Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:৪৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সার্কুলার ২০২৭ | CU Admission Circular 2026-27

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তির সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন শুরু হবে ১৫ নভেম্বর ২০২৬ থেকে, আবেদন করা যাবে ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত — শুরু হবে সি ইউনিট দিয়ে, শেষ হবে ডি১ উপ-ইউনিট দিয়ে। আবেদন করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট admission.cu.ac.bd থেকে।


সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো — এবারও চবিতে সেকেন্ড টাইম চালু আছে। অর্থাৎ যারা ২০২৫ সালে এইচএসসি পাস করে কোথাও ভর্তি হতে পারেনি বা পছন্দের বিষয় পায়নি, তারাও এবার আবার পরীক্ষা দিতে পারবে। এই পোস্টে আবেদনের যোগ্যতা, ইউনিট পরিচিতি, আবেদন ফি, ধাপে ধাপে আবেদনের নিয়ম, কেন্দ্র বাছাই, প্রবেশপত্র — সবকিছু এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়া হলো, যাতে আবেদনের সময় কোনো তথ্যের জন্য আর কোথাও ছুটতে না হয়। cu admission নিয়ে যারা খুঁজছিলে, এই গাইডটাই তোমার পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ।

একনজরে চবি ভর্তি ২০২৬-২৭

বিষয়

তথ্য

বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)

শিক্ষাবর্ষ

২০২৬-২৭

কোর্স

স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ

আবেদন শুরু

১৫ নভেম্বর ২০২৬

আবেদন শেষ

১০ ডিসেম্বর ২০২৬ (রাত ১১:৫৯ পর্যন্ত)

ভর্তি পরীক্ষা

২৯ জানুয়ারি – ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭

আবেদনের ওয়েবসাইট

admission.cu.ac.bd

ইউনিট

A, B, C, D এবং উপ-ইউনিট B1, B2, D1

মোট আসন

প্রায় ৩,৫৯৭টি (সাধারণ আসন, গত চক্রের হিসাব অনুযায়ী)

সেকেন্ড টাইম

আছে (শর্তসাপেক্ষে)

পরীক্ষার ধরন

এমসিকিউ, ১০০ নম্বর, সময় ১ ঘণ্টা


একটা কথা শুরুতেই পরিষ্কার করে রাখা ভালো। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন ও পরীক্ষার সময়সূচি এবং আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা জানিয়ে দিয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ভর্তি নির্দেশিকা (যেখানে ফি, কোটা, সংশোধনের নিয়মসহ সব বিস্তারিত থাকে) এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই এই পোস্টে যেসব জায়গায় এবারের সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা হয়নি, সেখানে গত চক্রের (২০২৫-২৬) তথ্য "গত বছর" বা "গত চক্রে" বলে আলাদা করে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনটা নিশ্চিত তথ্য আর কোনটা আগের বছরের ধারা — সেটা নিয়ে কোনো ধোঁয়াশা না থাকে।

কোন ইউনিটে কোন অনুষদ ও বিভাগ

চবিতে মোট চারটি প্রধান ইউনিট (A, B, C, D) এবং তিনটি উপ-ইউনিট (B1, B2, D1) রয়েছে। নিজের পড়ার শাখা ও আগ্রহ অনুযায়ী সঠিক ইউনিট বেছে নেওয়াটাই ভর্তির প্রথম ধাপ।


ইউনিট

অনুষদ

উল্লেখযোগ্য বিভাগ

A

বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ

পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, পরিসংখ্যান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, মাইক্রোবায়োলজি, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল, ফার্মেসি, মেরিন সায়েন্স, ফিশারিজ, ওশানোগ্রাফি

B

কলা ও মানববিদ্যা

বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ভাষাবিজ্ঞান, বাংলাদেশ স্টাডিজ

B1

কলা ও মানববিদ্যা (বিশেষায়িত)

নাট্যকলা, চারুকলা, সংগীত

B2

কলা ও মানববিদ্যা (বিশেষায়িত)

আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, পালি

C

ব্যবসায় প্রশাসন

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, ফিন্যান্স, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স

D

সমাজবিজ্ঞান, আইন, জীববিজ্ঞান (আংশিক)

অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব, লোক প্রশাসন, নৃবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স, আইন, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা, মনোবিজ্ঞান

D1

শিক্ষা

ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স

A ইউনিট

বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের ইউনিট। বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ — এই চার অনুষদের সব বিভাগ এই ইউনিটের অধীনে। আসন সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এই ইউনিটেই (গত চক্রে ১,০৯৩টি), প্রতিযোগিতাও সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র বিজ্ঞান বা কৃষি বিজ্ঞান শাখা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারে।

B ইউনিট

কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সাধারণ ইউনিট। মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা — তিন শাখার শিক্ষার্থীই আবেদন করতে পারে, তবে শাখাভেদে GPA-র শর্ত আলাদা। নাট্যকলা, চারুকলা, সংগীত, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ ও পালি বাদে অনুষদের বাকি সব বিভাগ এই ইউনিটে।

B1 ও B2 উপ-ইউনিট

B1 উপ-ইউনিটে রয়েছে নাট্যকলা, চারুকলা ও সংগীত বিভাগ — এই তিনটি বিভাগে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক/ব্যবহারিক-ধরনের পরীক্ষার ধাপ থাকা স্বাভাবিক, তাই আগ্রহীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি রাখো। B2 উপ-ইউনিটে রয়েছে আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ ও পালি বিভাগ; মাদ্রাসা পটভূমির শিক্ষার্থীদের কাছে এই উপ-ইউনিটটি বিশেষ জনপ্রিয়। দুটি উপ-ইউনিটেই আবেদনের শর্ত B ইউনিটের মতোই।

C ইউনিট

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ইউনিট। ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারে, তবে বিজ্ঞান শাখার জন্য GPA-র বার কিছুটা বেশি। গত চক্রে এই ইউনিটে আসন ছিল ৫১০টি।

D ইউনিট

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সব বিভাগ, আইন অনুষদের আইন বিভাগ এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা ও মনোবিজ্ঞান বিভাগ এই ইউনিটের অধীনে। যেকোনো শাখা থেকে আবেদন করা যায় বলে এই ইউনিটে আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে আইন বিভাগে ভর্তি হতে চাইলে এই ইউনিটেই পরীক্ষা দিতে হবে।

D1 উপ-ইউনিট

শিক্ষা অনুষদের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের জন্য এই উপ-ইউনিট। আসন মাত্র ৪০টি (গত চক্রের হিসাব) এবং GPA-র শর্ত সবার চেয়ে কম। খেলাধুলায় সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ভালো সুযোগ।

চবি ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা

আবেদনের প্রথম শর্ত হলো পাসের সাল। বাংলাদেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৩ বা ২০২৪ সালের মাধ্যমিক (SSC) বা সমমান এবং ২০২৫ বা ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। অর্থাৎ এবার যারা HSC ২০২৬ দিয়েছে তারা তো আছেই, সঙ্গে HSC ২০২৫-এর শিক্ষার্থীরাও দ্বিতীয়বারের মতো আবেদনের সুযোগ পাচ্ছে — চবিতে সেকেন্ড টাইম চালু আছে। তবে মনে রাখো, সেকেন্ড টাইমারদের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে ৩ নম্বর কর্তন করে মেধাতালিকা তৈরি করা হয়।


GPA-র হিসাব হবে চতুর্থ বিষয়সহ মোট জিপিএ দিয়ে। ইউনিটভেদে শর্তগুলো এক নজরে দেখে নাও:


ইউনিট

শাখা

মোট GPA (ন্যূনতম)

SSC-তে ন্যূনতম

HSC-তে ন্যূনতম

A

বিজ্ঞান/কৃষি বিজ্ঞান

৮.০০

৪.০০

৩.০০

B

মানবিক

৬.৫০

৩.০০

২.৫০

B

বিজ্ঞান/ব্যবসায় শিক্ষা

৭.০০

৩.৫০

৩.০০

B1

সকল (B ইউনিটের শর্ত)

