Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:০২ অপরাহ্ণ

শিক্ষাক্ষেত্রে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর অবদান

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী বাংলার প্রথম নারী নবাব ছিলেন। তৎকালীন বাংলায় জমিদার হিসেবে আরো কয়েকজন নারী দায়িত্বপালন করেছেন, কিন্তু নবাব উপাধি পাওয়া একমাত্র জমিদার ছিলেন নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী। নওয়াব ফয়জুন্নেসার জন্ম কুমিল্লা জেলার হোমনাবাদ পরগনার (বর্তমানে লাকসামের) অন্তর্গত পশ্চিমগাঁয়ে । তিনি ১৮৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন । তার বাবা জমিদার আহমেদ আলী চৌধুরী আর মা আরাফান্নেসা চৌধুরাণী।

উনবিংশ শতাব্দীতে যেখানে নারী শিক্ষার কল্পনাই করা যায়নি,ঠিক সে মুহুর্তে তিনি প্রচলিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নারীদের জন্য আলোর মশাল নিয়ে আবির্ভূত হন। দেশে বিদেশে শিক্ষার প্রচারে তার অবদান অনস্বীকার্য। নওয়াব ফয়জুন্নেসা (পশ্চিমগাঁয়ে) একটি অবৈতনিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রাসার ছাত্রদের অন্য একটি ছাত্রাবাসও ছিল। তিনি আর তার কন্যা বদরুন্নেসা পশ্চিমগাঁওয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। মেয়েদেরকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য তিনি সব সময় উৎসাহিত করতেন। তিনি মেয়েদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা করেছিলেন। তার জমিদারির আয় থেকে মেয়েদের জন্য নির্মিত এ হোস্টেলের সব খরচ বহন করা হতো। মেয়েদের জন্য মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থাও তিনি করেছিলেন।

১৮৭৩ কুমিল্লা শহরে নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।উল্লেখ্য যে, ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ফয়জুন্নেছার স্থাপিত ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পূর্বে সমগ্র বঙ্গদেশে মুসলিম মেয়েদের জন্য কোনো স্বতন্ত্র বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি তার জমিদারির ১৪ টি মৌজায় ১৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। কুমিল্লা শহরের নানুয়া দিঘির পশ্চিম পাড়ে নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরী ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এটি শৈলরানী দেবি হাই স্কুলের প্রাথমিক বিভাগ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি পবিত্র মক্কা শরিফে 'মাদ্রাসা-ই-সওলাতিয়া ও ফোরকানিয়া সহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে প্রচুর পরিমানে সহায়তা করেন। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে তিনি সমস্ত নারী এবং পুরুষের শিক্ষার জন্যই চিন্তা ও কাজ করে গেছেন।

মন্তব্য করুন