সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০৮:২৫ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
শীত অনেকেরই বেশ পছন্দের ঋতু। তবে পছন্দের ঋতু হলেও এই সময় বেশ কিছু শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শীতে ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্যের কিছু ক্ষতি হয়ে থাকে। যার মধ্যে প্রধান সমস্যা হলো পানিশূন্যতা তৈরি হওয়া।
গরমে আমাদের যেভাবে পানির পিপাসা পায়, শীতকালে তেমন পিপাসা পায় না। মূলত শীতকালে ঠান্ডা থাকার কারণে আমাদের পানির পিপাসা অনুভূত হয় না। তাই পানি কম খাওয়া পড়ে। যা আমাদের শরীরকে পানিশূন্য করে তোলে। এ ছাড়া এ সময় পরিবেশ থাকে রুক্ষ। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় খুব দ্রম্নত পানি শোষণ করে নেয়। তাই আমাদের শরীরে যে অংশ বের হয়ে থাকে ওইসব অংশ খুব দ্রম্নত শুষ্ক হয়ে যায়।
পানিশূন্যতার লক্ষণ
শুষ্ক মুখ বা ত্বক, ক্লান্তি, প্রস্রাবের হার বৃদ্ধি বা হ্রাস (স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গাঢ় রংসহ), মাথাব্যথা, কোষ্ঠ-কাঠিন্য, মাথা ঘোরা, গুরুতর পানিশূন্যতার ফলে সামান্য থেকে প্রস্রাব না হওয়া, চরম তৃষ্ণা, ডুবে যাওয়া চোখ, কুঁচকে যাওয়া/শুষ্ক ত্বক, নিম্ন রক্তচাপ, দ্রম্নত হৃদস্পন্দন, দ্রম্নতশ্বাস, জ্বর এবং প্রলাপ, ঠোঁট, পায়ের গোড়ালি, হাতের কনুই রুক্ষ হয়ে যায়।
সমাধানের উপায়
শরীরের উন্মুক্ত অংশে ঘন ঘন ভ্যাসলিন বা লোশন লাগাতে হবে ভালো করে। এ ছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে এক গস্নাস গরম পানি পান করা অত্যন্ত উপকারী। এ সময় আপনার গস্নাসে এক টুকরো লেবু বা এক চিমটি সেল্টিক সামুদ্রিক লবণ যোগ করতে পারেন।
দিনের বেলা আপনার তরল খাদ্যগুলো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করতে পারেন। প্রথম নিয়ম হলো, সারা রাত ঘুমানোর পর শরীরের পানিশূন্যতা দূর করা। তাই ঘুম থেকে উঠে অন্যকিছুর আগে পানি তারপরে কফি, সবুজ বা ভেষজ চা বা টিউমেরিক ল্যাটেসও উপভোগ করা। আরেকটি বিকল্প হলো কেবল উষ্ণ পানি। নারকেল পানিও পান করতে পারেন জলের বিকল্প হিসেবে।
হাড়ের ঝোল দিয়ে সু্যপ তৈরি করুন- আপনি আপনার পুষ্টি (প্রচুর শাক-সবজি) কমাতে পারবেন এবং একই সঙ্গে আপনার হাইড্রেশন যোগ করতে পারবেন। এমন পোশাক পরুন, যা আপনার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।কৃত্রিম উপায়ে ঘর গরম করার চেয়ে ফ্রেশ বাতাস উপভোগ করুন।
মূল কথা হলো, শরীরের পানির সমতা বজায় রাখতে বেশি বেশি পানি পান করতে বলা হয়ে থাকে। আরও যেমন- বিভিন্ন লিকুইড খাবার, ফলের শরবত, জুস, ফল, শাক-সবজি ইত্যাদি বেশি বেশি খেতে বলা হয়ে থাকে। এ সব শরীরকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যোপাদানের অভাবও পূরণ করে থাকে। শীতকালে বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ দেখা দেয় এবং এ সব রোগ থেকে মুক্ত রাখতে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।