সহকারী শিক্ষক
৩০ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৫:২২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
কোভিড ১৯ এর ভয়াল থাবায় সমগ্র পৃথিবী যখন মহা সংকটে তখন আগাম সতর্কতা বসত বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালের ১৭ ই মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করে।
শিক্ষা মন্ত্রনালয় সহ সকলে চিন্তিত হয়ে পড়ে শিক্ষার্থিদের লেখাপড়ার কি হবে? এদিকে করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকে। আমেরিকা, ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতে থাকে।
প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি কাটিয় উঠার জন্য বিভিন্ন কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেয়।
৭ এপ্রিল,২০২০ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ টেলিভিশন এ পাঠ সম্প্রচার শুরু করে। শিক্ষকরা স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে ক্লাস রেকর্ডিং এর জন্য রাত দিন পরিশ্রম করেন।
১২ই আগষ্ট, ২০২০ থেকে শুরু হয় বাংলাদেশ বেতারে পাঠদান কর্মসূচী।তখনো শিক্ষকরা রেকর্ডিং এর জন্য ঘর থেকে বের হয়েছেন।
২১ এপ্রিল, ২০২১ থেকে শুরু হয় ক্লাস্টার ভিত্তিক গুগোল মিটে শ্রেণি কার্যক্রম।শুরু হয়ে যায় ব্যপক কর্মযজ্ঞ, গুগল মিটের উপর শিক্ষকদের প্রশিক্ষন। সার্বক্ষনিকভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ রাখেন। তাদের দৈনিক পড়া দেওয়া নেওয়ার কাজ পরিচালনা করেন।সারা দেশে শিক্ষকরা মাল্টিগ্রেড পদ্ধতিতে পাঠদান অব্যাহত রাখেন।
সহকারি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক মহোদয় বন্ধের মধ্যেও অফিসিয়াল কাজের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করেছেন।এছাড়াও বিদ্যালয় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সপ্তাহে দুইদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে।
২০২১ সালের মে মাসে শুরু হয় পাঠ্য পুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকা থেকে নেপ কতৃক প্রদত্ত ওয়ার্কশীট বিতরন।তখন সারা দেশে করোনা পরিস্থিতি অনেক ভয়াবহ রুপ ধারন করে।এ কঠিন পরিস্থিতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদেরসকল শিক্ষকমন্ডলী বুঝতে পারেন বর্তমান পরিস্থিতিতে আই সি টিতে দক্ষ হওয়ার কোন বিকল্প নাই।শিক্ষকরা ভার্চুয়াল ট্রেইনিং নিয়ে নিজেকে আরও দক্ষ করেছেন। প্রতি বিদ্যালয়ে আই সি টি তে দক্ষ শিক্ষক দ্বারা তৈরি হয় আই সি টি পুল।আই সিটি পুলের শিক্ষকরা এই করোনায় ঘরে বসে না থেকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের আইসিটিতে দক্ষ করে গুগল মিটে ক্লাস নিতে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।
বন্ধের শুরু থকেই মোবাইল ফোনে শিক্ষকরা বাড়ি- বাড়ি গিয়ে ওয়ার্কশীট বিতরন ও হোম ভিজিট কার্যক্রম পরিচালনা করেন।এ সময় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশেপাশের শিক্ষার্থীদের পড়া দেওয়া নেওয়া এবং হোমওয়ার্ক মূল্যায়ন করেন। এসময় সারা দেশে অনেক শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হন। এদের মধ্য থেকে অনেক প্রতিভাবান শিক্ষক মৃত্যুবরন করেন।অনেকে আবার সুস্থ্য হয়ে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হন।
বাংলাদেশ সরকার শিক্ষকদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা হিসেবে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যকসিন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অতপর কোভিড পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে সরকার ১২ ই সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে কতিপয় বিধি নিষেধ ও বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা কতৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিমিত আকারে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়।শিক্ষকরা বিদ্যালয় গুলোকে শিক্ষার্থীদের জন্য ধুয়ে মুছে পরিষ্কার ও জীবাণুনাশক ব্যবহার করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করেন।
সর্বশেষ ১২ ই সেপ্টেম্বর থেকে শিখন ঘাটতিপূরনে ত্বরান্বিত শিখন পরিকল্পনা ( Accelerated Remedian learning Plan) অনুশারে সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
শিক্ষকরা শারীরিক অসুস্থতার চেয়ে মানষিক ভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এখনো কেউ ঝুকিমুক্ত নয়।বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে তাদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য মতে, লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে হয়তো কোভিড প্যান্ডেমিক মোকাবিলা করা যাবে, কিন্তু এর প্রভাবে যে ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ আসবে, সেটা হবে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্যান্ডেমিক। বহু মানুষ বিষণ্নতায় আক্রান্ত হবেন। বহু মানুষ পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগবেন।
করোনার সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য কী অবস্থায় আছে তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের কোনও জরিপ নেই।এসব মানসিক সমস্যা কাটাতে স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাখতে হবে । শিক্ষকদের মাষিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য এখনই এ বিষয়ে জরিপ করে যথাযথ ব্যাবস্থা নিতে হবে।জাতি গঠনের এ কারীগররা ভাল থাকলেই জাতি ভাল থাকবে।
করোনার এই অতিমারীতে শিক্ষকরা সুধু জীবনই বাজি রাখেনি, সম্পূর্ন অপ্রত্যাশিতভাবে তাদের সামনে সমাগত প্রযুক্তিগত জ্ঞানের চ্যালেন্জকে পরম সাহসিকতায় গ্রহন করে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সক্রীয় অংশিদার হয়ে এ জাতীয় দূর্যোগ মোকাবেলা করে শিক্ষকগন আজ জাতীয় বীরে পরিনত হয়েছে।আজ জাতি আসায় বুক বেধেছে শিক্ষকদের এই মহতি প্রচেষ্টায় আগামীর যোগ্য প্রজন্ম গড়ে উঠবে।