সহকারী শিক্ষক
১০ অক্টোবর, ২০২১ ০৪:২৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
স্বাধীনতাত্তোর প্রাথমিক শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় প্রাথমিক শিক্ষা।শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড , জাতীয় উন্নতির মানদন্ড শিক্ষা । শিক্ষায় যে জাতি যত উন্নত , সভ্যতায় সে জাতির ইতিহাস তত গৌরবময় । প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে জাতীয় শিক্ষার ভিত্তি এবং এই ভিত্তির যথাযথ সংগঠনের উপর পরবর্তী শিক্ষা স্থাপনের উন্নতি ও ধারাবহিকতা বহুলভাবে নির্ভরশীল । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষার এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন । বঙ্গন্ধুর নির্দেশনায় বাঙ্গালি জাতির শিক্ষা - সংস্কৃতি , আর্থ - সামজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে । হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙ্গালি অনুভব করতে পেরেছিলেন দেশের উন্নয়নের জন্য , দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য , সাধারন মানুষের মুখে হাসি ফোটানের জন্য সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ হলো শিক্ষা , বিশেষ করে ‘ প্রাথমিক শিক্ষা ’।প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা সম্ভব নয় । তাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি তথা প্রাথমিক শিক্ষার প্রভূত উন্নয়নের বীজ বপন হয়েছিল । তাঁর সময়ে নেওয়া গৃহীত পদক্ষেপসমূহ এখেনো বাঙ্গালি জাতি অনুসরন করে চলেছে । বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার দেখানো পথেই হেটে চলেছেন । তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতির ভিত্তি হিসেবে ধরে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন এবং তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে করেন প্রাথমিক শিক্ষা যুগোপযোগী না হলে শিক্ষা ব্যবস্থা টেকসই হবেনা তথা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবেনা ।প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কিত আইন : বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে ' প্রাইমারি স্কুল অ্যাক্ট ১৯৭৪ , প্রণয়ন করেন । এই আইন প্রণয়নের পর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয় । বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করে শিক্ষাকে সহজলভ্য করে দিয়েছেন । তাঁর আমল থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু হয় । সেই সাথে বিতরণ করা হতো খাতা , কলম , পেন্সিলসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ ।স্বাধীন বাংলার প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন : শিক্ষা ব্যবস্থার দিক নির্দেশনা প্রদান করার জন্য বিখ্যাত শিক্ষাবিদ বিজ্ঞানী ডঃ কুদরত - ই - খুদাকে সভাপতি করে ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয় । বঙ্গবন্ধুর একান্ত ইচ্ছায় ১৯৭৪ সালের মে মাস একটি সুদুরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে ' কুদরত - ই - খুদা শিক্ষা কমিশন , প্রতিবেদন তৈরি করে । কমিশনে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ৫ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৮ বছর করার সুপারিশ করা হয় এবং ` স্বাক্ষরতা আভিযান , নামে একটি পদক্ষেপের কথা শিক্ষা কমিশনে উল্লেখ করা হয় । ৫ বছরের মধ্যে ১১-৪৫ বছর বয়সী সাড়ে ৩ কোটি নিরক্ষর মানুষকে অক্ষর জ্ঞান দেওয়ার প্রস্তাব ছিল এই কমিশনে ।২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় শিক্ষানীতি -২০১০ প্রণয়ন করেন । জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন । ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীর হাত চার রঙের আকর্ষনীয় সম্পূর্ন নতুন পাঠ্যপুস্তক বিনা মূল্যে বছরের প্রথম দিনেই ' বই উৎসব , এর মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে যা বর্তমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য । ক্ষুদ্র নৃ - গোষ্ঠী শিশুদের নিজস্ব বর্ণমালায় পাঠ্যপুস্তক প্রনয়ন ও অন্ধদের জন্য ব্রেইল পন্ধতির বই সরবরাহ করা হচ্ছে ।সবার জন্য প্রাথমিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে ১ লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে । তাছাড়া ২০১৬ সালে পিএসসি - এর মাধ্যমে ৩৪ তম বিসিএস উত্তীর্ণদের মধ্যে থেকে ৮৯৮ জনকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছেন । ২০১৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদটিকে ২ য় শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুগের চাহিদা মিটিয়েছেন এবং সেই সাথে সহকারী শিক্ষদের বেতন স্কেল এক ধাপ বৃদ্ধি করেন । একীভুত শিক্ষা ও প্রাক - প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করেছেন ।আধুনিক ও বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রাথমিক শিক্ষক ও শিক্ষা প্রাশাসনের কর্মকর্তাদের আইসিটি বেইজড প্রশিক্ষণ চালু করা হয় । সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপ প্রদান , ইন্টারনেট সংযোগ ও মাল্টিমিডিয়া চালু করে আইসিটি বেইজড শ্রেণিকক্ষ চালু করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে । ফলে প্রাথমিক শিক্ষকেরা নিজেরাই ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে শ্রেণি পাঠদান করতে সক্ষম হচ্ছেন । শ্রেষ্ঠ শিক্ষক কর্মকর্তাদের শিক্ষা পদক প্রদান , বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সাথে সাথে তার শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে ও নেতৃত্ব বিকাশে সৃজনশীল বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে । এগুলোর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ উপবৃত্তি প্রদান , স্কুল ফিডিং প্রকল্প চালুকরণ , মিড - ডে - মিল চালুকরণ , স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন , কাব স্কাউট ও হলদে পাখি দল গঠন , ক্ষুদে ডাক্তার দল গঠন , প্রাক্তন শিক্ষার্থী অ্যালামনাই এসোসিয়েশন গঠন উল্লেখযোগ্য । প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে ক্রীড়া , সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন ২০২১ সাল থেকে চলে আসছে অতীতে এত ব্যাপকভাবে হতো না ।মুজিব বর্ষে প্রাথমিক শিক্ষা : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০২০ সালকে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করা হয় । মুজিব বর্ষকে ঘিরে বিভিন্ন মন্ত্রনালয় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলেক্ষ্যে নিরক্ষরতামুক্তসহ মোট ১৭ টি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় । এসব পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম ছিল ২০২০ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে শোনা - বলা - পড়া - লেখায় শতভাগ দক্ষ করে তোলা , উপানুষ্ঠানিক ব্যুরোর মাধ্যমে দেশের ২১ লাখ নিরক্ষর মানষকে সাক্ষরতা দান করা ।সর্বোপরি," প্রাথমিক শিক্ষা এগোলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।"