Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০৯:৪৩ অপরাহ্ণ

শিক্ষা পুনরুদ্ধারের কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষক।

শিক্ষা পুনরুদ্ধারের কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষক


শিক্ষা হলো আলোকিত সমাজ বির্নিমানের হাতিয়ার আর শিক্ষক হলেন, সমাজের আদর্শ মানব সৃষ্টির শৈল্পিক কারিগর। পিতা মাতা সন্তানকে দেখিয়েছেন, পৃথিবীর আলো আর শিক্ষক দেখান পৃথিবীতে পথ চলার আলো ও আলোর পথ। শিক্ষকরা হলেন একটি মোমবাতির মতো, যারা নিজে প্রজ্জ্বলিত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আলো প্রদান করেন। একজন মানবকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিবারের পরেই সমাজের সবচেয়ে দায়িত্ববান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো শিক্ষক। ফ্রেডরিক ফ্রয়েবেলের মতে “শিশু হলো উদ্যানের চারাগাছ। শিক্ষক হলেন তার মালী। শিক্ষকের কাজ হলো সযত্নে চারাগাছটিকে বড় করে তোলা। শিশুর মধ্যে লুকিয়ে থাকা সৎ ও সামাজিক গুণাবলীর বিকাশ সাধন করা শিক্ষকের কর্তব্য। শিক্ষকরা সংকটে নেতৃত্ব দেন, ভবিষ্যৎ পুনঃনির্মাণ করেন। মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক সংকটে আক্রান্ত হয়েও সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিনির্মাণে শিক্ষকরা অভিরাম ভূমিকা রেখে চলেছেন। শিক্ষক হচ্ছেন সভ্যতার ধারক-বাহক। শিক্ষক শুধু শিক্ষাদানই করেন না, তিনি সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকই মূল চালিকাশক্তি। তাই এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে, “শিক্ষা পুনরুদ্ধারের কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষক।


শিক্ষক সমাজের অতুলনীয় অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর ২৬ তম অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ড. ফ্রেডারিক এম মেয়রের যুগান্তকারী ঘোষনার মাধ্যমে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের শুভ সূচনা করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৫ অক্টোবর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষকদের মর্যাদা’ শীর্ষক সম্মেলনে গৃহীত এবং ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন (আইএলও) কর্তৃক স্বাক্ষরিত সুপারিশমালায়ও শিক্ষক দিবস পালনের জন্য ৫ অক্টোবর তারিখটি নির্ধারিত হয়। এ দিনটি শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দিন, তাদের অবদানকে স্মরণ করার দিন, তাদের মর্যাদাকে স্মৃতির অতলান্তে হারিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচানোর দিন।


বর্তমানে আমরা কঠিন সময় পার করছি। করোনা ভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বে আজ মহামারি দেখা দিয়েছে। আমরা সবাই এখন আতঙ্কগ্রস্ত ও দিশেহারা। দিন দিন যেন সময় কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। করোনাজনিত এই সংকটকালে আমরা আমাদের শিশুদের লেখাপড়ার দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করতে পারছি না। গত ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত ১৮ যাবত আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ছিল। ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে যা কোনোভাবে কাম্য নয়।


বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইউনেস্কো নির্ধারিত এ বছরের প্রতিপাদ্য "শিক্ষকরা শিক্ষা পূনরুদ্ধারের কেন্দ্রবিন্দুতে।" আমি মনে করি নির্বাচিত বিষয়টি বাস্তবতার নিরিখে যথার্থ। করোনাকালে অথবা অন্যসময়ে শিক্ষকের শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার কথাটি জোর দিয়ে বলা যায়। কেউ কেউ মনে করেন, শিক্ষা আর কখনো করোনাকালের আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না। আবার কারও কারও মতে, করোনার মতো মহামারি

অতীতেও মানুষ মোকাবিলা করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক।


বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে করোনাকালীন শিখন ঘাটতি পূরণে নেপ ও এনসিটিবি প্রণীত এক্সিলারেট রিমেডিয়াল লানিং প্ল্যান অনুযায়ী পাঠদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যার মাধ্যমে শিক্ষকের শিখন তরান্বিতকরণ পরিকল্পনা অনুযায়ী যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ, শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মুল্যায়ন ও ফলাবর্তন প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিখন ঘাটতি পূরণ করে কাংক্ষিত যোগ্যতা অর্জন সম্ভব।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষকতাকে এখনো পেশা হিসেবে দেখার মানসিকতা তৈরী হয়ে উঠেনি। রাষ্ট্র এখনো শিক্ষকতাকে 'ব্রত' হিসেবে দেখতে চায়। তাই রাষ্ট্রের দেয়া বাজেটে শিক্ষকতা পেশায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ দেখা যায় না। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দেশে শিক্ষকের যথাযত মর্যাদা নেই বলেই আজও শিক্ষকরা বিভিন্ন ভাবে লাঞ্চিত হচ্ছেন। খেয়ে না খেয়ে ব্যক্তিগত জীবনে শিক্ষকরা যেমনই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রের জন্য তারা নিবেদিত প্রান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আমার বিশ্বাস শিক্ষকরা কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে বর্তমান সময়ের করোনা মহামারী

সংকট অতিক্রম করে শিক্ষা পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবে।

মন্তব্য করুন