Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৭ অক্টোবর, ২০২১ ০৪:৪৩ অপরাহ্ণ

আকাইদ ও ইমান

আকাইদ আরবি শব্দ। এটি বহুবচন। এর অর্থ হচ্ছে বিশ্বাসমালা। এর একবচন হলো আকিদাহ, যার অর্থ বিশ্বাস।


#আকাইদঃ ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের প্রতি বিশ্বাসকেই আকাইদ বলে। যেমন – আল্লাহ, নবী-রাসূল, ফেরেশতা, আসমান কিতাব, আখিরাত, তকদির ইত্যাদির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।


মোটকথা, ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করা এবং তদনুযায়ী চলাকে আকাইদ বলে।


##ইসলামের মূলভিত্তি পাঁচটি। এরমধ্যে ঈমান সর্বপ্রথম ও অন্যতম। এটি আল্লাহ তা’য়ালার এক বড় নিয়ামত। এটি ব্যতীত কোন নেক আমল কবুল হয় না। চলুন তাহলে ঈমান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই –


ঈমানঃ ইমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস করা, নিরাপত্তা দান করা ইত্যাদি।




শরীয়তের পরিভাষায়, হযরত মুহাম্মদ (সা:) আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সহ তার প্রতি আস্থাশীল হয়ে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা কে ঈমান বলে।


###পুনরুত্থান


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, “ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা-প্রশাখা রয়েছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে ,”আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই”একথার সাক্ষ্য দেওয়া এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো কষ্ট দায়ক জিনিস রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা।” (বুখারী ও মুসলিম)




ঈমানের গুরুত্ব


ইসলামের ঈমানের গুরুত্ব অপরিসীম। এর প্রধান কয়েকটি নিম্নে দেওয়া হল-




এটি ব্যতীত মানব জীবন মূল্যহীন। কেননা ঈমান ইসলামের মূল ভিত্তি।


মহান আল্লাহ তা’য়ালা সমগ্র মানবমন্ডলীকে সৃষ্টি করার পর ,তার প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন এ কারণে ঈমানের গুরুত্ব অপরিসীম।


ইহকালীন কল্যাণ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।


এটি ব্যতীত কোন আমলই আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই পরকালীন মুক্তির জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম।


ইমান মানবতার সোপান। কেননা এটি ব্যতীত কেউ নিজের অস্তিত্ব কল্পনা করতে পারে না।


আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন ব্যতীত কেউ সফলতা লাভ করতে পারবে না। দৃষ্টিকোণ থেকে এটি হল মনুষ্যত্বের চালিকাশক্তি।


শেষ কথা


ইমান মুমিনের সবচেয়ে বড় অমূল্য সম্পদ। কারণ এটি মানবতার মুক্তির একমাত্র সোপান। তাই আমাদের সকলেরই খাঁটি ঈমানদার হওয়া উচিত।


###আল্লাহর পরিচয়ঃ আল্লাহর পরিচয়ঃ


আল্লাহ এক , অদ্বিতীয় । আল্লাহর আব্বা নেই , আম্মা নেই । আল্লাহর স্ত্রী নেই , পুত্র নেই , কন্যা নেই । আল্লাহ তখনো ছিলেন যখন আর কেউ ছিলো না , আর কিছু ছিলো না । আল্লাহ তখনো থাকবেন যখন আর কেউ থাকবে না , আর কিছু থাকবে না । অর্থাৎ আল্লাহ চিরকাল ছিলেন , চিরকাল আছেন , চিরকাল থাকবেন । আল্লাহ ধ্বংসের উর্ধে । আল্লাহ ছাড়া সব কিছুই ধ্বংসশীল । আল্লাহর ক্ষুধা নেই , পিপাসা নেই । আল্লাহ কিছু খান না । আল্লাহ কিছু পান করেন না । আল্লাহর তন্দ্রা নেই , নিদ্রা নেই । আল্লাহ অন্যমনস্ক হন না । আল্লাহ কিছু ভুলে যান না । আল্লাহকে কোন সৃষ্টি দেখতে পায় না । কিন্তু সকল কিছু তাঁর দৃষ্টির অধীন । আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে কোন কিছুই থাকা সম্ভব নয় । আল্লাহ একই সময়ে মহাবিশ্বের সকল প্রাণী , বস্তু ও শক্তি ( energy ) দেখতে পা আল্লাহ সব কিছুই শুনেন । মহাবিশ্বের সর্বত্র উচ্চারিত প্রতিটি কথা ও উত্থিত প্রতিটি আওয়াজ তিনি – সময়ে শুনতে পান । আল্লাহ একচ্ছত্র সম্রাট । মহাবিশ্ব আল্লাহর সাম্রাজ্য ।


