Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:৫৬ অপরাহ্ণ

চবি ভর্তি পরীক্ষার রুটিন ও মানবণ্টন ২০২৭ | CU Admission Test Routine 2026-27

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি, সি ইউনিটের পরীক্ষা দিয়ে। শেষ পরীক্ষা হবে ৮ ফেব্রুয়ারি, ডি১ উপ-ইউনিটের। মোট ৪টি ইউনিট ও ৩টি উপ-ইউনিটে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, আর প্রতিটি পরীক্ষাই হবে ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (MCQ) প্রশ্নে। তুমি যদি এবার cu admission test-এর প্রস্তুতি নিচ্ছ, তাহলে রুটিনটা শুধু জানলেই হবে না — কোন ইউনিটে কবে পরীক্ষা, কোন বিষয়ে কত নম্বর, পাস করতে কত লাগবে, প্রতি আসনের বিপরীতে কতজন লড়ছে — এসব জানা থাকলে প্রস্তুতির পরিকল্পনাটাই বদলে যায়। এই লেখায় চবি ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬-২৭-এর পূর্ণাঙ্গ রুটিন, ইউনিটভিত্তিক মানবণ্টন, আসন ও প্রতিযোগিতার হিসাব এবং ইউনিট অনুযায়ী প্রস্তুতির কৌশল — সবকিছু একসঙ্গে সাজিয়ে দেওয়া হলো।

চবি ভর্তি পরীক্ষার রুটিন ২০২৭

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এবার পরীক্ষা শুরু হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সি ইউনিট দিয়ে, আর শেষ হবে সবার শেষে ডি১ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা দিয়ে। নিচে পূর্ণাঙ্গ cu admission test routine দেওয়া হলো:


ইউনিট / উপ-ইউনিট

তারিখ

বার

কেন্দ্র

সি ইউনিট

২৯ জানুয়ারি ২০২৭

শুক্রবার

চবি, ঢাবি ও রাবি ক্যাম্পাস

এ ইউনিট

৩০ জানুয়ারি ২০২৭

শনিবার

চবি, ঢাবি ও রাবি ক্যাম্পাস

বি১ উপ-ইউনিট

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৭

বুধবার

শুধু চবি ক্যাম্পাস

বি২ উপ-ইউনিট

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭

বৃহস্পতিবার

শুধু চবি ক্যাম্পাস

বি ইউনিট

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭

শুক্রবার

চবি, ঢাবি ও রাবি ক্যাম্পাস

ডি ইউনিট

৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭

শনিবার

চবি, ঢাবি ও রাবি ক্যাম্পাস

ডি১ উপ-ইউনিট

৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭

সোমবার

শুধু চবি ক্যাম্পাস


রুটিনটা লক্ষ করলে কয়েকটি বিষয় চোখে পড়ে। প্রথমত, সি ও এ ইউনিটের পরীক্ষা একদম শুরুতেই — ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি। অর্থাৎ এসব ইউনিটের পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রস্তুতির সময় সবচেয়ে কম; তাঁদের প্রস্তুতি অন্যদের চেয়ে অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত, বি ও ডি ইউনিটের পরীক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় পাচ্ছেন — তাঁদের পরীক্ষা ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি। তৃতীয়ত, উপ-ইউনিটগুলোর পরীক্ষা মাঝামাঝি ও শেষদিকে পড়েছে — বি১ ৩ ফেব্রুয়ারি, বি২ ৪ ফেব্রুয়ারি এবং ডি১ সবার শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি।


যারা একাধিক ইউনিটে আবেদন করেছেন, তাঁদের জন্য এই ফাঁকগুলো বড় সুবিধা। যেমন কেউ এ ও ডি দুই ইউনিটেই পরীক্ষা দিলে ৩০ জানুয়ারির প্রথম পরীক্ষার পর হাতে পাচ্ছেন আরও এক সপ্তাহ — প্রথম পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, নিজের গতি ও দুর্বল জায়গাগুলো বুঝে নিয়ে দ্বিতীয় পরীক্ষার প্রস্তুতি অনেক বেশি লক্ষ্যভিত্তিক করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, বি১, বি২ ও ডি১ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হবে — চট্টগ্রামের বাইরের পরীক্ষার্থীদের এ জন্য আগে থেকে যাতায়াত ও থাকার পরিকল্পনা করে রাখতে হবে। একইভাবে এ, বি, সি, ডি ইউনিটের ক্ষেত্রেও আবেদনের সময় বেছে নেওয়া কেন্দ্র (চবি, ঢাবি বা রাবি) অনুযায়ী আগে থেকেই পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে পরীক্ষার দিন যানজট বা অচেনা জায়গা খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট না হয়।


