‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’ এটি একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ। কিন্তু এই মেরুদণ্ড যদি শিক্ষার্থীকে সব ধারার মৌলিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত রেখে কিংবা শিক্ষার্থীকে ইচ্ছাবিরুদ্ধ ধারা চাপিয়ে দিয়ে তৈরি করা হয়, তাহলে জাতি এই মেরুদণ্ডের ওপর কতটা স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে- এই প্রশ্ন থেকেই যায়। শিক্ষাবিদরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তনের কথা বলছেন। আশার দিক হলো, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনরূপে সাজানোর ঘোষণা এবার সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে। ইতোমধ্যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই শিক্ষাব্যবস্থায় একটি সুন্দর ও ইতিবাচক বদল আসতে চলেছে, যা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের জন্য আনন্দের সংবাদ। এই ইতিবাচক পরিবর্তন হলো মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভাগ বিভাজন উঠিয়ে নেওয়া।
বর্তমানের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ১৯৬২ সালে চালু করা হয়। এই শিক্ষাব্যবস্থা অনুযায়ী নবম শ্রেণিতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় সে বিজ্ঞান, মানবিক না বাণিজ্য বিভাগ বেছে নেবে। তবে প্রকৃত অর্থে বিভাগ বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীর ইচ্ছা বা পছন্দের ওপর নির্ভর করে না। শিক্ষার্থীদের বিগত বছরের ফলাফল অনুযায়ী তাদের ওপর বিভাগ চাপিয়ে দেওয়া হয় অনেক ক্ষেত্রে। অপেক্ষাকৃত কম নম্বর বা ফলধারী শিক্ষার্থী আগ্রহ থাকলেও অনেক সময় বিজ্ঞান বিষয়ে পড়তে পারে না। আবার নবম শ্রেণির প্রথম সারির শিক্ষার্থীরা অতি আগ্রহে যদি মানবিক বিষয়ে পড়তে চায় তাহলে বিদ্যালয় ও পরিবার থেকে মনে করা হয় ওই শিক্ষার্থীদের বুঝি সর্বনাশ হলো। শিক্ষার্থীর আগ্রহের চেয়ে এখানে মূল্যায়ন করা হয় সামাজিক মানদণ্ড; লোকে কী বলবে, এসব বিষয়। নম্বরের হেরফের কারণে বিভাগ বিভাজনের সময় অনেকাংশেই শিক্ষার্থীর পছন্দ উপেক্ষিত হয়। শিক্ষক ও অভিভাবকের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে বিভাগ পছন্দ করতে হয়। যা অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বাধাগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের উদ্ভাবনী চিন্তার পথ। নতুন শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকর হলে এই সমস্যার একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস। একীভূত শিক্ষাক্রমে নবম-দশম শ্রেণিতে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সিলেবাস, যে কৌশলে পড়ানো হবে, আমাদের প্রত্যাশা তা আমাদের জাতির প্রগতির ও উন্নয়নের গতিধারায় বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে।