শেখানোর প্রক্রিয়া শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের সহনীয় হওয়া উচিত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মের পর থেকে শিশুরা বাড়িতেই থাকে। যেটুকু শেখার তা পরিবার থেকেই শেখে। কিন্ডারগার্টেনে তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু হয়। স্কুলে পা দিলেও তাদের মনে পারিবারিক পরিবেশই বিরাজ করে। অনুকূল পরিবেশই তাদের শিক্ষাজীবনের মূলভিত্তি। ফলে সেখানে শিক্ষার পরিবেশ, শেখানোর প্রক্রিয়া শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সহনীয় হওয়া উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ তারেক আহসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘কিন্ডারগার্টেনে যে মানের শিক্ষক নিয়োগ পাচ্ছেন, তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে সবসময়ই প্রশ্ন উঠেছে। তারা না বুঝেই বাচ্চাদের অতিরিক্ত চাপ দেন। মুখস্ত বিদ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ক্লাসে যখন তারা বাচ্চাদের পড়ান, পাঠ্যবই রিডিং পড়ানোই যেন তাদের একমাত্র কাজ। হাতে-কলমে শেখানোর বিষয়গুলোও তারা লাইন বাই লাইন মুখস্ত করান। ক্লাসে নিরানন্দ পরিবেশে তারা পড়িয়ে থাকেন।’

তিনি বলেন, ‘এসব স্কুলে শিশুদের ওপর রীতিমতো টর্চার (নিপীড়ন) করা হচ্ছে। অথচ এর ছিঁটেফোটাও ধারণা করতে পারছেন না অসচেতন অভিভাবকরা। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি। ২০১৩ সালে প্রণীত শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন করা গেলে, তা বহুলাংশে বন্ধ করা সম্ভব হবে।’নটি রুমের মধ্যে গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষার্থীরা কী শিখছে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জি এম হাসিবুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেসব স্কুলের অনুমোদন নেই তাদের তো জবাবদিহিও নেই। নিজেদের ইচ্ছেমতো চালায়। এগুলো মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বানানো হয়েছে। সারাদেশে এদের সংখ্যা নির্ণয় করা হচ্ছে। অতিসত্বর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে।’