Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ

পেয়ার-শেয়ার-রিপিট (Pair-Share-Repeat)

পেয়ার-শেয়ার-রিপিট (Pair-Share-Repeat) হলো সক্রিয় শিখন এবং জোড়ায় কাজভিত্তিক (Partner-based learning) একটি অত্যন্ত সহজ ও কার্যকরী শিখন-শেখানো কৌশল।

এই কৌশলে শিক্ষার্থীরা প্রথমে নিজেদের মধ্যে জোড়ায় ভাবনা আদান-প্রদান করে এবং পরবর্তীতে অন্য সহপাঠীর কাছে সেই অর্জিত তথ্য বা নিজের পার্টনারের কথাটি পুনরায় প্রকাশ বা উপস্থাপন (Repeat) করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে শোনার দক্ষতা (Listening skill) এবং উপস্থাপনার দক্ষতা চমৎকারভাবে বৃদ্ধি পায়।

ধাপে ধাপে পেয়ার-শেয়ার-রিপিট কৌশলের প্রয়োগ:

১. জোড়া গঠন ও চিন্তা (Pair & Think):

  • শিক্ষক মূল বিষয়টি উপস্থাপনের পর শিক্ষার্থীদের দুজন দুজন করে জোড়া (Pair) গঠন করে দেন।
  • শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিষয়টি নিয়ে ১-২ মিনিট এককভাবে চিন্তা করে।

২. শেয়ার বা আলোচনা (Share):

  • জোড়ার ১ম শিক্ষার্থী (A) তার চিন্তাভাবনা বা উত্তর ২য় শিক্ষার্থীকে (B) বুঝিয়ে বলে।
  • এই সময়ে ২য় শিক্ষার্থী (B) খুব মনোযোগ দিয়ে ১ম শিক্ষার্থীর কথা শোনে এবং প্রয়োজনীয় নোট নেয়।
  • এরপর একইভাবে ২য় শিক্ষার্থী (B) তার পয়েন্টটি ১ম শিক্ষার্থীকে (A) বলে এবং A তা মনোযোগ দিয়ে শোনে।

৩. পুনরাবৃত্তি বা পুনরুল্লেখ (Repeat):

  • শিক্ষক পুরো ক্লাসের সামনে যেকোনো একজন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে বলতে বলেন।
  • মূল বিষয়: শিক্ষার্থী নিজের কথা না বলে, তার পার্টনার তাকে কী বলেছিল তা হুবহু বা নিজের ভাষায় পুনরায় বর্ণনা (Repeat) করে।
  • উদাহরণ: "আমার পার্টনার রহিম মনে করে যে..."

চিত্রভিত্তিক প্রবাহচিত্র (Flowchart):

  +-----------------------------------------------------+
  |             ধাপ ১: জোড়া গঠন (Pair)                   |
  |       শিক্ষার্থীরা পাশাপাশি দুজন করে জোড়ায় বসে      |
  +--------------------------+--------------------------+
                             |
                             v
  +-----------------------------------------------------+
  |            ধাপ ২: আদান-প্রদান (Share)                |
  |    মনোযোগ দিয়ে একে অপরের ধারণা ও উত্তর শোনে      |
  +--------------------------+--------------------------+
                             |
                             v
  +-----------------------------------------------------+
  |            ধাপ ৩: পুনরুল্লেখ (Repeat)                |
  |    পার্টনারের বলা তথ্যটি পুরো ক্লাসে রিবিট করে প্রকাশ করে   |
  +-----------------------------------------------------+

এই কৌশলের প্রধান সুবিধাসমূহ:

  • সক্রিয় শ্রবণ দক্ষতা (Active Listening): যেহেতু পার্টনারের কথাটি পরে রিবিট বা আবার বলতে হবে, তাই শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে একে অপরের কথা শোনে।
  • সহমর্মিতা ও মর্যাদা দেওয়া: অন্যের চিন্তাভাবনা ও মতামতকে সম্মান জানানোর অভ্যাস গড়ে ওঠে।
  • আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: সরাসরি নিজের কথা প্রকাশের চেয়ে বন্ধুর বলা কথা উপস্থাপন করা অনেক সময় লাজুক শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হয়।


মন্তব্য করুন

ব্লগ