সহকারী শিক্ষক
০৩ নভেম্বর, ২০২১ ০১:২৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ভূমিকাঃ শিক্ষা প্রতিটি মানব শিশুর মৌলিক অধিকার। প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা শিশুর উন্নত জীবনের স্বপ্ন পূরণের সোপান। শিশু জন্মের পর পরিবার থেকে শিক্ষা পায়। কিন্তু শিশুর মানসিক, আধ্যাত্বিক, নৈতিক, বিজ্ঞানমনস্কর করে গড়ে উঠতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়। প্রতিটি শিশু দেশের সুনাগরিক হবে, দেশকে আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখবে । বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার একটি দেশ। এদেশের অগ্রযাত্রায় প্রতিটি নাগরিকের অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ এখন মধ্যআয়ের দেশ। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেন। তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের অভূতপূর্ব উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।
এ ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে অনুকরণীয় ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যা বাংলাদেশের রূপকল্প -৪১ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে।
★ স্বাধীনতা পরবর্তী প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা ঃ
দেশ স্বাধীনের পর অন্যান্য সেক্টরের মত প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা ছিল নাজুক। শিক্ষায় ছিল না শৃঙ্খলা, শিক্ষক, শিক্ষর্থী ছিল নানা অবহেলার শিকার। ছাত্রীদের পড়ার উন্নত কোন সুযোগ সুযোগ ছিল না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার গঠনের পর ৩৬১৬৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। তিনি তাঁর এক ভাষণে বলেছিলেন -"আগামী প্রজন্মের ভাগ্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করছে, শিশুদের যথাযথ শিক্ষায় ব্যত্যেয় ঘটলে কষ্টার্জিত স্বাধীনতা অর্থহীন হবে।"
তাই তিনি শিক্ষাবিদ ডঃ কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন, প্রাইমারি অ্যাডুকেশন অ্যাক্ট- ১৯৭৪ প্রণয়ন করেন। ১১০০০ নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, শিক্ষক নিয়োগ ও চাকরি স্থায়ীকরণ করেন।
এছাড়া তিনি দেশ গঠনের পর প্রথম বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৭% প্রাথমিক শিক্ষার জন্য রেখে প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রা শুরু করেন। তার শিক্ষা দর্শন আমাদের মুক্তির পথ সুগম করেছে। তার দেখানোর নির্দেশনাতে একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।
★ প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ঃ
" এগিয়ে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা,
এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।"
একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর থেকে জাতির জনকের সোনার বাংলা গঠন করতে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেন। তিনি বছরের প্রথম দিন প্রতিটি শিশুর হাতে নতুন বই তুলে দেয়া, দৈনিক স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম চালু, বিদ্যালয়ে ভর্তির পূর্বে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে দপ্তরি নিয়োগ, শিক্ষকদের জন্য দেড় বছর মেয়াদী ডিপিএড প্রশিক্ষণ চালু, pedp-3 আওতায় নতুন ভবন নির্মাণ, ওয়াশব্লক নির্মাণ ও প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি সজ্জিত করণে বাজেট প্রনয়ণ করেন, যা প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিকে দৃঢ় করছে।
এছাড়া শিশুদের জন্য সমাপনী বৃত্তি, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুনামেন্টের আয়োজন, ক্ষুদে ডাক্তার টিম, কাব দল গঠন, বিভিন্ন দিবস পালন করে শিশুদের মানসিক বিকাশের ধারা চালু রেখেছেন। দেশে ঝরে পড়ার হার ১০% এর নিচে, বেড়েছে শিক্ষিতও স্বাক্ষরতা হার ।
★ প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটালাইজেশন:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ বিতরণ, ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপন, এটুআই এর ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক বাতায়ন, মুক্তপাঠের মতো অনলাইন প্লাটফর্ম সৃষ্টি, শিক্ষকদের ১২ দিনের আইসিটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কোভিড কালীন সময়ে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের অনলাইন ক্লাস চালু করেন। শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদানে ইএফটি ব্যবস্থা চালু করেন। এ ছাড়া ন্যাপ কর্তৃক অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা চালু হওয়ায় শহর থেকে গ্রামের প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে।
★ প্রাথমিক শিক্ষায় চ্যালেঞ্জ ঃ
অধিক জনসংখ্যার দেশে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। দুর্যোগ প্রবণ দেশ, দারিদ্রতা প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বড় সমস্যা । শিশুরা ক্ষুধা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। অভিভাবকদের আন্তরিকতার অভাব, শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের অভাব, শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য ও যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে প্রাথমিক শিক্ষার শতভাগ লক্ষ্যে অর্জন বাধা সৃষ্টি করছে।
★ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ঃ
এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে সম্পদে রূপান্তর করতে না পারলে সোনার বাংলা গঠনে বাধা সৃষ্টি হবে। একটি জাতিতে দুই ধরনের মানসিকতা সম্পন্ন প্রজন্ম তৈরি হবে। আধুনিক, নান্দনিক, বিজ্ঞানমনস্ক জাতি তৈরিতে বাধা হবে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এবং গৃহীত কর্মসূচি গুলো বিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে পারলে চেলেন্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
এজন্য শিশুর ক্ষুধা মুক্তি নিশ্চিত করন, সামাজিকভাবে শিক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে সচেতনতা তৈরি, অভিভাবকদের শিক্ষার গুরুত্ব বুঝানো, যথাযথ মনিটরিং, শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক ও শ্রেণি কক্ষ নিশ্চিত করণ, শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দুরীকরণ, প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নে উপকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জাতির জনকের সপ্ন পূরণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ৪১ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
উপসংহার : স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচি ও চলমান পদক্ষেপ বাস্তবায়ন সোনার বাংলার ভিত্তি মজবুত করছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।