প্রভাষক
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
পুষ্টিগুণে ভরপুর আখরোটের উপকারীতা ও অপকারীতা
যারা বাদাম খেতে পছন্দ করেন, তাদের কাছে পরিচিত নাম হলো আখরোট। তবে ফ্যাট আছে মনে করে অনেকে এই বাদাম এড়িয়ে চলেন। আসলে কিন্তু তা নয়। আকৃতিতে ছোট্ট এই বাদামটি পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে থাকা ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, প্রোটিন ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড নানাভাবে শরীরের উপকার করে থাকে। আখরোট খেলে ক্যান্সার, হৃদরোগ সারাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ওমেগা থ্রি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। কালো কিংবা বাদামি- দুই ধরনের আখরোটই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
চলুন জেনে নেয়া যাক আখরোট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারীতা সম্পর্কে-
হৃদযন্ত্র ভালো রাখে: আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়: আখরোট দেখতে অনেকটা মানুষের মস্তিষ্কের মতো, আর উপকারিতাও মস্তিষ্কের জন্য দারুণ। এতে থাকা ওমেগা-৩ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: সকালে কয়েকটি আখরোট খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হয়। এতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
হজম ভালো রাখতে: আখরোটে থাকা ফাইবার হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমতে পারে।
ত্বক ও চুল ভালো রাখে: আখরোটে থাকা ভিটামিন-ই ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুল পড়া কমানো ও চুল মজবুত করতেও এটি উপকারী।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে: পরিমিত আখরোট খাওয়ার অভ্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: মরণঘাতি রোগ ক্যান্সার থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে আখরোট। এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, পলিফেনলস এবং ইউরোলিথিন অ্যান্টি-ক্যান্সার বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ। তাই স্তন, কোলন এবং প্রোস্টেট রোধে বড় ভূমিকা রাখে আখরোট। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চ জানিয়েছে আখরোট খেলে তা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
হাড় শক্ত করে: হাড়ের দুর্বলতা দেখা দিলে সতর্ক হোন। কারণ সেখান থেকে দেখা দিতে পারে আরও অনেক সমস্যা। হাড় ভালো রাখতে নিয়মিত আখরোট খান। এতে আছে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড নামে একটি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিড হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে আখরোটে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডও হাড় ভালো রাখে।
গর্ভাবস্থায় উপকারী: গর্ভবতী নারীর জন্য প্রতিদিন আখরোট খাওয়া উপকারী। আখরোটে আছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যেমন ফোলেট, রাইবোফ্লাভিন এবং থিয়ামিন। এগুলো হবু মায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। আখরোটে থাকা ফলিক এসিড গর্ভবতী ও অনাগত সন্তানের জন্য উপকারী।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না হলে যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে যায়। করোনা মহামারির এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি আমরা একটু হলেও মনোযোগী হয়েছি। এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে আখরোট। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ইমিউন সিস্টেমকে ঠিক রাখে। আখরোটে আছে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ যেমন তামা এবং ভিটামিন বি সিক্স যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।
ভালো ঘুমের জন্য: অনিদ্রার সমস্যা থাকলে আখরোট রাখুন খাবারের তালিকায়। এতে থাকা মেলাটোনিন ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক। আখরোটে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তচাপকে কম রাখে এবং স্ট্রেস উপশম করে।
আখরোটের অপকারিতা: যেকোনো খাবারই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। কারণ তাতে শরীরে পুষ্টি উপাদানগুলোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অন্যান্য খাবারের মতোই আখরোটও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। আপনি যদি আখরোট বেশি খেয়ে ফেলেন তবে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যেমন- অ্যালার্জি হতে পারে। লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কালো আখরোটে থাকা ফাইটেটস শরীরের আয়রন শুষে নিতে পারে। ফলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা যেতে পারে।
কীভাবে খাবেন: রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ২ থেকে ৪টি আখরোট খাওয়া সবচেয়ে ভালো। চাইলে ওটস, সালাদ বা স্মুদির সঙ্গেও খেতে পারেন।
তবে অতিরিক্ত আখরোট খাওয়া ঠিক নয়। যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
১৮
২৯ মন্তব্য