আর আবেদনের কথা মনে করিয়ে দিই — অনলাইন আবেদন চলবে ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত, admission.cu.ac.bd ওয়েবসাইটে। আবেদনের যোগ্যতা, ফি ও ধাপে ধাপে আবেদনের নিয়ম নিয়ে আমাদের আলাদা বিস্তারিত গাইড রয়েছে, সেটি দেখে নিলে আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।

ব্যবহারিক পরীক্ষা (বি১ ও ডি১)

বি১ ও ডি১ উপ-ইউনিটের ক্ষেত্রে শুধু লিখিত (MCQ) পরীক্ষায় শেষ নয়। বি১ উপ-ইউনিটের অধীনে রয়েছে চারুকলা ইনস্টিটিউট, নাট্যকলা বিভাগ ও সংগীত বিভাগ — এসব বিভাগে ভর্তির জন্য ব্যবহারিক বা ব্যবহারিক-মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। অন্যদিকে ডি১ উপ-ইউনিট হলো ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্সেস বিভাগের জন্য, যেখানে মাঠ পরীক্ষা (শারীরিক সক্ষমতা যাচাই) দিতে হয়।


এই ব্যবহারিক ও মাঠ পরীক্ষার তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি; বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশে পরে জানানো হবে। গতবার এই পরীক্ষাগুলো মূল ভর্তি পরীক্ষার আগেই, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাই বি১ ও ডি১-এর পরীক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের পড়ায় ডুবে থাকলে হবে না — চারুকলার জন্য আঁকার অনুশীলন, নাট্যকলা ও সংগীতের জন্য নিজ নিজ ক্ষেত্রের প্রস্তুতি এবং ডি১-এর জন্য শারীরিক ফিটনেসের চর্চা সমান্তরালে চালিয়ে যেতে হবে। নোটিশ প্রকাশ হলে তারিখ অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে হবে।

পরীক্ষার পদ্ধতি ও নিয়মকানুন

চবি ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি সব ইউনিটের জন্য প্রায় একই কাঠামোর। মূল নিয়মগুলো হলো:


  • প্রশ্নের ধরন: সম্পূর্ণ বহুনির্বাচনি (MCQ)।

  • মোট নম্বর ও প্রশ্ন সংখ্যা: ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকবে।

  • সময়: মাত্র ১ ঘণ্টা — অর্থাৎ প্রশ্নপ্রতি গড়ে মাত্র ৩৬ সেকেন্ড।

  • প্রতিটি প্রশ্নের মান: ১ নম্বর। একমাত্র ব্যতিক্রম এ ইউনিটের গণিত — সেখানে ২০টি প্রশ্ন থাকবে, প্রতিটির মান ১.২৫ করে মোট ২৫ নম্বর।

  • নেগেটিভ মার্কিং: প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাৎ ৪টি ভুল উত্তরে ১ নম্বর চলে যাবে।

  • পাস নম্বর: সাধারণভাবে ৪০। তবে ডি১ উপ-ইউনিটে পাস নম্বর ৩৫।

  • সেকেন্ড টাইমার: দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৩ নম্বর কর্তন করা হবে।

  • ক্যালকুলেটর: পরীক্ষায় শুধু নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে — FX-100 বা তার নিম্নতর মডেল, যাতে মেমোরি অপশন নেই।


এই নিয়মগুলো জানা থাকলে বোঝা যায়, চবির পরীক্ষা শুধু জানার পরীক্ষা নয়, গতিরও পরীক্ষা। ১ ঘণ্টায় ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে পড়ার পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনার অনুশীলন অত্যন্ত জরুরি। আরেকটি কথা: পাস নম্বর পাওয়া আর ভর্তির সুযোগ পাওয়া এক কথা নয়। প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী পাস নম্বরের বেশি পেয়েও মেধাতালিকায় জায়গা না পেয়ে ভর্তি হতে পারে না — কারণ আসন সীমিত। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত পাস নম্বর ৪০ নয়, বরং যতটা সম্ভব বেশি নম্বর তুলে মেধাতালিকার উপরের দিকে থাকা। বিশেষ করে বি ও এ ইউনিটের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ ইউনিটে কাট-অফ নম্বর সাধারণত পাস নম্বরের চেয়ে অনেক ওপরে থাকে। সেকেন্ড টাইমারদের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি আরও কঠিন — ৩ নম্বর কর্তনের পর মেধাক্রম নির্ধারিত হয়, তাই তাঁদের আসল পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩ নম্বরের মার্জিন রেখে প্রস্তুতি নিতে হবে।