B ইউনিট অনুযায়ী

—

—

B2

সকল (B ইউনিটের শর্ত)

B ইউনিট অনুযায়ী

—

—

C

বিজ্ঞান

৭.৫০

৩.৫০

৩.০০

C

অন্যান্য শাখা

৭.০০

৩.৫০

৩.০০

D

যেকোনো শাখা

৭.৫০

৩.৫০

৩.০০

D1

যেকোনো শাখা

৫.৫০

২.৫০

২.০০


শর্তগুলো কীভাবে কাজ করে, একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিই। ধরো, তুমি A ইউনিটে আবেদন করতে চাও। তোমার SSC-তে GPA ৪.৫০ এবং HSC-তে ৩.৫০ — মোট হলো ৮.০০। আবার SSC-র শর্ত (কমপক্ষে ৪.০০) ও HSC-র শর্ত (কমপক্ষে ৩.০০) দুটোই পূরণ হচ্ছে, তাই তুমি আবেদনের যোগ্য। কিন্তু যদি কারও SSC-তে ৩.৮০ ও HSC-তে ৪.২০ থাকে, মোট ৮.০০ হলেও সে A ইউনিটে আবেদন করতে পারবে না, কারণ SSC-তে আলাদা করে ৪.০০ পাওয়ার শর্তটা পূরণ হয়নি। তাই শুধু মোট GPA দেখলেই হবে না — দুটি পরীক্ষার GPA আলাদা আলাদাভাবেও যাচাই করে নাও। একই নিয়ম প্রতিটি ইউনিটের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

A ইউনিটের যোগ্যতা

শুধুমাত্র বিজ্ঞান বা কৃষি বিজ্ঞান শাখা থেকে SSC ও HSC উত্তীর্ণরা আবেদন করতে পারবে। দুই পরীক্ষা মিলিয়ে মোট GPA কমপক্ষে ৮.০০ থাকতে হবে; পাশাপাশি SSC-তে আলাদাভাবে কমপক্ষে ৪.০০ এবং HSC-তে কমপক্ষে ৩.০০ থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু মোট GPA মিললেই হবে না — আলাদা আলাদা এই দুটি শর্তও পূরণ হতে হবে।

B ইউনিটের যোগ্যতা

মানবিক শাখার জন্য শর্ত সবচেয়ে কম: মোট GPA ৬.৫০, SSC-তে ৩.০০ এবং HSC-তে ২.৫০। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য মোট GPA ৭.০০, SSC-তে ৩.৫০ ও HSC-তে ৩.০০ লাগবে।

B1 ও B2 উপ-ইউনিটের যোগ্যতা

নাট্যকলা, চারুকলা ও সংগীতের B1 এবং আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ ও পালির B2 — দুটি উপ-ইউনিটেই B ইউনিটের শর্তই প্রযোজ্য। অর্থাৎ তুমি যে শাখা থেকেই আবেদন করো না কেন, B ইউনিটের সংশ্লিষ্ট শাখার GPA শর্ত পূরণ হলেই এই উপ-ইউনিটগুলোতেও আবেদন করতে পারবে।

C ইউনিটের যোগ্যতা

বিজ্ঞান শাখা থেকে আবেদন করলে মোট GPA ৭.৫০ (SSC ৩.৫০, HSC ৩.০০) লাগবে। ব্যবসায় শিক্ষা বা মানবিকসহ অন্যান্য শাখার জন্য মোট GPA ৭.০০ (SSC ৩.৫০, HSC ৩.০০) হলেই আবেদন করা যাবে।

D ইউনিটের যোগ্যতা

যেকোনো শাখা থেকে আবেদন করা যায়। মোট GPA কমপক্ষে ৭.৫০, SSC-তে ৩.৫০ এবং HSC-তে ৩.০০ থাকতে হবে। আইন বিভাগে ভর্তির স্বপ্ন থাকলে এই শর্তটা আগে থেকেই মাথায় রাখো।

