার দাম হিসাব করতে এই এককটা কাজে লাগে।
১ আউন্স সোনার দাম ও আন্তর্জাতিক বাজারের সম্পর্ক (Ounce to Vori)
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সাধারণত ট্রয় আউন্স এককে দেখানো হয়। ১ আউন্স সমান প্রায় ৩১.১০৩৫ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় ২.৪০ ভরির সমান। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে যখন সোনার দাম ডলারে বাড়ে বা কমে, সেই প্রভাব হিসাব করেই বাজুস দেশের বাজারে ভরি প্রতি রেট ঠিক করে।
নিজে যেভাবে সোনার দাম হিসাব করবেন
দোকানে যাওয়ার আগে নিজে নিজেই সোনার দাম হিসাব করতে চাইলে নিচের সহজ সূত্রটা ব্যবহার করুন:
· মোট দাম = (গহনার ওজন গ্রামে ÷ ১১.৬৬৪) × সেই দিনের ভরি প্রতি রেট
· অথবা সরাসরি: মোট দাম = গহনার ওজন (গ্রামে) × গ্রাম প্রতি রেট
যেমন ১০ গ্রাম ওজনের ২২ ক্যারেট গহনার সোনার দাম হবে ১০ × ২০,১১৫ = ২,০১,১৫০ টাকা। এরপর এর সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি যোগ হয়ে চূড়ান্ত বিল তৈরি হবে।
ঘোষিত দামের সঙ্গে আর কী কী যোগ হয়— ভ্যাট ও মজুরি
এই অংশটা অনেকেই ভুল বোঝেন, তাই পরিষ্কার করে বলা দরকার। বাজুসের ঘোষিত রেটের সঙ্গে ক্রেতাকে আরও দুটো খরচ দিতে হয়:
· ভ্যাট ৫%: বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সোনার দামের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫% মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যোগ করতে হবে। অর্থাৎ ঘোষিত দামে ভ্যাট আগে থেকে ধরা থাকে না।
· মজুরি ন্যূনতম ৬%: গহনার নকশা ও কারুকাজের উপর নির্ভর করে মেকিং চার্জ নির্ধারিত হয়। বাজুসের নির্ধারিত সর্বনিম্ন হার ৬%, তবে জটিল ডিজাইনে এটা ১৫-২০% পর্যন্তও হতে পারে।
· পাথর বা কুন্দন: পাথর বসানো থাকলে তার দাম আলাদাভাবে হিসাব হয়, সোনার দামের সাথে মেশানো হয় না।
উদাহরণ: ১ ভরি ২২ ক্যারেট গহনার চূড়ান্ত বিল
· সোনার দাম (ঘোষিত রেট): ২,৩৪,৬২১ টাকা
· ভ্যাট ৫%: ১১,৭৩১ টাকা
· মজুরি ৬%: ১৪,০৭৭ টাকা
· মোট (আনুমানিক): ২,৬০,৪২৯ টাকা
দেখতেই পাচ্ছেন, ঘোষিত দামের চেয়ে বিল প্রায় ২৬ হাজার টাকা বেশি হচ্ছে। তাই দোকানে গিয়ে শুধু "ভরি কত" জেনে খুশি হবেন না— মজুরির হারটাও আগে জেনে নিন, কারণ সোনার রেট সব দোকানে এক হলেও মজুরির হারে মোট বিল ভিন্ন হতে পারে।
বাজুস কী এবং কীভাবে সোনার দাম ঠিক করে
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন, সংক্ষেপে বাজুস (BAJUS), হলো দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কেন্দ্রীয় সংগঠন। সারা দেশে জুয়েলারি দোকান কোন দামে সোনা বিক্রি করবে, সেই দাম আসলে বাজুসই নির্ধারণ করে দেয়। বাজুস নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম বা বেশি দামে গহনা বিক্রি করা নিয়মবিরুদ্ধ— ব্যত্যয় ঘটলে জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে।
বাজুসের প্রাইসিং কমিটি নিয়মিত বৈঠকে বসে মূলত তিনটা বিষয় দেখে দাম নির্ধারণ করে:
· আন্তর্জাতিক বুলিয়ন মার্কেটে খাঁটি সোনার দামের ওঠানামা
· ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার
· দেশের ভেতরে তেজাবি সোনা ও রূপার চাহিদা-জোগানের অবস্থা
নতুন দাম ঠিক হওয়ার পর বাজুস নোটিশ জারি করে জানিয়ে দেয়, সাধারণত সেদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়ে যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী বছরে বহুবার দাম সমন্বয় করা হয়— ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্তই ৬৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৪৫ বার দাম বাড়ানো হয় আর ১৮ বার কমানো হয়।
কোন ক্যারেটের সোনা কিনবেন: ২২, ২১ না ১৮
· ২২ ক্যারেট (হলমার্ক ৯১৬): ৯১.৬৭% খাঁটি সোনা। বাংলাদেশে গহনার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। বিয়ে, উপহার বা বিনিয়োগ— সব কাজেই নিরাপদ।
· ২১ ক্যারেট: বিশুদ্ধতা প্রায় ৮৭.৫%। তুলনামূলক মজবুত, ভারী কাজের বা প্রতিদিন পরার গহনায় বেশি ব্যবহার হয়।
· ১৮ ক্যারেট: বিশুদ্ধতা ৭৫%। দাম কম, টেকসই বেশি— ডায়মন্ড সেটিং বা হালকা গহনায় জনপ্রিয়।
· সনাতন পদ্ধতির সোনা: নির্দিষ্ট বিশুদ্ধতার মান নেই, দামও সবচেয়ে কম। পুরনো নকশার গহনায় ব্যবহার হয়।
বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কিনলে ২২ ক্যারেটের সাদামাটা বার বা কয়েন বেছে নিন— মজুরি বাবদ খরচ কম হবে, পরে বিক্রিও সহজ।
সোনার দাম ওঠানামার কারণ
· আন্তর্জাতিক বুলিয়ন মার্কেটে সোনার দাম বাড়লে বা কমলে দেশের বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।
· ডলারের বিপরীতে টাকার মান দুর্বল হলে আমদানি খরচ বেড়ে যায়, ফলে দেশীয় বাজারে দামও বাড়ে।
· বিশ্বে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অর্থনৈতিক মন্দার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা কিনতে ঝুঁকে পড়েন, তাতে দামও বাড়ে।
· বিশ্ব পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ও ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার দাম কমতির দিকে থাকে।
যারা বিনিয়োগ হিসেবে সোনা কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই ওঠানামার ধরনটা বোঝা জরুরি।
আসল সোনা চেনার উপায় ও হলমার্ক
বাংলাদেশে এখন সরকার অনুমোদিত হলমার্কিং ব্যবস্থা চালু আছে, যা গহনার গায়ে ছোট্ট করে খোদাই করা থাকে। হলমার্ক থাকা মানেই ক্যারেট অনুযায়ী বিশুদ্ধতা যাচাই করা হয়েছে।
· গহনার গায়ে ৯১৬, ৮৭৫ বা ৭৫০— এই সংখ্যাগুলো খুঁজুন, যা যথাক্রমে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের হলমার্ক কোড।
· সিটি গোল্ড বা মেশানো ধাতুর নকল সোনা সাধারণত রঙে একটু বেশি চকচকে বা হালকা হলদেটে হয়, আসল সোনার মতো ভারী অনুভূত হয় না— সন্দেহ হলে অ্যাসিড টেস্ট বা ম্যাগনেট টেস্ট করিয়ে নিন।
· বিশ্বস্ত দোকান থেকে কেনার সময় সবসময় রসিদ ও হলমার্ক সনদ নিয়ে রাখুন, পরে বিক্রি বা এক্সচেঞ্জের সময় এটাই প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
· সন্দেহ হলে যেকোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত জুয়েলারি ল্যাবে সোনা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া যায়।
পুরাতন সোনা বিক্রি ও এক্সচেঞ্জের নিয়ম
পুরনো গহনা বদলে নতুন গহনা নিতে চাইলে বা সরাসরি বিক্রি করতে চাইলে বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী ওজন বা মূল্য থেকে নির্দিষ্ট হারে বাদ দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে এই হার সংশোধন করা হয়; সর্বশেষ জানা নিয়ম অনুযায়ী এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে প্রায় ১০% এবং সরাসরি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রায় ১৫% বাদ যায়। তবে এই হার সময়ে সময়ে বদলায়, তাই লেনদেনের আগে দোকান থেকে লিখিত হিসাব নিয়ে নিন।
আরও কিছু জরুরি নিয়ম:
· পুরনো সোনা বিক্রির সময় দোকানকে অবশ্যই ক্রয় রসিদ দিতে হবে, আর বিক্রেতার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য রসিদে উল্লেখ থাকতে হবে।
· অর্ডার দিয়ে গহনা বানালে যেদিন অর্ডার বা বুকিং দেবেন, সেদিনের বাজারমূল্যই কার্যকর হবে— পরে দাম বাড়লেও আগের রেটেই পাবেন।
· বাজুস নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম বা বেশি দামে গহনা বিক্রি করা নিষেধ।
সোনা কেনার আগে যা মাথায় রাখা দরকার
· কেনার দিন সকালে অবশ্যই বাজুসের হালনাগাদ রেট যাচাই করুন, কারণ দুপুরের মধ্যেও দাম বদলে যেতে পারে। বাজুসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (bajus.org) বা কাছাকাছি কোনো জুয়েলারি দোকান থেকে দিনের সর্বশেষ রেট জেনে নিন।
· একাধিক দোকানে মজুরির হার তুলনা করুন, সোনার রেট এক হলেও মোট বিল ভিন্ন হতে পারে।
· বিনিয়োগের জন্য কিনলে জটিল ডিজাইন এড়িয়ে সাদামাটা কয়েন বা বার বেছে নিন, মজুরি বাবদ খরচ কম হবে।
· রসিদ ছাড়া কখনোই সোনা কিনবেন না, পরবর্তীতে বিক্রি বা এক্সচেঞ্জের সময় এটাই মূল ভরসা।
· বড় অঙ্কের কেনাকাটার আগে গত কয়েক সপ্তাহের দামের প্রবণতা একটু দেখে নিন— টানা কয়েকদিন দাম কমতে থাকলে অপেক্ষা করাটাও লাভজনক হতে পারে।
· সোনার অলংকার কেনার সময় "ভ্যাট ছাড়" বা "মজুরি ছাড়" ধরনের প্রলোভনমূলক অফারে কান দেবেন না— এ ধরনের ছাড় দেওয়া বাজুসের নিয়মে নিষেধ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১ ভরি সোনা কত গ্রাম?
