সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০৭:১৫ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
এনিমেটেড (Animated) শব্দের অর্থ হলাে প্রানবন্ত বা জীবন্ত। সুতরাং কোনাে শিল্পকর্ম, প্রতিচ্ছবি বা মডেলের ক্রম বিন্যাসের স্থানকে ক্রমাগত পরিবর্তন করে প্রাণবন্ত আকারে প্রদর্শন করার কৌশলকে এনিমেশন বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনাে লেখা, টেক্সট, ড্রয়িং, ইমেজ, পেইন্টিং ইত্যাদি স্থির বস্তুকে বিভিন্ন ডাইমেন্টশনে, বিভিন্ন স্টাইলে চলমান বা গতিশীল করার কৌশলকে এনিমেশন বলা হয়।
এনিমেশন কাজকে চারটি পর্বে ভাগ করা যেতে পারে। যথা:
১. বস্তু তৈরি ও সম্পাদনা
২. দৃশ্য তৈরি ও সম্পাদনা
৩. গতিময়তা (১টি বস্তুকে ১টি নির্দিষ্ট পথে ঘুরানাে)।
৪. রেন্ডারিং।
মাল্টিমিডিয়ার একটি আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় কাজ হচ্ছে এনিমেশন। আজকাল সিনেমা, বিজ্ঞাপন ইত্যাদির ক্ষেত্রে এনিমেশনের ব্যবহার দেখা যায়। অনেকেই এ কাজটিতে এখন বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এনিমেশন তৈরি করা এমনিতে বেশ কঠিন, তবে এখন এমন কিছু সফটওয়্যার পাওয়া যায় যা ব্যবহারে করে কাজটি বেশ সহজেই করা যায়। এমন একটি সফটওয়্যারের নাম পেইন্ট শপ প্রাে-৬। সফটওয়্যারটির এনিমেশন শপ-২ নামক টুলটি ব্যবহার করে এনিমেশন তৈরি করা যায়।
যেভাবে এনিমেশন তৈরি করবেন
এনিমেশন মূলত অনেকগুলাে ছবির সমষ্টি যেগুলাে একের পর এক খুব তাড়াতাড়ি দেখানাে হয় এবং এতে ছবিটি চলমান মনে হয়। একেকটি ছবিকে এখানে বলা হয় ফ্রেম এবং প্রতি ছবি দেখানাের সময়কে বলা হয় ডিসপ্লে টাইম। এখাননে এনিমেশন তৈরি করার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। এনিমেশন ফ্রেম, এনিমেশন উইজার্ড এবং ব্যানার উইজার্ড। এই পদ্ধতিগুলাে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হলাে-
এনিমেশন ফ্রেম
এ পদ্ধতির শুরুতে একটি ফ্রেম নিয়ে কাজ করতে হয়। এজন্য মেনুবারের ফাইল অপশন থেকে New-তে অথবা টুলবারের নিউ এনিমেশন বাটনে ক্লিক করলে একটি উইন্ডাে ইফেক্ট ওপেন হবে। সেখানে এনিমেশন ফ্রেমের আকার এবং রং সিলেক্ট করে ওকে-তে ক্লিক করলে সেই অনুযায়ী একটি খালি ফ্রেম তৈরি হবে। এছাড়া ওপেন অপশনে ক্লিক করে যেকোন একটি ছবি এনিমেশন ফ্রেমে ওপেন করে নিতে পারেন অথবা পেইন্ট টুল দিয়ে নিজের ইচ্ছেমত এঁকে নিতে পারেন। যদি আপনি ছবিটা উপর-নিচ অথবা উল্টা করতে চান, তাহলে