ইউনিটভিত্তিক মানবণ্টন

প্রতিটি ইউনিটের বিষয় ও নম্বর বণ্টন আলাদা। নিজের ইউনিটের মানবণ্টন মুখস্থ না থাকলে প্রস্তুতির গুরুত্ব ভুল জায়গায় পড়তে পারে। নিচে প্রতিটি ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ মানবণ্টন দেওয়া হলো।

এ ইউনিট (বিজ্ঞান)

বিষয়

নম্বর

ইংরেজি

২৫

পদার্থবিদ্যা / রসায়ন / গণিত / জীববিজ্ঞান (যেকোনো ৩টি)

২৫ × ৩ = ৭৫

মোট

১০০


এ ইউনিটে ইংরেজি বাধ্যতামূলক, আর বাকি চারটি বিষয় — পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান — থেকে যেকোনো তিনটি বিষয়ে উত্তর দিতে হয়। এখানে কৌশলগত সিদ্ধান্তটা খুব গুরুত্বপূর্ণ: চারটি বিষয়ই সমানভাবে পড়ার চেষ্টা না করে নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী তিনটি বিষয় বেছে নাও, আর দুর্বলতম বিষয়টি বাদ দাও। যেমন কারো জীববিজ্ঞানে দুর্বলতা থাকলে সে গণিত-পদার্থ-রসায়ন কম্বিনেশনে যেতে পারে; আবার মেডিকেল-মনস্ক শিক্ষার্থীরা জীববিজ্ঞান রেখে গণিত বাদ দিতে পারে। তবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি পরীক্ষার হলে গিয়ে নয়, এখন থেকেই নিয়ে সেই তিন বিষয়েই পূর্ণ মনোযোগ দাও। পাস নম্বর ৪০।

বি ইউনিট (কলা ও মানববিদ্যা)

বিষয়

নম্বর

বাংলা / ঐচ্ছিক ইংরেজি

৩০

ইংরেজি

৩০

সাধারণ জ্ঞান

৪০

মোট

১০০


বি ইউনিটে সবচেয়ে বেশি নম্বর সাধারণ জ্ঞানে — ৪০। বাংলা ও ইংরেজিতে ৩০ করে। একটি বিষয় মনে রাখা দরকার: গত চক্রে বি ইউনিটে শুধু মোট পাস নম্বরই নয়, ইংরেজিতে আলাদাভাবে ন্যূনতম ৬ নম্বর পাওয়ার শর্ত ছিল। অর্থাৎ ইংরেজি একদম অবহেলা করলে মোট নম্বর ভালো হলেও ঝামেলা হতে পারে। এবারের চূড়ান্ত শর্ত পূর্ণাঙ্গ ভর্তি নির্দেশিকায় জানা যাবে, তবে নিরাপদ থাকতে ইংরেজিতে নির্দিষ্ট একটি ন্যূনতম প্রস্তুতি ধরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বি১ উপ-ইউনিট (চারুকলা, নাট্যকলা, সংগীত)

বিষয়

নম্বর

বাংলা / ঐচ্ছিক ইংরেজি

২৫

ইংরেজি

২৫

সাধারণ জ্ঞান

৫০

মোট

১০০


বি১-এ সাধারণ জ্ঞানের ওজন অর্ধেক — ৫০ নম্বর। এর সঙ্গে ব্যবহারিক পরীক্ষাও আছে, যার কথা আগেই বলা হয়েছে।

বি২ উপ-ইউনিট (আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, পালি)

বিষয়

নম্বর

বাংলা / ঐচ্ছিক ইংরেজি

২০

ইংরেজি

২০

আরবি / ইসলামিক স্টাডিজ / পালি / সাধারণ জ্ঞান (যেকোনো ২টি)

৩০ × ২ = ৬০

মোট

১০০


বি২-এর বিশেষত্ব হলো শেষ অংশে: আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, পালি ও সাধারণ জ্ঞান — এই চারটি থেকে যেকোনো দুটি বিষয় বেছে উত্তর দিতে হয়, প্রতিটিতে ৩০ নম্বর করে। মাদ্রাসা পটভূমির শিক্ষার্থীরা সাধারণত আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বেছে নেন, কারণ সেখানে তাঁদের ভিত্তি শক্ত থাকে। যার যে দুটি বিষয়ে প্রস্তুতি সবচেয়ে ভালো, সে দুটিই বেছে নেওয়া উচিত — এখানে ৬০ নম্বর, অর্থাৎ পরীক্ষার সবচেয়ে বড় অংশটাই এই পছন্দের ওপর নির্ভর করে।