D1 উপ-ইউনিটের যোগ্যতা

সব ইউনিটের মধ্যে GPA-র শর্ত সবচেয়ে কম এখানে: যেকোনো শাখা থেকে মোট GPA ৫.৫০, SSC-তে ২.৫০ ও HSC-তে ২.০০ থাকলেই আবেদন করা যাবে। পাস নম্বরও এই উপ-ইউনিটে ৪০-এর বদলে ৩৫।

আবেদন ফি

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ফি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি — পূর্ণাঙ্গ ভর্তি নির্দেশিকা প্রকাশ হলে ফি-র পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। গত চক্রে (২০২৫-২৬) প্রতি ইউনিট বা উপ-ইউনিটের জন্য আবেদন ফি ছিল ১,০০০ টাকা। এবারও ফি প্রায় একই পরিসরে থাকার সম্ভাবনা বেশি, তবে নিশ্চিত ধরে নেওয়ার আগে নির্দেশিকার জন্য অপেক্ষা করো।


ফি নিয়ে দুটি সাধারণ সতর্কতা মনে রাখো। প্রথমত, আবেদন ফি সাধারণত অফেরতযোগ্য — ভুল ইউনিটে আবেদন করে ফি দিয়ে ফেললে সেই টাকা ফেরত পাওয়া যায় না বললেই চলে। তাই ফি দেওয়ার আগে ইউনিট ও তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নাও। দ্বিতীয়ত, একাধিক ইউনিটে আবেদন করলে প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা আলাদা ফি দিতে হবে — একটি ফি দিয়ে দুটি ইউনিটে আবেদন করা যায় না।

ধাপে ধাপে অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম

পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটা অনলাইনে, ওয়েবসাইট admission.cu.ac.bd থেকে। ১৫ নভেম্বর আবেদন শুরু হলে নিচের ধাপগুলো একে একে অনুসরণ করলেই আবেদন সম্পন্ন হবে।


  1. ওয়েবসাইটে প্রবেশ করো: প্রথমে admission.cu.ac.bd ওয়েবসাইটে যাও। আবেদন শুরুর প্রথম দিনগুলোতে সাইটে চাপ বেশি থাকে, তাই সম্ভব হলে ব্যস্ত সময় এড়িয়ে সকালে বা রাতে চেষ্টা করো।


  1. Apply/Registration অপশন বেছে নাও: হোমপেজ থেকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আবেদনের Apply বা Registration লিংকে ক্লিক করো। এখান থেকে তোমার প্রোফাইল/অ্যাকাউন্ট তৈরি হবে, যা দিয়ে পরে লগইন করে প্রবেশপত্রও ডাউনলোড করতে হবে — তাই মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড ঠিকঠাক সংরক্ষণ করে রাখো।


  1. বোর্ড, রোল ও রেজিস্ট্রেশন তথ্য দাও: SSC ও HSC-এর বোর্ড, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও পাসের সাল সঠিকভাবে পূরণ করো। সিস্টেম অনেক ক্ষেত্রে বোর্ডের ডাটাবেস থেকে তোমার নাম ও ফলাফল যাচাই করে নেয় — তথ্য মিললে তোমার বিবরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখা যাবে। একটা সংখ্যা ভুল হলেই যাচাই ব্যর্থ হবে, তাই প্রবেশপত্র/মার্কশিট সামনে রেখে তথ্য দাও।


  1. ইউনিট ও পরীক্ষার কেন্দ্র বেছে নাও: যেসব ইউনিটে আবেদন করতে চাও সেগুলো নির্বাচন করো। একই সঙ্গে A, B, C, D ইউনিটের ক্ষেত্রে পরীক্ষার কেন্দ্রের পছন্দক্রম (১ম, ২য় ও ৩য়) দিতে হবে — কেন্দ্র তিনটি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। B1, B2 ও D1 উপ-ইউনিটের পরীক্ষা শুধু চবি ক্যাম্পাসেই হবে, এগুলোতে কেন্দ্র বাছাইয়ের সুযোগ নেই।


