সহকারী শিক্ষক
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আই. কম. স্যার—স্নেহ, ধৈর্য ও আন্তরিকতার এক অনন্য শিক্ষক
জনাব শামসুল ইসলাম, সবার কাছে পরিচিত ‘আই. কম. স্যার’ নামে। তিনি কলাউজান শাহ রশিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার সাবেক সহকারী শিক্ষক। বর্তমানে অবসরজীবন কাটাচ্ছেন। তাঁর বাড়ি চরম্বা ইউনিয়নের বিবিরবিলা গ্রামে।
স্যার ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, বিনয়ী ও ধীরস্থির স্বভাবের মানুষ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারতেন। পড়া না পারলেও রাগ করতেন না; বরং ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দিতেন। ক্লাসে বেত নিয়ে আসতেন না, অথচ দ্রুত সিলেবাস শেষ করতেন। মজার ছলে বলতেন, বছরে একবারই শাস্তি দেবেন!
তখন আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন ভর্তি হয়েছি। এর আগে একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে প্রথম স্থান অধিকার করায় অনেক শিক্ষকই আমার সম্পর্কে জানতেন। স্যারও আমার প্রতি বেশ আন্তরিক ছিলেন।
স্যার সম্ভবত আমাদের ভূগোল পড়াতেন। স্বভাবত বিষয়টি সবার কাছে কঠিন ছিল । পড়া দিয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, না পারলে বাৎসরিক শাস্তি জুটতে পারে। কিন্তু সেদিন কারও পড়াই ভালোভাবে শেখা হয়নি।
টিফিন পিরিয়ডে আমি আর হাফেজ আবুল ফয়েজ মাদরাসার পূর্ব পাশে গাংগুলা গাছের দিকে চলে গিয়েছিলাম। ক্লাস শেষে ধীরে ধীরে ফিরছিলাম। মনে ভয় ছিল, এবার বুঝি সেই বাৎসরিক শাস্তি পেতেই হবে! কিন্তু পরদিন স্যার আর শাস্তি দিলেন না। সেবারের মতো বেঁচে গেলাম তাঁর কথিত বাৎসরিক শাস্তি থেকে!
স্যারের ঠান্ডা মেজাজের আরেকটি ঘটনা মনে পড়ে। একদিন আমাদের এক সহপাঠীকে নিয়ে একজন ছাত্রী স্যারের কাছে অভিযোগ করেছিল। স্যার মেয়েটিকে রাগারাগি না করে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলেছিলেন, রাগ এলে কদু খেতে হয়, যাতে মেজাজ ঠান্ডা থাকে!
স্যার শাসনের পরিবর্তে আন্তরিকতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দিতে পছন্দ করতেন।
শিক্ষক হিসেবে স্যারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবাসা ও ধৈর্যের মাধ্যমে শেখাতে চাইতেন।
প্রিয় আই. কম. স্যার, আপনার সুস্থতা, দীর্ঘ নেক হায়াত ও কল্যাণময় অবসরজীবন কামনা করি। আপনার স্নেহমাখা আচরণ ও শিক্ষাদানের স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকুক দীর্ঘকাল। আল্লাহ তাআলা আপনার শিক্ষকতাজীবনকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করুন।
اللَّهُمَّ احْفَظْ أُسْتَاذَنَا، وَبَارِكْ فِي عُمْرِهِ وَصِحَّتِهِ وَعِلْمِهِ وَعَمَلِهِ، وَارْزُقْهُ صِحَّةً تَامَّةً، وَعَافِيَةً دَائِمَةً، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَقَلْبًا مُطْمَئِنًّا، وَعَيْشًا سَعِيدًا، وَاجْعَلْ كُلَّ مَا عَلَّمَنَا إِيَّاهُ فِي مِيزَانِ حَسَنَاتِهِ، وَاجْزِهِ عَنَّا خَيْرَ الْجَزَاءِ، وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَاجْعَلْهُ مِنْ أَهْلِ الْفَضْلِ وَالْإِحْسَانِ، وَأَطِلْ عُمْرَهُ عَلَى طَاعَتِكَ وَرِضَاكَ، وَأَسْعِدْهُ فِي الدَّارَيْنِ، وَاخْتِمْ لَنَا وَلَهُ بِالْحُسْنَى، يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ.
হে আল্লাহ! আমাদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদকে আপনার হেফাজতে রাখুন। তাঁর বয়স, স্বাস্থ্য, জ্ঞান ও কর্মে বরকত দান করুন। তাঁকে পরিপূর্ণ সুস্থতা, নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা, প্রশস্ত রিজিক, প্রশান্ত হৃদয় ও সুখময় জীবন দান করুন। তিনি আমাদের যা কিছু শিখিয়েছেন, সেসবকে তাঁর নেকির পাল্লায় ভারী করে দিন। আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। তাঁকে অনুগ্রহ ও কল্যাণের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনার আনুগত্য ও সন্তুষ্টির পথে তাঁর জীবনকে দীর্ঘ করুন। উভয় জগতে তাঁকে সুখী করুন এবং আমাদের ও তাঁর পরিণতি কল্যাণময় করুন। হে সর্বাধিক দয়ালু!
اللَّهُمَّ كَمَا أَنْعَمْتَ عَلَيْنَا بِعِلْمِهِ وَتَرْبِيَتِهِ، فَأَنْعِمْ عَلَيْهِ بِفَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ، وَاجْعَلْهُ نُورًا لِطُلَّابِ الْعِلْمِ، وَذُخْرًا لِلْأُمَّةِ، وَبَارِكْ فِي آثَارِهِ وَأَعْمَالِهِ مَا تَعَاقَبَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ. آمِينَ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ.
অর্থ: হে আল্লাহ! তাঁর জ্ঞান ও শিক্ষার মাধ্যমে আপনি যেমন আমাদের অনুগ্রহ করেছেন, তেমনি আপনার দয়া ও অনুগ্রহে তাঁকেও পরিপূর্ণভাবে ধন্য করুন। তাঁকে জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জন্য আলোর দিশারি এবং উম্মাহর জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কবুল করুন। রাত-দিনের আবর্তন যত দিন চলবে, তাঁর কর্ম ও অবদানে বরকত দান করুন। আমিন, হে জগৎসমূহের প্রতিপালক!
১৮
২৯ মন্তব্য