সহকারী প্রধান শিক্ষক
৩১ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:০৩ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমরা শিক্ষার মানে যে পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি তার জন্য নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে, পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু এ কারিকুলাম বাস্তবায়নের সব থেকে বড় ভূমিকা শিক্ষকদের। শিক্ষকদের মানসম্মত হতে হবে, যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা দেয়ার মত যোগ্যতা ও দক্ষতা শিক্ষকদের থাকতে হবে। তাই বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের আরও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এখন আমাদের দেশ প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়েছে। আমাদের শিক্ষকদের বলবো প্রযুক্তিকে কাজের হাতিয়ার করে নিন, তাহলে আরও ভালো হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সরকারি স্কুলে নিয়োগ পাওয়া ২ হাজারের বেশি প্রার্থীর নিয়োগ পত্র ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পাওয়া ৩৪ হাজার প্রার্থীর সুপারিশপত্র অনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেয়া, তাদের প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিং করা, তাদের আগামী জীবনের জন্য তাদের পরমর্শ দেয়ার দায়িত্ব শিক্ষকদের। আজ যারা নিয়োগ পাবেন তারা সবাই এসব বিষয় মাথায় রাখবেন বলে আমি আশা করি।
মন্ত্রী বলেন, প্রাক চাকরির যে প্রতিবেদন, তা এখনও চলমান। তবে করোনাকালীন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে শর্তসাপেক্ষে এই শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তবে অবশ্যই প্রত্যেককে নিরাপত্তা ছাড়পত্র দিতে হবে, নয়তো নিয়োগ স্থায়ী হবে না। বর্তমানে এটি শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারিকরণ হয়ে যাওয়া, মেয়েদের প্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা শিক্ষক পদে কয়েকজন নিয়োগ পাওয়ায় কয়েকজন প্রার্থী নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়নি।তাদেরও অন্য পদে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।
বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষক পদে প্রার্থীরা অনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেলেন। যদিও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীরা আগেই সুপারিশপত্র পেয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি স্কুলের শিক্ষক পদে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে সুপারিশ পাওয়া ২ হাজার ৬৫ জন প্রার্থীকে ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এনটিআরসিএর মাধ্যমে সুপারিশ পাওয়া ৩৪ হাজার ৭৩টি পদে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ও সুপারিশপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। নতুন নিয়োগ পাওয়া ৩৬ হাজার শিক্ষককে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।
শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষা উপমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ১১জন নতুন শিক্ষকের হাতে নিয়োগপত্র ও সুপারিশপত্র তুলে দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই অর্থনীতিতে একটা বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বিদ্যালয়ে স্বশরীরে পাঠদান ব্যহত হয়েছে। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আজ যেসব শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ পাচ্ছেন, এই যোগ্য শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ন্যূনতম মান নির্ধারিত হবে বলে আমি মনে করি। এছাড়া শিক্ষকদের শুধুমাত্র পাঠক্রমের মধ্যে আটকে থাকলে হবে না, বরং গতানুগতিকতার বাইরে এসে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে। তাদের উন্নত মানসিকতার দর্শন শেখাতে হবে। দক্ষ হতে হবে এবং টেকসইভাবে গড়ে তুলতে হবে আমাদের সন্তানদের। মনে রাখতে হবে যে, শিক্ষকতা কোন গতানুগতিক পেশা নয়, এটা একটি ব্রত।