## আল্লাহপাক পরম দয়ালু। পালনকর্তা,লালনকর্তা,রিজিদাতা,হায়াত ও মওতের মালিক।


আল্লাহ মহা শিল্পী 


 আল্লাহ মহাবিজ্ঞানী।


আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য তুলনাহীন।


আল্লাহর কোন খুঁত নেই।


আল্লাহর কোন ত্রুটি নেই।


আল্লাহর কোন অপূর্ণত্ব নেই।


আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।


আল্লাহর জন‍্যই সকল প্রশংসা 


আল্লাহর জন‍্যই সব সম্মান।


##নবী ও রাসুলের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনাঃ নবী ও রাসুল উভয়ই পৃথিবীতে এসেছেন মানবজাতির কল্যানের জন্য । আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়তের জন্য বহু নবি - রাসুল দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন । পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেছেনঃ “ আর প্রত্যেক জাতির জন্য পথপ্রদর্শক রয়েছে ” । ( সূরা আর - রা'দ ১৩ , আয়াত ৭ ) কুরআন মাজিদে ২৫ জন নবি - রাসুলের নাম রয়েছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নবি - রাসুলের সংখ্যা লক্ষাধিক । নবি ও রাসুল অর্থের দিক থেকে দুইটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে । যেমনঃ



##আসমানি কিতাবঃ


 কুরআন মজিদ আল্লাহর বাণী । কুরআন মজিদ আসমানি কিতাব । মানুষকে পথ দেখানোর জন্য আল্লাহ আসমানি কিতাব পাঠিয়েছেন । কিতাব অর্থ বই বা পুস্তক । আল্লাহর বাণীর সমষ্টিকে আসমানি কিতাব বলে ।  আসমানি কিতাব ১০৪ খানা । ৪ খানা বড় । ১০০ খানা ছোট । ছোট কিতাবকে সহিফা বলে । বড় চারখানা কিতাব ১. তাওরাত ২. যাবূর ৩. ইনজীল ৪. কুরআন মজিদ । * তাওরাত নাজিল হয় হযরত মূসা ( আ ) -এর ওপর । যাবূর নাজিল হয় হযরত দাউদ ( আ ) -এর ওপর । * ইনজীল নাজিল হয় হযরত ঈসা ( আ ) -এর ওপর । কুরআন মজিদ নাজিল হয় হযরত মুহাম্মদ ( স ) -এর ওপর । কুরআন মজিদ সর্বশেষ আসমানি কিতাব ।

###আখিরাতঃ


আখিরাত অর্থ পরকাল। মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবন কাকে বলা হয়। মানুষজনের দুটি পর্যায়ে রয়েছে। একটি হল দুনিয়ার জীবন অর্থাৎ ইহকাল। অপরটি হলো মৃত্যুর পরের জীবন অর্থাৎ পরকাল।


আখিরাত হল অনন্তকালের জীবন। এ জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। এটি হচ্ছে মানুষের চিরস্থায়ী আবাস। আখিরাতে মানুষের দুনিয়ার সকল কাজ কর্মের হিসাব নেওয়া হবে। এরপর ভালো কাজের জন্য পুরস্কার স্বরূপ জান্নাত এবং মন্দ কাজের জন্যে শাস্তিস্বরূপ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।


আখিরাতে বিশ্বাস এর গুরুত্ব

আখিরাত ঈমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী জীবনদর্শনে আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। তাই আখিরাতে বিশ্বাস এর গুরুত্ব অপরিসীম। কেউ আখিরাতে বিশ্বাস না করলে সে কখনো প্রকৃত মুমিন ও মুত্তাকী হতে পারে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন, ” আর তারা (মুত্তাকীগণ) আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।” (সূরা আল বাকারা, আয়াত 4)।


পরকালীন জীবনের সফলতা অর্জনের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য। আখিরাতে বিশ্বাস না করলে মানুষ সত্য পথ থেকে দূরে সরে যায় এবং পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আর কেউ আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাগণ তার কিতাবসমূহ তার রাসূলগণ এবং আখিরাত দিবসের প্রতি অবিশ্বাস করলে সে তো ভীষণ ভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে।” (সূরা আন নিসা আয়াত 136)

@@


মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট