সহকারী প্রধান শিক্ষক
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
বৃত্তিমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ধারণা :- স্বাধীনতার আগে ভারতে বৃত্তি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর তেমন গুরুত্ব আরোপ করা হয়নি।
স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশের আর্থিক উন্নয়নের জন্য বৃত্তি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করার প্রয়োজনীয়তা অণুভব হয়।
যে শিক্ষা কোনো শিক্ষার্থীকে াবিশেষ বৃত্তি সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে, সেই শিক্ষাকে বৃত্তিমুখী শিক্ষা বলে।
উদাহরণস্বরূপ- কম্পিউটারের সাহায্যে বিভিন্ন কাজ করার জন্য বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা,
যেমন- DOS, WINDOWS, BASIC, LOGO ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা।
যে শিক্ষার দ্বারা কোনো শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নানান বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রয়োগ করে শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি বা কলকারখানার যন্ত্রপাতির ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করানো হয়,
সেই শিক্ষাকে বলে কারিগরি শিক্ষা। যেমন লেদ মেসিন চালানো, ওয়েল্ডিং ইত্যাদি।
বৃত্তিমূলক শিক্ষার উপযোগিতা বা বৃত্তিমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা:-
ব্যক্তির জীবিকা অর্জনের সঙ্গে এই শিক্ষা বিশেষভাবে জড়িত। উপযুক্ত জীািবকা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীকে বৃত্তিমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় অংশ নিতে হয়।
হার্টস্রোন এই প্রকার শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন-Vocational education is an education of most effective kind,
for lack of which, those who merely go to school, suffer all their lives.
অর্থাৎ বৃত্তিমূলক শিক্ষা হল এমনই এক ধরনের কার্যকরী শিক্ষা যা গ্রহণ না করলে শিক্ষার্থীকে সারাজীবন দুঃখ ভোগ করতে হয়।
বৃত্তিমুখী কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বা উপযোগিতাগুলি নািচে আলোচনা করা হল-
১) শিক্ষার্থীকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে :- বৃত্তিমুখী কারিগরি শিক্ষা শিক্ষার্থীকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে হাতে-কলমে কাজ করার সুযোগ করে দেয়,
যার ফলে সে ওই বিশেষ বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে। ফলে ভবিষ্যৎ জীবনে সে ওই বিষয়ে চাকরি করতে পারে বা স্বনিযুক্ত কাজে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
অর্থাৎ এই ধরনের শিক্ষাগ্রহনের ফলে শিক্ষার্থী স্বনির্ভর হতে পারে।
২) শিক্ষার্থীকে আর্থিক স্বচ্ছলতা দান করে :- এই শিক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ ও গুনগত মান বৃদ্ধি করে। অধিক উৎপাদন কেবলমাত্র ব্যক্তির স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি করে তাই নয়,
সমাজ ও দেশের আর্থিক উন্নয়নেও সাহায্য করে।
৩) শ্রমের প্রতি মর্যাদাদানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেয় :- বৃত্তিমুখি ও কারিগরি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শ্রমের প্রতি মর্যাদা উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।
সমাজের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে অভিযোজনে এবং নৈতিক চরিত্র গঠনেও এইপ্রকার শিক্ষার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
৪) শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সাহায্য করে :– পুঁথিগত, নিরস সাধারণ শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক ক্লান্তি এনে দেয়।
বৃত্তিমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় ব্যবহারিক এবং হাতে কলমে কাজ করার সুযোগ থাকায় তা সহজে একঘেয়ে হয়ে যায় না।
৫) বৃত্তিশিক্ষা গ্রহণকালে অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দেয় :- অনেকক্ষেত্রে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণকালে কিছু অর্থ উপার্জন করা যায়।
ওই অর্থ পড়ার খরচ চালাতে সাহায্য করে। সেই দিক থেকে এইপ্রকার শিক্ষার উপযোগিতা সাধারণ শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি।
৬) ব্যতিক্রমী শিক্ষার্থীদের জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভে সাহায্য করে :- ব্যতিক্রমী বা প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।
এদের মধ্যে অনেকেই সাধারণধর্মী শিক্ষায় খুব একটা পারদর্শিতা অর্জন করতে পারে না।
এর পরিবর্তে কোনো বিশেষ বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিলে হাতে-কলমে তারা কিছু উৎপাদন করতে পারে এবং অর্থ উপার্জনে সক্ষম হয়ে ওঠে।
৭) কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে :- বৃত্তিমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত কর্মপ্রার্থীদের চাকরির বাজার অপেক্ষাকৃত ভালো।
দক্ষ ব্যক্তির চাকরির কোনো অভাব নেই। চাকরি না পেলেও ব্যক্তি নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করতে পারে।
৮। জাতির উন্নয়নে সাহায্য করে :- শিল্পের জন্য প্রয়োজন হয় দক্ষ কারিগরের। বৃত্তিমুখী ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই দক্ষ কারিগর তৈরি করা সম্ভব।