সি ইউনিট (ব্যবসায় প্রশাসন)

বিষয়

নম্বর

ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতা

৪০

বিশ্লেষণ দক্ষতা

৩০

সমস্যা সমাধান দক্ষতা

৩০

মোট

১০০


সি ইউনিটের পরীক্ষা বাকিগুলোর থেকে আলাদা — এখানে পাঠ্যবইয়ের বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের বদলে দক্ষতাভিত্তিক প্রশ্ন আসে। সবচেয়ে বড় অংশ ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা (৪০), তারপর বিশ্লেষণ দক্ষতা (৩০) ও সমস্যা সমাধান দক্ষতা (৩০)।

ডি ইউনিট (সমাজবিজ্ঞান, আইন ও অন্যান্য)

বিষয়

নম্বর

বাংলা / ঐচ্ছিক ইংরেজি

৩০

ইংরেজি

৩০

বিশ্লেষণ দক্ষতা

২০

সাধারণ জ্ঞান / গণিত / অর্থনীতি

২০

মোট

১০০


ডি ইউনিটে সব শাখার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারে, তাই প্রতিযোগিতা প্রচণ্ড। পাস নম্বর ৪০। শেষ অংশে সাধারণ জ্ঞান, গণিত ও অর্থনীতি থেকে প্রশ্ন থাকে — নিজের শক্তি অনুযায়ী এই অংশের প্রস্তুতি সাজাও।

ডি১ উপ-ইউনিট (ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্সেস)

বিষয়

নম্বর

বাংলা / ঐচ্ছিক ইংরেজি

৩০

ইংরেজি

৩০

সাধারণ জ্ঞান

২৫

গেমস অ্যান্ড স্পোর্টসের নীতিমালা

১৫

মোট

১০০


ডি১-এ পাস নম্বর তুলনামূলক কম — ৩৫। তবে এখানে মাঠ পরীক্ষাও দিতে হয়, তাই শুধু লিখিত প্রস্তুতিতে হবে না।

আসন সংখ্যা ও প্রতিযোগিতা

রুটিন ও মানবণ্টনের পর সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন: আমার ইউনিটে প্রতিযোগিতা আসলে কতটা? নিচের পরিসংখ্যানটি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (গত চক্রের) — এবারের আসন সংখ্যা পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকায় জানা যাবে, তবে প্রতিযোগিতার ছবিটা প্রায় একই রকম থাকার সম্ভাবনাই বেশি।


ইউনিট

আসন (সাধারণ)

আবেদন (গত চক্র)

প্রতি আসনে প্রতিযোগী

এ

১,০৯৩

৮৭,৬৯৬

≈ ৮০ জন

বি

৬৯০

৬৯,২৮৯

≈ ১০০ জন

বি১

১৩৫

১,৬৪৫

≈ ১২ জন

বি২

২৮০

৪,৮৪৯

≈ ১৭ জন

সি

৫১০

১৬,৯২৫

≈ ৩৩ জন

ডি

৮৪৯

৫১,৫১০

≈ ৬১ জন

ডি১

৪০

১,৪২১

≈ ৩৬ জন

মোট

≈ ৩,৫৯৭

≈ ২,৩৩,৩৫৫

—


ছবিটা পরিষ্কার: সবচেয়ে ভিড় বি ইউনিটে — প্রতি আসনের বিপরীতে প্রায় ১০০ জন। এরপর এ ইউনিটে প্রায় ৮০ জন ও ডি ইউনিটে প্রায় ৬১ জন। তুলনামূলকভাবে চাপ কম বি১ (আসনপ্রতি ≈১২ জন) ও বি২ (≈১৭ জন) উপ-ইউনিটে — তবে এগুলোতে বিভাগ নির্দিষ্ট ও ব্যবহারিক পরীক্ষার বিষয় আছে, তাই সবাই এসব ইউনিটে যেতে পারে না। সি ইউনিটে আসনপ্রতি প্রতিযোগী প্রায় ৩৩ জন — সংখ্যায় কম মনে হলেও দক্ষতাভিত্তিক প্রশ্নের কারণে কাট-অফ সাধারণত উঁচুতে থাকে। এই হিসাব থেকে শিক্ষা একটাই: জনপ্রিয় ইউনিটগুলোতে সুযোগ পেতে হলে শুধু পাস করলেই হবে না, মেধাতালিকার উপরের দিকে থাকতে হবে।