  1. ছবি আপলোড করো: নির্ধারিত মাপ ও ফরম্যাটে সাম্প্রতিক রঙিন ছবি আপলোড করো। ছবি যেন পরিষ্কার ও স্পষ্ট হয় — এই ছবিই প্রবেশপত্রে ছাপা হবে এবং পরীক্ষার হলে তোমার পরিচয় যাচাইয়ে ব্যবহার হবে। ঝাপসা, পুরনো বা অতিরিক্ত সম্পাদিত ছবি দিলে আবেদন ঝামেলায় পড়তে পারে।


  1. ফরম সাবমিট করার আগে সব মিলিয়ে দেখো: সাবমিট বাটনে চাপ দেওয়ার আগে পুরো ফরমটা আবার পড়ো — নামের বানান, জন্ম তারিখ, বোর্ড, রোল, ইউনিট, কেন্দ্রের পছন্দক্রম সব ঠিক আছে কিনা। সাবমিট হয়ে গেলে অনেক তথ্য আর বদলানো যায় না।


  1. আবেদন ফি পরিশোধ করো: ফরম সাবমিটের পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে (ওয়েবসাইটে উল্লেখিত পেমেন্ট মাধ্যমে) আবেদন ফি জমা দাও। ফি না দিলে আবেদন চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে না। একাধিক ইউনিটে আবেদন করলে প্রতিটির ফি আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে।


  1. Applicant Copy ও প্রোফাইল সংরক্ষণ করো: সব শেষে Applicant Copy/আবেদনের কপি প্রিন্ট বা ডাউনলোড করে রাখো এবং প্রোফাইলের লগইন তথ্য (মোবাইল নম্বর/আইডি ও পাসওয়ার্ড) নিরাপদে লিখে রাখো। প্রবেশপত্র ডাউনলোড, ফলাফল দেখা — সবকিছুতেই এই তথ্য লাগবে।

পরীক্ষার কেন্দ্র বাছাইয়ে করণীয়

A, B, C ও D ইউনিটের পরীক্ষা একই দিনে একই সময়ে তিনটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে — চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। আবেদনের সময় তোমাকে এই তিনটি কেন্দ্রের পছন্দক্রম (১ম, ২য়, ৩য়) দিতে হবে; আসন ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পছন্দক্রম মেনেই কেন্দ্র বরাদ্দ দেওয়া হয়।


কেন্দ্র বাছাইয়ে কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখো:


  • বাসা থেকে কাছের কেন্দ্রকে প্রথম পছন্দ দাও। পরীক্ষার দিন যাতায়াতের ঝামেলা যত কম হবে, মনোযোগ তত ভালো থাকবে।

  • আবেদন দেরি করে করলে পছন্দের কেন্দ্র নাও পেতে পারো। জনপ্রিয় কেন্দ্রগুলোর আসন আগে ভরে যায়, তাই আবেদনের শুরুর দিকেই ফরম পূরণ করে ফেলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

  • B1, B2 ও D1 উপ-ইউনিটের পরীক্ষা শুধু চবি ক্যাম্পাসে হয়। এই উপ-ইউনিটগুলোতে আবেদন করলে পরীক্ষার দিন চট্টগ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই করে রাখতে হবে — যাতায়াত ও প্রয়োজনে থাকার ব্যবস্থাসহ।

  • একাধিক ইউনিটে আবেদন করলে সব ইউনিটের জন্য একই কেন্দ্র পছন্দ দেওয়াই সুবিধাজনক, কারণ পরীক্ষাগুলো আলাদা আলাদা দিনে হলেও একই শহরে থাকলে যাতায়াতের পরিকল্পনা সহজ হয়।

আবেদনের সময় যেসব ভুলে আবেদন বাতিল হতে পারে

প্রতি বছরই কিছু শিক্ষার্থীর আবেদন শুধু ছোটখাটো ভুলের কারণে ঝামেলায় পড়ে বা বাতিল হয়ে যায়। নিচের ভুলগুলো এড়িয়ে চললেই তুমি নিরাপদ:


