সহকারী অধ্যাপক
১০ জানুয়ারি, ২০১৪ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
আলিম ১ম বর্ষ,আরবী ১ম
রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবের মুশরিকদের নিকট প্রেরিত হওয়ার শুরুতেই তারা তাকে মিথ্যারোপ করলো। আল্লাহর রীতিনুযায়ী সকল রাসূলদের শুরুকালটা এমনি হয়। কারণ সকল জাহিলি যুগেই নেতৃবৃন্দের পক্ষে কখনোই সম্ভব হয়না। “লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ” আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন উপাস্য নেই। এই বাক্যের কাছে আত্মসমর্পন করা। যার অর্থ দাঁড়ায় তাদের কাছে কুক্ষিগত সকল ক্ষমতা যা প্রয়োগ করে তারা মানুষের উপর বড়ত্ব জাহির করতো। প্রকৃত উপাসনা আল্লাহকে প্রত্যার্পণ করা। উপাস্য হওয়ার পরিবর্তে আল্লাহর ভৃত্য হওয়াতে সন্তুষ্ট হওয়া। তারা যে মিথ্যা প্রতিপালকের দাবী করতো তা হতে ফিরে আসা। হালাল-হারামের বিধান দাতার দাবী থেকে সরে আসা। যা হতো বানোয়াট উপাস্যের ছত্র ছায়ায়। ভৃত্য- সমপ্রদায় তারাও খুব সহজে لاإله إلا الله এর আহ্বানে সাড়া দিতোনা। কারণ এটা ছিল তাদের পরিচিত নিয়মের বিরোধী এবং তারা প্রভূ শ্রেণী কে ভয় করতো। ভেজাল প্রভূদের কর্মকাণ্ড তাদের ভিতর প্রভু ভীতির জন্ম দিয়েছিল। অন্য কারণ হলো তারা কু-প্রবৃত্তিতে ডুবে ছিল।
যখনই তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যাবাদী বলতো অবশ্যই তারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে পড়তো। রাসূল যে সু উচ্চ ভাষায় কথা বলতো সে ভাষা অলংকারের রহস্য উদঘাটন করার এবং এটা যে আল্লাহ প্রদত্ব ঐশী কালাম সে ¯^xK…wZ দেয়ার। অথবা সাধারণ মানুষের মুখামুখী হওয়ার। কারণ তারা গ্রহণ যোগ্য উত্তর নেতৃবৃন্দের থেকে না ফেলে তাদের আনুগত্য A¯^xKvi করবে। মানে কোরাইশ নেতৃত্বের পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে। এতে তাদের ক্ষমতা খর্ব হবে, যে ক্ষমতা তাদের সকল দাম্ভিকতার মূলে কাজ করছে। ফলে সঠিক উত্তর এড়িয়ে তারা বললো: নিশ্চয় সে হলো যাদুকর, গনক, পাগল, জ্বীন তার কাছে বিভিন্ন বিষয় পৌছায় এবং সে তা বলে বেড়ায়।
তারা মিথ্যাবদী এটা তারা খুব ভালো করেই জানতো। প্রমান ¯^iƒc একটি ঘটনা। ওয়ালীদ ইবনে মগীরাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কুরআন শ্রবন করে তার কাউম বনী মাখজুম কে বললো
والله لقد سمعت من محمد آنفا كلاما ما هو من كلام الإنس ولا من كلام الجن وإن له لحلاوة وإن عليه لطلاوة وإن أعلاه لمثمر وإن أسفله لمغدق وإنه يعلو ولا يعلى.