ইউনিটভিত্তিক প্রস্তুতি কৌশল

এ ইউনিটের প্রস্তুতি

এ ইউনিটে সফলতার মূল চাবিকাঠি সঠিক তিনটি বিষয় বেছে নেওয়া। দুর্বল বিষয়টি শুরুতেই বাদ দিয়ে শক্তিশালী তিনটিতে পূর্ণ শক্তি দাও। পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে সূত্র ও বিক্রিয়া বারবার অনুশীলন করো — প্রশ্ন সাধারণত মৌলিক ধারণা থেকেই আসে; অধ্যায়ভিত্তিক পড়ার পাশাপাশি ছোট ছোট গাণিতিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের চর্চা রাখো। জীববিজ্ঞান বেছে নিলে পাঠ্যবইয়ের তথ্যভিত্তিক অংশগুলো — বিশেষ করে সংজ্ঞা, শ্রেণিবিন্যাস ও চিত্রের লেবেল — বারবার ঝালিয়ে নাও, কারণ এসব জায়গা থেকে সরাসরি প্রশ্ন আসে। গণিত বেছে নিলে মনে রাখো, প্রশ্ন মাত্র ২০টি কিন্তু প্রতিটির মান ১.২৫ — তাই গণিতে ভুলের খরচ তুলনামূলক বেশি; নির্ভুলতায় জোর দাও এবং কঠিন অঙ্কে সময় আটকে না রেখে শেষে ফিরে আসার অভ্যাস করো। ইংরেজির ২৫ নম্বর অবহেলা করা যাবে না — অনেক বিজ্ঞান শিক্ষার্থী মূল বিষয়গুলোতে ভালো করেও শুধু ইংরেজিতে পিছিয়ে গিয়ে মেধাতালিকায় পিছিয়ে পড়ে। ব্যাকরণের মূল নিয়ম (Tense, Voice, Narration, Preposition, Right form of verbs) ও শব্দভাণ্ডার নিয়মিত পড়ো। আগের বছরগুলোর প্রশ্ন সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন ও কঠিনতার মাত্রা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

বি ও বি১/বি২ ইউনিটের প্রস্তুতি

বি ইউনিটে সবচেয়ে বেশি নম্বর সাধারণ জ্ঞানে (৪০), আর বি১-এ তো অর্ধেকই (৫০) সাধারণ জ্ঞান। তাই বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন, সংবিধান, ভৌগোলিক তথ্য, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ — এসব নিয়মিত পড়তে হবে। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাস এখানে সরাসরি নম্বর এনে দেয়। বাংলায় ব্যাকরণ অংশে (সমাস, সন্ধি, কারক, উপসর্গ, বাগধারা, এক কথায় প্রকাশ) নম্বর তোলা তুলনামূলক সহজ ও নির্ভরযোগ্য; সাহিত্য অংশে লেখক ও রচনা, ছদ্মনাম ও বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি মনে রাখায় জোর দাও। ইংরেজিতে ব্যাকরণের ভিত মজবুত করো — বিশেষ করে বি ইউনিটে আলাদা ন্যূনতম নম্বরের শর্ত থাকতে পারে বলে ইংরেজিকে কখনোই পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বি১-এর পরীক্ষার্থীরা লিখিত প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজ নিজ ব্যবহারিক ক্ষেত্রের (অঙ্কন, অভিনয়, সংগীত) অনুশীলন সমান্তরালে চালিয়ে যাবে। বি২-এর শিক্ষার্থীরা নিজের শক্তিশালী দুটি বিষয় (যেমন আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ) আগেভাগে ঠিক করে সেই দুটোতেই গভীর প্রস্তুতি নাও — কারণ সেখানেই ৬০ নম্বর।