  • ভুল রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা বোর্ডের তথ্য: বোর্ডের ডাটাবেসের সঙ্গে তথ্য না মিললে আবেদনই যাচাই হবে না। মার্কশিট দেখে দেখে সংখ্যাগুলো বসাও।

  • নামের বানানে অসামঞ্জস্য: SSC/HSC সনদে নাম যেভাবে আছে, হুবহু সেভাবেই লেখো। সনদের সঙ্গে অমিল হলে ভর্তির সময় সমস্যা হতে পারে।

  • অস্পষ্ট বা অনুপযুক্ত ছবি: ঝাপসা, অনেক পুরনো, সানগ্লাস পরা বা মাপের বাইরের ছবি আপলোড করলে আবেদন বাতিলের ঝুঁকি থাকে।

  • ফি পরিশোধ না করা: ফরম সাবমিট করলেই আবেদন শেষ নয় — নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফি জমা না দিলে আবেদনটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

  • ভুল ইউনিট নির্বাচন: যে ইউনিটে যোগ্যতাই নেই বা যে বিভাগে পড়তে চাও না, ভুল করে সেই ইউনিটে আবেদন করলে ফি-সহ পুরোটাই বৃথা যাবে।

  • শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করা: ১০ ডিসেম্বরের শেষ দিন সার্ভারে প্রচণ্ড চাপ থাকে; পেমেন্ট গেটওয়ে ধীর হয়ে যেতে পারে। শেষ তারিখের অন্তত ৩-৪ দিন আগে আবেদন শেষ করে ফেলো।

  • লগইন তথ্য হারিয়ে ফেলা: মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে প্রবেশপত্র ডাউনলোডে বেগ পেতে হয়। তথ্যগুলো খাতায় লিখে রাখো।

  • একই তথ্য দিয়ে একাধিকবার আবেদন: ডুপ্লিকেট আবেদন ধরা পড়লে দুটোই বাতিল হতে পারে। একবারই সতর্কভাবে আবেদন করো।

ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও নম্বর কর্তনের নিয়ম

আবেদনের পাশাপাশি পরীক্ষার পদ্ধতিটাও এখন থেকে জেনে রাখো, কারণ প্রস্তুতির ধরনই বদলে যাবে এসব জানা থাকলে। চবির ভর্তি পরীক্ষা হয় এমসিকিউ (বহুনির্বাচনি) পদ্ধতিতে। মোট ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, পূর্ণমান ১০০, সময় মাত্র ১ ঘণ্টা — অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য সময় পাওয়া যাবে ৩৬ সেকেন্ডেরও কম। তাই শুধু পড়লেই হবে না, দ্রুত ও নির্ভুল উত্তর দেওয়ার অনুশীলনটাই এখানে বড় ব্যাপার।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো নেগেটিভ মার্কিং: প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। সহজ হিসাবে, চারটি ভুল উত্তর মানেই ১ নম্বর হাওয়া। না জানা প্রশ্নে এলোপাতাড়ি অনুমান করলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ — তবে শুধু D1 উপ-ইউনিটের ক্ষেত্রে পাস নম্বর ৩৫। আর একটা বিশেষ নিয়ম আগেই বলা হয়েছে — সেকেন্ড টাইমারদের মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৩ নম্বর কর্তন করে তারপর মেধাতালিকা সাজানো হয়। কোন ইউনিটে কোন কোন বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে এবং বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন কেমন — সেটা এই পোস্টের শেষে উল্লেখ করা রুটিন ও মানবণ্টনের পোস্টে বিস্তারিত দেওয়া আছে।

প্রবেশপত্র ডাউনলোড

আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার আগমুহূর্তে প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা তারিখে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের সুযোগ দেওয়া হয়। admission.cu.ac.bd ওয়েবসাইটে নিজের প্রোফাইলে লগইন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে। কোন ইউনিটের প্রবেশপত্র কবে থেকে পাওয়া যাবে, তা বিশ্ববিদ্যালয় পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেবে।