মেনুবারের এনিমেশন অপশন থেকে ফ্লিপ-এ ক্লিক করুন। একইভাবে ডানে-বামে পরিবর্তন করতে হলে মিরর-এ ক্লিক করুন। এছাড়া অতিরিক্ত খালি ফ্রেম যােগ করতে হলে ইনসার্ট ফ্রেমস-এ গিয়ে এম-এ ক্লিক করলে একটি উইন্ডাে ওপেন হবে। সেখানে কতগুলো ফ্রেম লাগবে, কত নম্বর ফ্রেমের আগে ফ্রেম যােণ করতে হবে, ডিসপ্লে টাইম-এসব সেট করে ওকে-তে ক্লিক করতে হবে। যদি অন্য কোন এনিমেশনের ফ্রেম যােগ করতে হয় তাহলে সেখান থেকে ফ্রম ফাইল-এ ক্লিক করলে একটি উইন্ডাে ওপেন হবে। সেখানে আগের মত ফ্রেম সংখ্যা, ফ্রেম নম্বর, ডিসপ্লে টাইম সেট করে ওকে-তে ক্লিক করতে হবে।
এনিমেশন উইজার্ড
এনিমেশন উইজার্ড-এর ব্যবহার বেশ সহজ। মেনুবারের ফাইল থেকে এনিমেশন উইজার্ড অথবা টুলবার থেকে এর বাটনে ক্লিক করলে এর উইন্ডাে ওপেন হবে। এখানে প্রথম ফ্রেম তৈরি করার জন্য কয়েকটি ধাপে কাজ করতে হয়। প্রথমে ফ্রেমের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সেট করে Next-এ ক্লিক করে পরের ধাপে ফ্রেমের রং সিলেক্ট করতে হবে। পরের ধাপে ইমেজ ফ্রেমের কোথায় বসবে তা সিলেক্ট করে দিতে হবে। এরপর এনিমেশন কতবার চলবে এবং একটি ফ্রেম কতক্ষণ দেখানাে হবে তা সেট করে দিতে হবে। এরপর এনিমেশনে, যে ইমেজ ব্যবহার করবেন সেটি এড ইমেজ-এ ক্লিক করে ওপেন করে নিতে হবে। পরে ফিনিশ-এ ক্লিক করলে ফ্রেম তৈরি হবে। এরপর আগের মতাে এতে বিভিন্ন ইফেক্ট দিতে পারেন।
ব্যানার উইজার্ড
ব্যানার উইজার্ডের মাধ্যমে লেখা এনিমেট করা হয়। এনিমেশন উইজার্ডের মতাে এতেও কয়েকটি ধাপে ফ্রেম তৈরি করে নিতে হয়। প্রথমে ফ্রেমের রং সিলেক্ট করতে হয়। এক্ষেত্রে যেকোন ইমেজও ব্যবহার করতে পারবেন। এরপর লেখার অংশের আকার সেট করতে হয়। একে ব্যানার সাইজ বলা হয়। পরের ধাপে একটি ফ্রেম কতক্ষণ দেখানাে হবে, প্রতি সেকেন্ডে কতগুলাে ফ্রেম দেখা যাবে এবং এনিমেশনটি কতবার দেখানো হবে-এসব সেট করে Next-এ ক্লিক করতে হয়। এরপর লেখাটি লিখে এর ফন্ট সিলেক্ট করে দিতে হবে। পরের ধাপে লেখার রং সিলেক্ট করে দিতে হবে। এখানে কোন ইমেজ দিয়েও লেখা দেখতে পারেন। এজন্য Browse এ ক্লিক করে ইমেজ ওপেন করতে হবে। শেষ ধাপে লেখাতে যে ইফেক্ট দিতে চান তা ট্রানজিশন নেম থেকে সিলেক্ট করে ফিনিশ-এ ক্লিক করলে দশটি ফ্রেম নিয়ে এনিমেশন তৈরি হবে। এতে আগের মতােও ইফেক্ট দিতে পারবেন এভাবে উপরের তিনটি পদ্ধতিতে আপনি যেকোন ছবি বা লেখা পেইন্ট শপ প্রাে-৬-এর এনিমেশন শপ-২ টুল ব্যবহার করে নিজের ইচ্ছেমত এনিমেট করতে পারবেন।