সহকারী শিক্ষক
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৬:২৮ অপরাহ্ণ
সময়ের প্রয়োজনেই পরিবর্তন
সময়ের প্রয়োজনেই পরিবর্তন!
আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। নানীবাড়ি গেছি। ভোরবেলা কুয়াশা ভেদ করে সূর্য উঠছে, আমি মাথায় একটা পাতলা গামছা পেঁচিয়ে মাঠের দিকে হাঁটা দিয়েছি।
নানী পেছন থেকে ডাক দিল, "এই! এই ! এইটুক গামছায় শীত আটকাবে? জ্বর বাঁধাবি তো!"
আমি পাত্তা দিলাম না। মনে মনে বললাম, নানী খালি বেশি বেশি বলে।
নানী জোর করে আমাকে একটা মোটা চাদর এনে জড়িয়ে দিলেন। গরমে ঘেমে গেলেও তখন আর কিছু বলিনি।
ঠিক তার ছয় মাস পর। জৈষ্ঠ্য মাস। খাঁ খাঁ দুপুর। ৪০ ডিগ্রি গরমে রোদে মাটি ফাটছে।
আমি আবার বের হচ্ছি। এবার গায়ে সেই মোটা চাদরটা। কারণ আগেরবার নানী বকেছিল। ভাবলাম, নানীর কথা শুনলে আর বকা খাব না।
রাস্তায় বের হতেই পাশের বাড়ির রফিক চাচা হো হো করে হেসে উঠল, "কিরে, চাদর মুড়ি দিয়া কই যাস? শীতকাল নাকি?"
স্কুলের সামনে ছেলেরা আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে। সবাই হাসছে।
আমি লজ্জায় মরে যাচ্ছি। দৌড়ে বাড়ি এসে চাদরটা খুলে ফেললাম।
সেদিন দুপুরে নানী ভাত বেড়ে দিতে দিতে বললেন,
"বুঝলি ভাই, তোর ভুলটা চাদর বা গামছায় না। ভুলটা সময়ে।"
আমি অবাক হয়ে তাকালাম।
নানী বললেন, "শীতের সকালে পাতলা গামছা যেমন বোকামি, গরমের দুপুরে মোটা চাদরও তেমনই বোকামি। দুই জায়গাতেই তুই কষ্ট পাবি। মানুষ একটায় তোকে বকবে, আরেকটায় হাসবে।"
আমি চুপ করে রইলাম।
নানী হেসে বললেন, "জীবনটাও এমনই। সব জিনিসের একটা সময় আছে, একটা জায়গা আছে। সময় বুঝে না চললে, ভালো জিনিসটাও খারাপ হয়ে যায়।"
সেদিন বুঝলাম, আমি দুইবারই ভুল করেছিলাম। একবার শীতকে হালকাভাবে নিয়ে, আরেকবার গরমকে গুরুত্ব দিয়ে।
ভুলের ধরন আলাদা ছিল, কিন্তু শিক্ষাটা একই ছিল — *পরিস্থিতি বোঝা।*
এখন আর কেউ বকে না, কেউ হাসেও না। কারণ এখন শীতের সকালে আমি নিজেই মোটা চাদর খুঁজি, আর গরমের দুপুরে একটা পাতলা গামছাও গায়ে রাখতে ইচ্ছা করে না।
৮
৮ মন্তব্য