সি ইউনিটের প্রস্তুতি

সি ইউনিটে পাঠ্যবই মুখস্থ করে লাভ হবে না — এটি দক্ষতার পরীক্ষা। ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতায় ৪০ নম্বর, তাই ইংরেজি পড়ার অভ্যাস বাড়াও — প্রতিদিন ইংরেজি অনুচ্ছেদ পড়ে মূলভাব ধরার চর্চা, বাক্য গঠন ও শব্দের সঠিক ব্যবহার অনুশীলন করো। বাক্যের ভুল ধরতে পারা (error detection) ও সঠিক শব্দ বাছাই (vocabulary in context) জাতীয় প্রশ্নে দক্ষতা সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়ে, তাই এখন থেকেই নিয়মিত চর্চা শুরু করো। বিশ্লেষণ দক্ষতার জন্য যুক্তিভিত্তিক প্রশ্ন (ধারাবাহিকতা, সাদৃশ্য, বিবৃতি-যুক্তি, সত্য-মিথ্যা নির্ণয়) অনুশীলন করো। সমস্যা সমাধান দক্ষতায় সাধারণ গাণিতিক যুক্তি ও শতকরা, অনুপাত, গড়, লাভ-ক্ষতি জাতীয় হিসাব দ্রুত করার চর্চা রাখো — খাতায় বিস্তারিত না লিখে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে (shortcut) উত্তর বের করার কৌশল শেখো। মডেল টেস্ট দিয়ে সময়ের মধ্যে উত্তর করার অভ্যাস গড়ে তোলাই এখানে সবচেয়ে কাজের কৌশল, কারণ এই ইউনিটে জানা বিষয়ও সময়ের অভাবে অনেকে উত্তর দিতে পারে না।

ডি ও ডি১ ইউনিটের প্রস্তুতি

ডি ইউনিটে বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে ৬০ নম্বর — এই দুটি বিষয়ে শক্ত ভিত থাকলে বাকি পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। আইন বিভাগসহ জনপ্রিয় বিষয়গুলো এই ইউনিটের অধীনে থাকায় এখানে কাট-অফ সাধারণত বেশ উঁচুতে থাকে, তাই বাংলা-ইংরেজিতে সর্বোচ্চ নম্বর তোলার লক্ষ্য রাখো। বিশ্লেষণ দক্ষতার ২০ নম্বরের জন্য নিয়মিত যুক্তিমূলক প্রশ্ন অনুশীলন করো — এই অংশটি অনুশীলনে সবচেয়ে দ্রুত উন্নতি হয়। শেষ অংশে (সাধারণ জ্ঞান/গণিত/অর্থনীতি) নিজের পটভূমি অনুযায়ী যেদিকে শক্তি বেশি, সেদিকে ঝোঁক দাও: মানবিক পটভূমির শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ জ্ঞান, বাণিজ্য পটভূমির জন্য অর্থনীতি/গণিত সুবিধাজনক হতে পারে। ডি১-এর পরীক্ষার্থীরা লিখিত প্রস্তুতির পাশাপাশি মাঠ পরীক্ষার জন্য শারীরিক অনুশীলন চালিয়ে যাও — দৌড় ও সাধারণ ফিটনেস চর্চা বন্ধ করো না, আর গেমস অ্যান্ড স্পোর্টসের নীতিমালা অংশের (১৫ নম্বর) জন্য খেলাধুলার মৌলিক নিয়মকানুন ও পরিভাষা আলাদাভাবে পড়ে নাও।

নেগেটিভ মার্কিং এড়িয়ে উত্তর করার কৌশল

চবির পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় ভুল হলো অন্ধ অনুমানে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ কাটা যায় — অর্থাৎ না জানা ২০টি প্রশ্নে অনুমানে উত্তর দিলে গড়ে বেশ কয়েক নম্বর উল্টে হারাতে হবে। কৌশল হওয়া উচিত এমন:


  • প্রথম round-এ সহজ প্রশ্ন: যেসব প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত জানো, সেগুলো আগে শেষ করো। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, সময়ও বাঁচে।

  • দ্বিতীয় round-এ মাঝারি প্রশ্ন: যেখানে দুটি অপশন বাদ দিতে পারছ, সেখানে সম্ভাবনা তোমার পক্ষে ৫০-৫০ — এমন প্রশ্নে উত্তর দেওয়া যুক্তিসংগত। কিন্তু যেখানে চারটি অপশনই সমান অচেনা, সেটি ছেড়ে দেওয়াই লাভজনক।

  • সময় ভাগ করে নাও: ১০০ প্রশ্নের জন্য ৬০ মিনিট — মোটামুটি প্রতি ২৫ প্রশ্নে ১৫ মিনিট ধরে এগোও। কোনো একটি প্রশ্নে আটকে গেলে সেখানে সময় নষ্ট না করে চিহ্ন দিয়ে এগিয়ে যাও, শেষে সময় থাকলে ফিরে এসো।

