Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৪০ পূর্বাহ্ণ

KWLH শিখন শেখানো কৌশল

KWLH শিখন কৌশল 

১. KWLH শিখন কৌশল কী?

KWLH একটি কার্যকর, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও অনুসন্ধানমূলক শিখন কৌশল। এই কৌশলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোনো বিষয় সম্পর্কে আগে কী জানে, কী জানতে চায়, কী শিখেছে এবং কীভাবে আরও শিখতে পারে তা নির্ধারণ করে।

KWLH-এর চারটি অক্ষরের অর্থ হলো—

  • K (Know): আমি কী জানি?
  • W (Want to Know): আমি কী জানতে চাই?
  • L (Learned): আমি কী শিখেছি?
  • H (How to Learn): আমি কীভাবে আরও শিখব?

২. KWLH শিখন কৌশলের চিত্র

উদাহরণ: আমাদের পরিবেশ

K — আমি কী জানি? W — আমি কী জানতে চাই? L — আমি কী শিখেছি? H — কীভাবে আরও শিখব?
পরিবেশে জীব ও জড় উপাদান রয়েছে। পরিবেশের উপাদানগুলো কী কী? পরিবেশের উপাদান দুই প্রকার—জীব ও জড়। বই পড়ে ও শিক্ষকের সাহায্য নিয়ে।
গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। পরিবেশ কীভাবে রক্ষা করা যায়? গাছ লাগানো পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করে। প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করে।
দূষণ পরিবেশের ক্ষতি করে। পরিবেশদূষণ কীভাবে কমানো যায়? বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৃক্ষরোপণ দূষণ কমাতে সাহায্য করে। ইন্টারনেট ব্যবহার ও দলগত আলোচনার মাধ্যমে।

৩. KWLH শিখন কৌশলের প্রয়োগের ধাপ

প্রথম ধাপ: বিষয় নির্বাচন শিক্ষক যে বিষয়টি শেখাতে চান, তা নির্বাচন করবেন। যেমন—আমাদের পরিবেশ, উদ্ভিদ, প্রাণী বা পানি।

দ্বিতীয় ধাপ: K (Know) পূরণ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করবেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে কী জানে। শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বজ্ঞান প্রকাশ করবে এবং শিক্ষক তা লিখে রাখবেন।

তৃতীয় ধাপ: W (Want to Know) পূরণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সম্পর্কে কী জানতে চায়, তা প্রশ্নের আকারে লিখবে। এর ফলে শেখার লক্ষ্য নির্ধারিত হবে।

চতুর্থ ধাপ: পাঠদান ও অনুসন্ধান শিক্ষক আলোচনা, বই পড়া, দলগত কাজ, পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন শিক্ষণ উপকরণের মাধ্যমে বিষয়টি শেখাবেন।

পঞ্চম ধাপ: L (Learned) পূরণ পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা নতুন কী কী শিখেছে, তা লিখবে এবং পূর্বজ্ঞান ও নতুন জ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করবে।

ষষ্ঠ ধাপ: H (How to Learn) পূরণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সম্পর্কে আরও জানার জন্য কী কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে, তা নির্ধারণ করবে। যেমন—বই পড়া, ইন্টারনেট ব্যবহার, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষকের সাহায্য নেওয়া।

সপ্তম ধাপ: মূল্যায়ন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উত্তর পর্যালোচনা করবেন, প্রয়োজনীয় সংশোধন করবেন এবং তাদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়ন করবেন।

৪. KWLH শিখন কৌশলের সুবিধা

১. শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান সক্রিয় করে। ২. শিক্ষার্থীদের কৌতূহল ও জানার আগ্রহ বৃদ্ধি করে। ৩. শেখার উদ্দেশ্য নির্ধারণে সাহায্য করে। ৪. নতুন জ্ঞান অর্জন ও দীর্ঘদিন মনে রাখতে সহায়তা করে। ৫. শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। ৬. স্বাধীনভাবে চিন্তা ও অনুসন্ধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। ৭. আত্মমূল্যায়ন ও স্বনির্ভর শিখনের অভ্যাস গড়ে তোলে।

৫. KWLH শিখন কৌশলে শিক্ষকের ভূমিকা

১. উপযুক্ত শিখন বিষয় নির্বাচন করা। ২. শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান যাচাই করা। ৩. প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করা। ৪. পাঠদান ও অনুসন্ধানমূলক কাজে সহায়তা করা। ৫. শিক্ষার্থীদের শেখা বিষয়গুলো লিখতে উৎসাহিত করা। ৬. আরও শেখার উপায় নির্ধারণে নির্দেশনা দেওয়া। ৭. শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি মূল্যায়ন করা।


KWLH শিখন কৌশল একটি আধুনিক ও কার্যকর শিখন পদ্ধতি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পূর্বজ্ঞান কাজে লাগিয়ে নতুন জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও শেখার উপায় নির্ধারণ করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের সক্রিয়, অনুসন্ধানমূলক ও স্বনির্ভর শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তুলতে KWLH শিখন কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