সহকারী অধ্যাপক
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
নারী ও পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক -মোঃ মুজিবুর রহমান
নারী ও পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক
(পারস্পরিক মর্যাদা, ত্যাগ ও সহযোগিতায় গড়ে উঠুক সুন্দর পরিবার)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নারী-পুরুষ সৃষ্টির ধারা, একই মানবতার পরিচয়,
কেউ নয় কারও প্রতিদ্বন্দ্বী, সহযোগিতায় জীবনের জয়।
দুজন মিলে গড়ে সংসার, ভালোবাসার বন্ধন,
শ্রদ্ধা, মমতা, ত্যাগে জাগে সুখের অনুরণন।
কেউ বা ঘামে অন্ন জোগায়, কেউ বা স্নেহে ঘর সাজায়,
দুজনেরই শ্রমের মহিমা সংসারজুড়ে আলো ছড়ায়।
কর্মের পথে ভিন্নতা, মর্যাদায় নয় ব্যবধান,
পরস্পরের ত্যাগেই গড়ে সুখের নীড়, শান্তির প্রাণ।
স্বামীর ঘামে অন্ন আসে, স্ত্রীর স্নেহে সুখের হাসি,
দুজন মিলে জীবন গড়ে, ভালোবাসায় পাশাপাশি।
একজনেরই শ্রমে কি আর সংসার পূর্ণতা পায়?
দুজনেরই দায়িত্বে সুখের সোনার সকাল জেগে যায়।
যে নারী ঘরটি সামলান, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন,
নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সবার মুখে হাসি ফোটান;
রাত জেগে যে সন্তানের পাশে মমতার প্রদীপ জ্বালেন,
তাঁর অবদান অস্বীকার করে কোন বিবেকে তাঁকে ছোট করেন?
‘বসে বসে খাও’—কেন এমন অবজ্ঞার বাণী?
গৃহকর্মও শ্রমের পরিচয়, এ সত্য সবার জানা চাই।
অর্থ উপার্জন শ্রমের একটি মূল্যবান পরিচয়,
ঘরের সেবা, সন্তানের লালন—তার চেয়ে তুচ্ছ নয়।
যে শ্রমের নেই বেতন, নেই বাজারে কোনো দাম,
সেই শ্রমেই ঘর পায় শৃঙ্খলা, জীবন পায় আরাম।
আয়ের অঙ্কে মানুষ মাপা ন্যায়ের শিক্ষা নয়,
প্রতিটি সৎ শ্রমের যথার্থ মর্যাদা প্রাপ্য হয়।
স্বামী শুধু অর্থের যন্ত্র নন, তাঁরও আছে মন,
স্ত্রীও শুধু সেবার মানুষ নন, তাঁরও আছে আপন জীবন।
দুজনেরই সুখ-দুঃখ আছে, আছে আশা-ব্যথা,
একটু মমতা মুছে দিতে পারে হৃদয়ভরা নীরবতা।
স্বামীর ক্লান্তি বুঝুক স্ত্রী, স্ত্রীর শ্রম বুঝুক স্বামী,
সহমর্মিতার স্নিগ্ধ ছায়ায় কাটুক জীবনখানি।
কেউ যেন কারও চোখের জলের কারণ হয়ে না রয়,
কেউ যেন কারও আত্মমর্যাদা ভেঙে না দেয় নির্দয়।
কেউ কারও দয়ার পাত্র নয়, কেউ নয় কারও প্রভু,
দাম্পত্যের সৌন্দর্য বাড়ে ন্যায়ের আলোয় তবু।
অধিকার আর কর্তব্য মিলে সম্পর্ক হয় মধুর,
বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় দুঃখ হয় যে দূর।
ইসলাম শেখায় ন্যায়ের পথে চলতে অবিরাম,
তাকওয়া, সৎকর্ম, সদাচরণ—মর্যাদারই নাম।
ধন-সম্পদ কিংবা বংশের গৌরব শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নয়,
আল্লাহভীতি ও সৎকর্মেই মানুষের মর্যাদা হয়।
আল্লাহ বলেন পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট বাণী,
মানবজাতি এক উৎস হতে—এই সত্য জানি।
আল্লাহর কাছে সেই সম্মানিত, যার অধিক তাকওয়া,
অহংকার নয়, ন্যায়ের পথে চলাই জীবনের দীক্ষা।
(সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৩)
আল্লাহর কুদরতে দাম্পত্যে ভালোবাসার দান,
পারস্পরিক শান্তি, দয়া—জীবনের মহীয়ান।
স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনজুড়ে প্রশান্তিরই ছায়া,
মমতার পরশে দূর হয়ে যাক বিরহ-বেদনা-মায়া।
(সূরা আর-রূম, ৩০:২১)
কুরআন বলে—তোমরা একে অন্যের পোশাক,
এ বাণীতে মেলে ভালোবাসার গভীর আলোক।
যেমন পোশাক ঢাকে দেহ, রাখে সুরক্ষার মান,
তেমনি সঙ্গী আগলে রাখুক সম্মান আর সম্মান।
(সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৭)
রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা—পরিবারে সদাচরণ,
উত্তম চরিত্রের পরিচয় আপনজনের প্রতি আচরণ।
যে আপনজনের প্রতি সদয়, যার ব্যবহারে মধুরতা,
তার জীবনেই বিকশিত হয় সুন্দর চরিত্রের পূর্ণতা।
স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সম্মান, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়,
ন্যায়ের পথে অধিকার রক্ষা—শান্তি সেখানেই ঠাঁই।
কথায় কোমলতা, আচরণে দয়া, কাজে সহযোগিতা,
এ তিনে দাম্পত্যজীবনে বাড়ে সুখের পূর্ণতা।
সংসার কোনো যুদ্ধের মাঠ নয়, নয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই,
কে বড় আর কে ছোট—এ প্রশ্নে সুখের দেখা নাই।
জয়-পরাজয় নয় লক্ষ্য, লক্ষ্য দুজনের কল্যাণ,
হাত ধরাধরি চলার মাঝেই সম্পর্কের সম্মান।
ক্লান্ত হলে বিশ্রাম দাও, দুঃখে বাড়াও হাত,
ভুল হলে ক্ষমা চেয়ে নাও, মুছে ফেলো আঘাত।
অভিমানের বরফ গলুক মধুর কথার টানে,
ভালোবাসার ফুল ফুটুক প্রতিটি দিনের গানে।
ঘরের কাজে হাত বাড়িয়ে দাও নির্দ্বিধায়,
কৃতজ্ঞতার মধুর বাণী হৃদয় জয় করে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে থাকুক উভয়ের মত,
পারস্পরিক পরামর্শেই পথ হোক সুন্দর ও সৎ।
সন্তান দেখে মা-বাবার আচরণ প্রতিদিন,
সেই আদর্শ হৃদয়ে নিয়ে গড়ে আপন রঙিন দিন।
বাবা যদি মাকে সম্মান দেন, মা যদি বাবাকে,
সন্তানও শ্রদ্ধা শিখবে দেখে তাঁদের ভালোবাসাকে।
মায়ের শ্রমের মর্যাদা দাও, বাবার ত্যাগ বোঝো,
সন্তানেরও কথা শুনে তাদের স্বপ্নগুলো খোঁজো।
ন্যায়, সততা, দয়া, ক্ষমায় গড়ুক নতুন প্রজন্ম,
মানবতার আলোয় হোক তাদের জীবন পূর্ণ।
নারীর সম্মান পুরুষের অপমান কখনো নয়,
পুরুষের মর্যাদা নারীর অধিকারের বাধা নয়।
উভয়ের অধিকার সুরক্ষিত হোক ন্যায়ের বিধানে,
শান্তির ফুল ফুটুক প্রতিটি পরিবারের আঙিনায়।
অবহেলা নয়, সম্মান দাও; জুলুম নয়, ন্যায়,
কঠোরতার বদলে মমতা সম্পর্ক বাঁচায়।
কথায়, কাজে, আচরণে থাকুক দয়ার ছোঁয়া,
বিশ্বাসের বন্ধনে মুছে যাক হৃদয়ের সব ক্ষত-ধোয়া।
যে সংসারে সম্মান থাকে, ভালোবাসা থাকে,
সুখের পাখি নীড় বাঁধে সেখানে আপন ডাকে।
যে সংসারে সহযোগিতা, ক্ষমা ও কৃতজ্ঞতা,
সেই সংসারেই শান্তি পায় জীবনের পূর্ণতা।
নারী-পুরুষ দুটি হাত, মিলেই গড়ে সুখের ভোর,
এক হাতে কি তালি বাজে, এক হাতে কি সংসার গড়ে?
দুজন মিলে দায়িত্ব নিলে সহজ হয় পথ,
সহযোগিতার শক্তিতেই জীবন হয় সমৃদ্ধ।
আসুন, তবে শপথ করি, অহংকার দূরে রাখি,
অবজ্ঞা আর বিদ্বেষ ছেড়ে ভালোবাসার প্রদীপ আঁকি।
নারী-পুরুষ পাশাপাশি, ন্যায়ের পথে চলি,
সত্য, মমতা, শ্রদ্ধা দিয়ে সুখের সংসার গড়ি।
হে আল্লাহ! দাও আমাদের সৎপথে চলার তাওফিক,
শুদ্ধ করো চরিত্র, করো হৃদয় নিষ্কলুষ ও সঠিক।
জুলুম, অবিচার, অহংকার থেকে রাখো মুক্ত,
ন্যায় ও ভালোবাসায় করো আমাদের জীবন সিক্ত।
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয়জুড়ে দাও রহমতের আলো,
পরস্পরের হক আদায়ে করো অবিচল ও ভালো।
সন্তানদের করো সুশিক্ষিত, সৎ ও মানবিক,
পরিবারে দাও শান্তি, জীবন করো কল্যাণময় ও পবিত্র।
নারী-পুরুষ পরিপূরক—সহযোগিতায় সুন্দর সংসার,
পারস্পরিক মর্যাদা, ত্যাগে সুখের অফুরন্ত সম্ভার।
দুনিয়াতে শান্তি দাও, আখিরাতে করো নাজাত,
হে পরম দয়াময় আল্লাহ, কবুল করো আমাদের মুনাজাত।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
৮
৮ মন্তব্য