১ ভরি সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম। এক ভরিকে আবার ১৬ আনা বা ৯৬ রতিতেও ভাগ করা হয়।
আজকে ২২ ক্যারেট সোনার ভরি কত?
বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণা (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনুযায়ী ২২ ক্যারেট হলমার্ক সোনার ভরি প্রতি দাম ২,৩৪,৬২১ টাকা। তবে এই দাম প্রায় প্রতিদিনই সামান্য বদলাতে পারে।
২১ ক্যারেট সোনার দাম কত?
আজকের ২১ ক্যারেট সোনার ভরি প্রতি দাম ২,২৪,০৬৫ টাকা, প্রতি গ্রাম ১৯,২১০ টাকা।
১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত?
আজকের ১৮ ক্যারেট সোনার ভরি প্রতি দাম ১,৯২,৩৯৮ টাকা, প্রতি গ্রাম ১৬,৪৯৫ টাকা।
২৪ ক্যারেট সোনা কি বাংলাদেশে গহনার জন্য বিক্রি হয়?
না, ২৪ ক্যারেট সোনা এতটাই নরম যে গহনা তৈরির উপযোগী নয়, তাই বাজুস এর জন্য আলাদা রেট ঘোষণা করে না। এটা মূলত তেজাবি সোনা বা বার-কয়েন হিসেবে কেনাবেচা হয়।
১ আনা সোনার দাম কীভাবে বের করব?
ভরি প্রতি দামকে ১৬ দিয়ে ভাগ করলেই ১ আনার দাম পাওয়া যায়। আজকের ২২ ক্যারেট রেটে ১ আনার দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৪,৬৬৪ টাকা।
বাজুস ঘোষিত দামের সঙ্গে ভ্যাট দিতে হয় কি?
হ্যাঁ। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ঘোষিত দামের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬% মজুরি যোগ করতে হয়। তাই চূড়ান্ত বিল ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি হবে।
বাজুস আজকে রুপার দাম কত ঘোষণা করেছে?
সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ২২ ক্যারেট রূপার ভরি প্রতি দাম ৫,১৩২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪,৯৫৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪,২৫৭ টাকা।
সোনা ও রূপার হলমার্ক কোড কী কী?
২২ ক্যারেটের হলমার্ক কোড ৯১৬, ২১ ক্যারেটের ৮৭৫ এবং ১৮ ক্যারেটের ৭৫০। গহনার গায়ে এই সংখ্যাগুলো খোদাই করা থাকলে বুঝবেন সেটা যাচাইকৃত বিশুদ্ধতার সোনা।
পুরাতন সোনা বিক্রি করলে কত টাকা কম পাওয়া যায়?
বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরনো গহনা সরাসরি বিক্রি করলে প্রায় ১৫% এবং নতুন গহনার সঙ্গে এক্সচেঞ্জ করলে প্রায় ১০% বাদ যায়। তবে এই হার সময়ে সময়ে সংশোধন হয়।
সোনার দাম কি প্রতিদিন বদলায়?
হ্যাঁ। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার এবং দেশীয় চাহিদার উপর ভিত্তি করে বাজুস প্রয়োজন অনুযায়ী দাম সমন্বয় করে, যা একই সপ্তাহে একাধিকবারও হতে পারে।
সোনার দাম বাড়ছে না কমছে?
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দাম ঊর্ধ্বমুখী— শুধু সেপ্টেম্বরেই দুই দফায় ২২ ক্যারেটের ভরিতে মোট ২,৭৪১ টাকা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এই ধারা বদলাতে পারে।
শেষ কথা
সোনার দাম নিয়ে বাংলাদেশে প্রতিদিনই মানুষ খোঁজাখুঁজি করে, কারণ এটা শুধু গহনার বিষয় নয়— অনেকের কাছে এটা সঞ্চয় ও বিনিয়োগেরও একটা নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। ২২, ২১, ১৮ ক্যারেটের আলাদা দাম, ভরি-আনা-গ্রামের হিসাব আর ভ্যাট-মজুরির নিয়মগুলো জানা থাকলে দোকানে গিয়ে দরদাম করাটা অনেক সহজ হয়ে যায়। যেহেতু দাম নিয়মিত বদলায়, তাই কেনার ঠিক আগে বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণা একবার যাচাই করে নেওয়ার অভ্যাসটা রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।
১৮
২৯ মন্তব্য