  • শেষ ৫ মিনিট রাখো যাচাইয়ের জন্য: OMR শিটে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও সেট কোড ঠিকমতো পূরণ হয়েছে কিনা মিলিয়ে দেখো — এই ভুলে পুরো খাতাই বাতিল হতে পারে।


একটি সহজ হিসাব মনে রাখো: ধরো, তুমি ৭০টি প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত জানো এবং বাকি ৩০টির মধ্যে ১৫টিতে দুটি করে অপশন বাদ দিতে পারছ (অর্থাৎ সম্ভাবনা ৫০-৫০), আর ১৫টি একেবারেই অজানা। অজানা ১৫টি ছেড়ে দিলে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু ৫০-৫০ প্রশ্নগুলোর অর্ধেকও যদি ঠিক হয়, সেখান থেকে বাড়তি নম্বর আসবে — ভুলগুলোর কর্তন বাদ দিয়েও নিট লাভ থাকার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে একেবারে অজানা প্রশ্নে অনুমানে উত্তর দিলে প্রত্যাশিত হিসাব তোমার বিপক্ষে যায়। তাই নিয়ম হোক: কমপক্ষে দুটি অপশন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাদ দিতে পারলেই কেবল ঝুঁকি নাও, নইলে ছেড়ে দাও। এই শৃঙ্খলাটাই মডেল টেস্টের মাধ্যমে এখন থেকে গড়ে তুলতে হবে।

পরীক্ষার দিনের চেকলিস্ট

পরীক্ষার আগের রাতেই সব গুছিয়ে রাখো, যাতে সকালে তাড়াহুড়ো না হয়:


যা অবশ্যই নেবে:

  • প্রবেশপত্র (Admit Card) — প্রয়োজনে দুটি প্রিন্ট কপি

  • কালো/নীল বলপয়েন্ট কলম (কয়েকটি অতিরিক্ত)

  • অনুমোদিত নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর (FX-100 বা নিম্নতর মডেল) — যেসব ইউনিটে প্রয়োজন

  • এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড/প্রবেশপত্র (নোটিশে চাইলে)


যা নেওয়া যাবে না:

  • মোবাইল ফোন

  • স্মার্টওয়াচ বা যেকোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র

  • প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর, হেডফোন, ব্লুটুথ ডিভাইস


দিনের পরিকল্পনা:

  • কেন্দ্র চবি ক্যাম্পাসে হলে মনে রাখো, ক্যাম্পাস শহর থেকে বেশ দূরে — হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে বের হও। ঢাবি বা রাবি কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও যানজটের কথা ভেবে অন্তত এক ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখো।

  • আসন বিন্যাস (সিট প্ল্যান) আগের দিন ওয়েবসাইটে বা কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে দেখে নাও।

  • আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাও — শেষ মুহূর্তে নতুন কিছু পড়ার চেষ্টা না করে হালকা রিভিশন দাও।

পরীক্ষার পরের ধাপসমূহ

পরীক্ষা শেষ মানেই প্রক্রিয়া শেষ নয়। এর পরের ধাপগুলো সাধারণত এভাবে এগোয় — প্রতিটি ধাপের তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী জানানো হবে:


  1. ফলাফল ও মেধাতালিকা: প্রতিটি ইউনিটের ফলাফল ও মেধাতালিকা admission.cu.ac.bd ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। নিজের রোল নম্বর দিয়ে ফলাফল দেখে নিতে হয়।

  2. বিষয় পছন্দক্রম: মেধাতালিকায় স্থান পেলে নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে বিভাগ/বিষয়ের পছন্দক্রম দিতে হয়। পছন্দক্রম দেওয়ার সময় নিজের আগ্রহ ও মেধাক্রম — দুটোই ভেবেচিন্তে সাজাও, কারণ এই ক্রম অনুযায়ীই বিষয় বরাদ্দ হয়।

  3. মূল ভর্তি: বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত তারিখে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভর্তি সম্পন্ন করতে হয়। এ সময় এসএসসি ও এইচএসসির মূল সনদপত্র ও নম্বরপত্র, ছবি, প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয় — কী কী লাগবে, তার তালিকা নোটিশে দেওয়া থাকে।

  4. অপেক্ষমাণ তালিকা: আসন ফাঁকা থাকলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ধাপে ধাপে ভর্তি নেওয়া হয়। মেধাতালিকার একটু বাইরে থাকলেও তাই হাল ছাড়ো না — নিয়মিত ওয়েবসাইটে খোঁজ রাখো।


প্রতিটি ধাপের সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হয় — একটি ধাপ মিস করলে আসন হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই পরীক্ষার পরেও নিয়মিত admission.cu.ac.bd চেক করা অভ্যাস করে ফেলো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: চবি ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭ কবে শুরু হবে?

