সহকারী শিক্ষক
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ
প্রতিদিনের চলাচলে সচেতনতা: নিরাপদ সড়ক গড়ার প্রত্যয়
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অংশ হলো যাতায়াত, যার মূল মাধ্যম হলো সড়ক। ঘর থেকে বের হওয়ার পর প্রতিটি মানুষের মনেই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং দিন শেষে সুস্থভাবে প্রিয়জনের কাছে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রতিদিনের খবরের কাগজ কিংবা টিভি স্ক্রিনে সড়ক দুর্ঘটনার যে করুণ চিত্র ভেসে ওঠে, তা যে কাউকে গভীরভাবে আতঙ্কিত ও বেদনাহত করে। একটি দুর্ঘটনা কেবল একজন মানুষের জীবন প্রদীপই নিভিয়ে দেয় না, বরং পুরো পরিবারকে আজীবন কান্নার সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এই নির্মম বাস্তবতা থেকে মুক্তি পেতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রতি বছর ২২ অক্টোবর বাংলাদেশে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালিত হয় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবার আগে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কেবল সরকারের একাই দায়িত্ব নয়, এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। অনেক সময় দেখা যায় তাড়াহুড়ো করে রাস্তা পার হওয়া, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা কিংবা ওভারটেকিং করার অদম্য মানসিকতাই ডেকে আনে মারাত্মক বিপদ। এছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, অদক্ষ চালকদের হাতে স্টিয়ারিং তুলে দেওয়া এবং নির্ধারিত গতির চেয়ে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে চালক, যাত্রী এবং পথচারী—সবার মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। চালকদের হতে হবে আরও দায়িত্বশীল ও ধৈর্যশীল, যাত্রীদের সচেতন হতে হবে চলন্ত বাসে ওঠা বা নামার সময় ঝুঁকি না নেওয়ার বিষয়ে, আর পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ বা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পারাপারে অভ্যস্ত হতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা ও সচেতনতা গড়ে তোলা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে চমৎকার সুফল বয়ে আনতে পারে। এছাড়া প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে আধুনিক সংকেত ব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়কের বেহাল দশা দূর করা এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আসুন, জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এই দিনে আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিজ্ঞা করি যে নিজে ট্রাফিক আইন মানব এবং অন্যকেও সচেতন করব। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই আমরা গড়ে তুলতে পারব একটি নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও প্রাণহানিহীন সড়ক ব্যবস্থা।
৮
৮ মন্তব্য