প্রবেশপত্র হাতে পেলে প্রথমেই দেখে নাও — ছবি, নাম, রোল নম্বর, ইউনিট, পরীক্ষার কেন্দ্র ও রুম নম্বরের তথ্য ঠিক আছে কিনা। গতবার প্রবেশপত্র ডাউনলোডের সুযোগ ছিল পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগ পর্যন্তও, তবে শেষ মুহূর্তের ঝুঁকি না নিয়ে ডাউনলোড খুললেই দুই কপি প্রিন্ট করে রেখে দাও। প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষার হলে ঢুকতে দেওয়া হবে না — এটা মনে রাখাই সবচেয়ে জরুরি। পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনে মূল সনদ/রেজিস্ট্রেশন কার্ডও সঙ্গে রাখতে বলা হতে পারে, তাই নির্দেশনাটা প্রবেশপত্রেই ভালো করে পড়ে নিও।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ

ঘটনা

তারিখ

অনলাইন আবেদন শুরু

১৫ নভেম্বর ২০২৬

অনলাইন আবেদন শেষ

১০ ডিসেম্বর ২০২৬ (রাত ১১:৫৯)

C ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা

২৯ জানুয়ারি ২০২৭ (শুক্রবার)

A ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা

৩০ জানুয়ারি ২০২৭ (শনিবার)

B1 উপ-ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ (বুধবার)

B2 উপ-ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ (বৃহস্পতিবার)

B ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ (শুক্রবার)

D ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা

৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ (শনিবার)

D1 উপ-ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা

৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ (সোমবার)


পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে, মোট ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ১ ঘণ্টায়। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। পাস নম্বর ৪০ (শুধু D1 উপ-ইউনিটে ৩৫)। আর সেকেন্ড টাইমারদের প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে ৩ নম্বর কর্তনের পর মেধাতালিকা তৈরি হবে — প্রস্তুতির পরিকল্পনা করার সময় এই সংখ্যাগুলো হিসাবে রাখো।

আবেদন শেষ করার পর করণীয়

আবেদন ও ফি পরিশোধ হয়ে গেলেই দায়িত্ব শেষ নয়। প্রথমত, Applicant Copy-টি প্রিন্ট করে বা PDF ডাউনলোড করে নিরাপদ জায়গায় রেখে দাও — ভর্তির চূড়ান্ত ধাপ পর্যন্ত এটি প্রমাণ হিসেবে লাগতে পারে। দ্বিতীয়ত, admission.cu.ac.bd সাইটে মাঝে মাঝে ঢুকে বিজ্ঞপ্তি দেখে নাও, কারণ প্রবেশপত্র ডাউনলোডের তারিখসহ যেকোনো পরিবর্তন সেখানেই জানানো হবে। তৃতীয়ত, আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরটি সবসময় সক্রিয় রাখো, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো বার্তা মিস না হয়। আর চতুর্থত, পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এখনই গতি তোলো — আবেদনের শেষ তারিখ ১০ ডিসেম্বর আর প্রথম পরীক্ষা ২৯ জানুয়ারি, মাঝখানে সময় হাতে দেড় মাসেরও কম।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

চবিতে কি সেকেন্ড টাইম আছে?

হ্যাঁ, আছে। ২০২৩ বা ২০২৪ সালে SSC এবং ২০২৫ সালে HSC পাস করা শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয়বারের মতো আবেদন করতে পারবে। তবে সেকেন্ড টাইমারদের ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে ৩ নম্বর কর্তন করে মেধাতালিকা তৈরি করা হয়।

একাধিক ইউনিটে আবেদন করা যাবে কি?

যাবে। যেসব ইউনিটে তোমার যোগ্যতা আছে, সেগুলোর প্রতিটিতেই আবেদন করতে পারবে। তবে প্রতিটি ইউনিট/উপ-ইউনিটের জন্য আলাদা আলাদা আবেদন ফি দিতে হবে।

GPA-র হিসাব কি চতুর্থ বিষয়সহ হবে?

হ্যাঁ। ইউনিটভিত্তিক ন্যূনতম GPA-র সব শর্তই চতুর্থ বিষয়সহ মোট জিপিএ দিয়ে হিসাব করা হয়। তবে শুধু মোট GPA মিললেই চলবে না — SSC ও HSC-তে আলাদাভাবে নির্ধারিত ন্যূনতম GPA-ও পূরণ হতে হবে।

আবেদন ফি কত টাকা?

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ফি এখনো ঘোষণা হয়নি। গত চক্রে প্রতি ইউনিট/উপ-ইউনিটে ফি ছিল ১,০০০ টাকা। পূর্ণাঙ্গ ভর্তি নির্দেশিকা প্রকাশ হলেই এবারের ফি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভর্তি পরীক্ষা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?

A, B, C ও D ইউনিটের পরীক্ষা হবে তিনটি কেন্দ্রে — চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। আবেদনের সময় পছন্দক্রম দিতে হবে। B1, B2 ও D1 উপ-ইউনিটের পরীক্ষা শুধুমাত্র চবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে কি?

যাবে, তবে সীমাবদ্ধতা আছে। শুধুমাত্র নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর (FX-100 বা তার নিম্নতর মডেল) ব্যবহার করা যাবে। প্রোগ্রামেবল বা গ্রাফিং ক্যালকুলেটর নিয়ে গেলে তা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থীরা কি আবেদন করতে পারবে?

পারবে। শর্ত হলো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের সমমান পরীক্ষায় (যেমন দাখিল ও আলিম) উত্তীর্ণ হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের GPA-র শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে B2 উপ-ইউনিটের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়।

পোষ্য কোটা কি এবার আছে?

না। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য থাকা 'পোষ্য কোটা' গত চক্র (২০২৫-২৬) থেকেই বাতিল করা হয়েছে। তাই এবার মেধাতালিকায় জায়গা পেতে হলে শুধু পরীক্ষার নম্বরের ওপরই নির্ভর করতে হবে।

আবেদনে ভুল হয়ে গেলে সংশোধন করা যাবে কি?

আবেদন সংশোধনের সুযোগ ও নিয়ম পূর্ণাঙ্গ ভর্তি নির্দেশিকায় জানিয়ে দেওয়া হবে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো — সাবমিট করার আগেই ফরমের প্রতিটি তথ্য মনোযোগ দিয়ে মিলিয়ে দেখা, যাতে সংশোধনের প্রয়োজনই না পড়ে।

প্রবেশপত্র কবে ও কীভাবে পাবো?

পরীক্ষার আগে ইউনিটভিত্তিক আলাদা তারিখে admission.cu.ac.bd ওয়েবসাইটে প্রোফাইলে লগইন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে। গতবার পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত ডাউনলোডের সুযোগ ছিল। তারিখ ঘোষণা হলে এই পোস্টেই আপডেট করে দেওয়া হবে।


সবশেষে একটা কথা — এই পোস্টের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষিত সময়সূচি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তৈরি। পূর্ণাঙ্গ ভর্তি নির্দেশিকা প্রকাশিত হলেই ফি, কোটা, সংশোধনের নিয়মসহ বাকি সব বিবরণ দিয়ে এই পোস্ট আপডেট করা হবে; cu admission circular 2026-এর সর্বশেষ তথ্যের জন্য পোস্টটি বুকমার্ক করে রাখো। আর পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোন ইউনিটে কোন বিষয়ে কত নম্বর, পাস নম্বর কত, কীভাবে সময় ভাগ করে উত্তর দেবে — এসব জানতে "চবি ভর্তি পরীক্ষার রুটিন ও মানবণ্টন" পোস্টটি দেখুন। শুভকামনা রইলো সবার জন্য — দেখা হবে পাহাড়ঘেরা চবি ক্যাম্পাসে!

মন্তব্য করুন

ব্লগ