উত্তর: ২৯ জানুয়ারি ২০২৭, সি ইউনিটের পরীক্ষা দিয়ে শুরু হবে। শেষ পরীক্ষা ৮ ফেব্রুয়ারি, ডি১ উপ-ইউনিটের।


প্রশ্ন: আমার পরীক্ষা কোন কেন্দ্রে হবে — চট্টগ্রাম, ঢাকা নাকি রাজশাহী?

উত্তর: এ, বি, সি ও ডি ইউনিটের পরীক্ষা চবি, ঢাবি ও রাবি ক্যাম্পাসে একই দিনে একই সময়ে হবে; আবেদনের সময় তুমি যে কেন্দ্র পছন্দ করেছ, সেখানেই পরীক্ষা দেবে। তবে বি১, বি২ ও ডি১ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা শুধু চবি ক্যাম্পাসে হবে।


প্রশ্ন: নেগেটিভ মার্কিং কত?

উত্তর: প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে — অর্থাৎ ৪টি ভুলে ১ নম্বর।


প্রশ্ন: পাস নম্বর কত?

উত্তর: সাধারণভাবে ১০০-এর মধ্যে ৪০। শুধু ডি১ উপ-ইউনিটে পাস নম্বর ৩৫।


প্রশ্ন: সেকেন্ড টাইমারদের কত নম্বর কাটা হয়?

উত্তর: দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিলে মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৩ নম্বর কর্তন করা হয়।


প্রশ্ন: এ ইউনিটে গণিতে কয়টি প্রশ্ন থাকে?

উত্তর: ২০টি প্রশ্ন, প্রতিটির মান ১.২৫ — মোট ২৫ নম্বর। অন্য সব বিষয়ে প্রশ্নপ্রতি মান ১।


প্রশ্ন: পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর নেওয়া যাবে কি?

উত্তর: যাবে, তবে শুধু নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর — FX-100 বা নিম্নতর মডেল, যাতে মেমোরি অপশন নেই।


প্রশ্ন: একাধিক ইউনিটে পরীক্ষা দেওয়া যাবে কি?

উত্তর: হ্যাঁ। যোগ্যতা থাকলে একাধিক ইউনিটে আবেদন ও পরীক্ষা দেওয়া যায় — রুটিনও এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে তারিখে সংঘর্ষ না হয় (এ জন্য প্রতিটি ইউনিটের আবেদন আলাদাভাবে করতে হয়)।


প্রশ্ন: ব্যবহারিক পরীক্ষা কাদের দিতে হয়?

উত্তর: বি১ উপ-ইউনিটের (চারুকলা, নাট্যকলা, সংগীত) পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারিক/মৌখিক এবং ডি১ উপ-ইউনিটের পরীক্ষার্থীদের মাঠ পরীক্ষা দিতে হয়। তারিখ পরে নোটিশে জানানো হবে।


প্রশ্ন: ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল কোথায় পাওয়া যাবে?

উত্তর: admission.cu.ac.bd ওয়েবসাইটে মেধাতালিকাসহ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

শেষ কথা

২৯ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি — মাত্র ১১ দিনের মধ্যে সব পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে, আর প্রস্তুতির জন্য হাতে আছে আবেদনের শেষ তারিখ ১০ ডিসেম্বরের পরও প্রায় সাত সপ্তাহ। এই সময়টা কীভাবে ব্যবহার করবে, সেটাই ঠিক করে দেবে তুমি মেধাতালিকার কোথায় থাকবে। রুটিন অনুযায়ী নিজের ইউনিটের তারিখ থেকে উল্টো হিসাব করে পড়ার পরিকল্পনা সাজাও, মানবণ্টন অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক ওজন দাও, আর প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুটি করে পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দাও — ১ ঘণ্টায় ১০০ প্রশ্নের গতিটা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ। আবেদনের যোগ্যতা, ফি ও ধাপে ধাপে আবেদনের নিয়ম জানতে আমাদের চবি ভর্তি সার্কুলার ও আবেদন গাইড পোস্টটি পড়ে নাও — দুটি লেখা মিলিয়ে চবি ভর্তি ২০২৬-২৭ নিয়ে তোমার আর কোনো তথ্যের ঘাটতি থাকবে না। সবার জন্য শুভকামনা!


মন্তব্য করুন