Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

০৪ নভেম্বর, ২০২১ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করতে শিক্ষকদের ভূমিকা মুখ্য

সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করতে শিক্ষকদের ভূমিকা মুখ্য।আজকে সাম্প্রদায়িক হামলায় কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বন্ধে আমাদের অসাম্প্রদায়িক মানুষ তৈরি করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে উপযুক্ত সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করতে হবে।সেটি করতে পারলে এর চেয়ে ভালো শ্রদ্ধা নিবেদন আর হতে পারে না।এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকাই মুখ্য।

বুধবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা হত্যার মূল্য উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের মূল্যবোধকে দূরে ঠেলে দেশকে আবার পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়া। এ কারণেই ঘাতকরা প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করতে চেয়েছিল। এরপর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। ঘাতকরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার এবং তাঁর আদর্শের কেউ বেঁচে থাকলে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকেরা এই চার নেতাকে টার্গেট করেছিল। কারণ তারা কোন প্রলোভন ও ভয়ের কাছে নতি স্বীকার করেননি।’

বঙ্গবন্ধুর প্রতি চার নেতার ছিল অবিচল আস্থা আর ভালোবাসা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতীয় চার নেতা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালিত করেছিলেন। এ কারণেই তাঁদের হত্যা করা হয়। কারণ তাঁরা বেঁচে থাকলে ঘাতকদের হীন স্বার্থ উদ্ধার হতো না।’

বর্তমান প্রজন্মকেও নেতার প্রতি অবিচল আস্থা আর ভালোবাসা রাখার আহ্বান জানিয়ে ডা. দীপু মনি আরও বলেন, ‘জাতীয় চার নেতা যেমন করে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে জীবন দিয়েছেন, বিশ্বাস এবং আস্থায় রেখেছেন, তেমন করে বর্তমান সময়েও বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে নিজেদের তৈরি করতে হবে। যেকোন প্রয়োজনে আমাদের মেরুদণ্ডটা সোজা রাখতে হবে। আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে এই দিবসগুলো পালন করবো না, সত্যিকার অর্থে এর মর্মার্থ বুকে ধারণ করবো ও নিজেদের তৈরি করবো।’

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘জাতীয় চার নেতা হত্যা কোন সাধারণ ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। আজকে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে গবেষণার প্রস্তাব আসছে। সব উপলব্ধি কী গবেষণায় বের হয়? গবেষণায় কী কখনো ওই ব্যথা তুলে আনা সম্ভব। যেখানে সন্তান জানে নিরাপরাধ দেশপ্রেমিক মানুষকে জেলখানায় হত্যা করা হয়। ক্ষমতার প্রলোভন, চেতনা বিনাশের অবিনাশী খেলা- সেটি কী সব সময় গবেষণায় উঠে আসে? সব উপলব্ধি কী গবেষণায় উঠে আনা যায়। আমার মনে হয় কখনো কখনো একমাত্র ইতিহাস চেতনা এবং চর্চা আমাদের শুদ্ধ করতে পারে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে কোনভাবেই যেন আওয়ামী লীগ মাথা উঁচু করে না দাঁড়াতে পারে। কিন্তু ওই ঘাতকেরা পরাজিত হয়েছে। খুনিরা যে সুক্ষ্ম পরিকল্পনা করেছেন, তাদের যে চিন্তার শক্তি ছিল সেটাও ঠিক। শেখ হাসিনা এবং রেহানা বাইরে ছিলেন বলেই আজকে বেঁচে গেছেন। কিন্তু বোকারা জানে না, শেখ মুজিব কোন রাষ্ট্রের নয়, তিনি পৃথিবীর একমাত্র নেতা, যিনি রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার আগেই পূর্ব বাংলার সাত কোটি মানুষ তার কথাই শুনতো। তিনি যা বলতেন তাই করতেন। একটি জাতিকে মুক্ত করার জন্য তিনি ছিলেন বাংলার আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ-আল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা মিরা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নূর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর আবদুস সালাম হাওলাদার, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্য রামেন্দু মজুমদার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মন্তব্য করুন