আল্লাহর শপথ একটু আগে মুহাম্মদের নিকট এমন কিছু কথা শুনেছি যা, না কোন মানুষের কথা, না কনো জ্বীনের কথা তার কথায় রযেছে মাধুর্যতা, রয়েছে কমনীয়তা তার বাহ্যিক আবরণ হৃদয়গ্রাহী এবং অভ্যন্তরভাগে প্রবাহিত রয়েছে এক স্নিগ্ধ ফলগুধারা এটা নিশ্চয়ই সবার উর্দ্ধে থাকবে এবং তার উপর কেউ প্রবল হতে পারবেনা। তার এ বক্তব্য যখন কোরাইশ ব্যক্তিবর্গ শুনলো তারা বললো ওলীদ মুহাম্মদের ধর্মে ঝুঁকে পড়েছে। এতে করে নিশ্চয় পুরো কোরাইশ মুহাম্মদের আদর্শে ঝুঁকে যাবে। অতঃপর আবু জাহিল বললো! তার সাথে ব্যাপারটা আমি দেখছি। আবু জাহিল তার নিকট গিয়ে মন্ত্রের মত তার সাথে আলাপ সেরে তাকে তপ্ত করে ফেলে। এরপর ওলীদ ফিরে এসে কোরাইশদের উদ্দেশ্যে ভাষণে বললোঃ আপনাদের ধারণা মুহাম্মদ পাগল তাকে কি দিশেহারা হতে দেখেছেন? আপনারা বলেন সে গনক ভবিষ্যদ্বক্তা তাকে কি গণনা করতে, ভবিষ্যদ্বানী করতে দেখেছেন? আপনারা মনে করেন সে একজন কবি তাকে কি দেখেছেন কখনো কবিতা চর্চা করতে? আপনারা মনে করেন সে মিথ্যাবাদী তার মাঝে মিথ্যার লেশ মাত্র থাকার অভিজ্ঞতা কি কারো কাছে আছে? প্রতিবারেই তাদের প্রশ্ন করলেন তারা সকলে প্রতিবারেই উত্তরে বললো “ أللهم لا না আমরা এসব দেখেনি। সকলে বললো তাহলে তাকে আমরা কি বলবো? ওয়ালীদ কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললঃ আমরা তাকে যাদুকর বলবো, তোমরা কি লক্ষ্য করোনি সে পৃথক করে ব্যক্তি ও তার পরিবার, সন্তান ও তার অভিভাবকের মাঝে? এ ঘটনাটি মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন এভাবে-
ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا ﴿11﴾ وَجَعَلْتُ لَهُ مَالًا مَمْدُودًا ﴿12﴾وَبَنِينَ شُهُودًا ﴿13﴾ وَمَهَّدْتُ لَهُ تَمْهِيدًا ﴿14﴾ ثُمَّ يَطْمَعُ أَنْ أَزِيدَ ﴿15﴾ كَلَّا إِنَّهُ كَانَ لِآَيَاتِنَا عَنِيدًا ﴿16﴾ سَأُرْهِقُهُ صَعُودًا ﴿17﴾ إِنَّهُ فَكَّرَ وَقَدَّرَ ﴿18﴾ فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ ﴿19﴾ ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ ﴿20﴾ ثُمَّ نَظَرَ ﴿21﴾ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ﴿22﴾ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ ﴿23﴾ فَقَالَ إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ ﴿24﴾ إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ ﴿25﴾ سَأُصْلِيهِ سَقَرَ ﴿26﴾ ( المدثر: 11-26(
যাকে আমি অনন্য করে সৃষ্টি করেছি, তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন। আমি তাকে বিপুল ধন-সম্পদ দিয়েছি এবং সদা সংগী পুত্রবর্গ দিয়েছি এবং তাকে খুব সচ্ছলতা দিয়েছি এরপরও সে আশা করে যে, আমি তাকে আরো বেশী দেই। কখনই নয়। সে আমার নিদর্শন সমূহের বিরুদ্ধাচরণ কারী। আমি সত্বরই তাকে শাস্তির পাহাড়ে আরোহন করাব। সে চিন্তা করেছে এবং মনঃস্থির করেছে। ধ্বংস হোক সে কি রূপে সে মনঃস্থির করেছে আবার ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে। সে আবার দৃষ্টিপাত করেছে, অতঃপর সে ভ্রুকুঞ্চিত করেছে ও মুখ বিকৃত করেছে অতঃপর পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে ও অহংকার করেছে। এরপর বলেছে এতো লোক পরম্পরায় প্রাপ্ত যাদু বৈ নয়। এতো মানুষের উক্তি বৈ নয়। আমি তাকে দাখিল করব অগ্নিতে।