Loading..

০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ০৮:১২ পূর্বাহ্ণ

মাটি

মাটি বা মৃত্তিকা হল পৃথিবীর পৃষ্ঠের নরম আবরণ। মাটি স্থলজ গাছপালা জন্মানোর প্রাকৃতিক মাধ্যম। পাথর পাউডার বা গুঁড়া হয়ে সৃষ্ট খনিজ পদার্থ এবং জৈব যৌগ মিশ্রিত হয়ে তৈরি হয় মাটি। জৈব পদার্থের উপস্থিতিতে প্রাকৃতিক এবং রাসায়নিক পরিবর্তন যেমন মাটির ক্ষয়, বিচূর্ণিভবন ইত্যাদির মাধ্যমে শিলা থেকে মাটির ক্ষয় ঘটেছে এজন্যই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন মাটি পাওয়া যায় না। ভূত্বক, পানির স্তর, বায়ুর স্তর এবং জৈব স্তরের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শিলা থেকে মাটি গঠিত হয়। এক কথায় মাটি কাকে বলে


) ভূ-ত্বকের নরম উপরিভাগই মাটি।

(২) ভূ-পৃষ্ঠের নরম আবরনকে মাটি বলে।

(৩) পৃথিবীর উপরিভাগের নরম ও দানাদার আবরণ বা স্থরকে মাটি বলে।

(৪) কঠিন পদার্থের ছোট ছোট টুকরা, পানি ও বায়ুর সমন্বয়ে গঠিত যৌগিক পদার্থ কে মাটি বলে।

(৫) পৃথিবীর উপরিভাগের যে নরম স্তরে গাছপালা মূল স্থাপন করে রস শোষণ করে জন্মায় ও বৃদ্ধি পায় তাকে মাটি বলে ৷

(৬) উদ্ভিদ জন্মানোর উপযোগী খনিজ, জীব ও জৈব সমন্বয়ে গতিশীল প্রাকৃতিক বস্তুকে মাটি বা মৃত্তিকা বলে।

(৭) অসংহত শিলা ও মণিকের ভগ্নাংশ এবং পৃথিবী পৃষ্ঠে উৎপন্ন জৈবপদার্থের সঞ্চয়ন, যা জীবন ধারণে সহায়তা করতে সক্ষম করে তাকে মাটি বলে ৷

কৃষকের ভাষায় মাটি কি বা কাকে বলে: যেখানে ফসল জন্মায়, বন সৃষ্টি হয় আর গবাদিপশু বিচরণ করে তাকে মাটি বলে।

মাটির উপাদান – মাটি মোট ৪ টি প্রধান উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত।

মাটির উপাদান কি কি – মাটির উপাদান গুলো কী কী নিচে তা উল্লিখিত হলোঃ

ক্রমিক নংমাটির উপাদান কত ভাগ
০১খনিজ পদার্থ৪৫%
০২জৈব পদার্থ৫%
০৩বায়ু২৫ %
০৪পানি২৫%
মোট=১০০%

গঠন ও প্রকৃতি অনুযায়ী মাটি কত প্রকার ও কি কিঃ গঠন ও প্রকৃতি অনুযায়ী মাটি চার প্রকার।

যথাঃ-

ক্রমিক নংমাটি কত প্রকার
০১বেলে মাটি
০২পলি মাটি
০৩কর্দম মাটি এবং
০৪দোআঁশ মাটি

) এটেল মাটি কাকে বলে ও বৈশিষ্ট্য

এঁটেল মাটি কি: যে মাটিতে বালু অপেক্ষা পলি ও কাদার পরিমান বেশি থাকে এবং দানা গুলি খুব ছোট তাকে এটেল মাটি বলে।

এঁটেল মাটি বৈশিষ্ট্য:

  • এটেল মাটিতে বালু অপেক্ষা পলি ও কাদার ভাগ বেশি থাকে।
  • এই মাটির কাদা মাটি খুব নরম, দানা খুব ছোট ও মিহি।
  • এই মাটি বেশি পানি ধরে রাখতে পারে।
  • এ মাটিতে ভালভাবে বাতাস চলাচল করতে পারেনা।
  • মাটি সব ফসলের জন্য তেমন উপকারী নয়।
  • কিন্তু এই মাটিতে ধান চাষ করা যায়।

(২) বেলে মাটি কাকে বলে ও বৈশিষ্ট্য

বালি বা বেলে মাটি কিঃ যে মাটিতে পলি ও কাদার অপেক্ষা বালু পরিমান বেশি থাকে তাকে বেলে মাটি বলে।

বেলে মাটি বৈশিষ্ট্য:

  • বেলে মাটিতে বালির ভাগ বেশি থাকে।
  • এই মাটিতে পানি ধারন ক্ষমতা কম।
  • এ মাটিতে ভালভাবে বাতাস চলাচল করতে পারে
  • বেলে মাটিতে ফসল তেমন ভাল হয় না তবে তরমুজ শসা, বাঙ্গী, চীনাবাদাম, মিষ্টি আলু ইত্যাদি ভাল জন্মে।

(৩) দোআঁশ মাটি কাকে বলে ও বৈশিষ্ট্য

দোআঁশ মাটি কিঃ যে মাটিতে ৪০% বালি কণা, ২০% কাদা কণা ও ৪০% পলিকণা যুক্ত মাটি থাকে তাকে দোআঁশ মাটি বলে। এই মাটিতে মাটিতে কাদা আর পলিকণা প্রায় সমান পরিমাণে থাকে।

দোআঁশ মাটি বৈশিষ্ট্য:

  • দোআঁশ মাটিতে বালি, পলি ও কাদা সম পরিমানে থাকে।
  • এ মাটির পানি ধারন ক্ষমতা মাঝারী।
  • চাষ ব্যবস্থাপনায় পুকুর তৈরির জন্য দোঁআশ মাটি সবচেয়ে ভাল।
  • চাষাবাদের জন্য দোআঁশ মাটি উপযুক্ত। এ মাটিতে ধান, পাট, গম, পিয়াজ, মরিচ, ভূট্টা, আলু, শাকসবজি ইত্যাদি ভাল জন্মে।
  • মাটির গুণাগুণ:

    অঞ্চলভেদে  মাটির গুণাগুণ ও প্রকার PH-র ভিত্তিতে মাটির ধরন মাটির বর্ণ উৎপাদনশীলতা ১ বরেন্দ্র, মধুপুর গড়, সাভার, গাজীপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীর অংশ বিশেষ এটেল, কাদা ও বালিযুক্ত কাদা বেশি অম্লীয় লাল ও বাদামী প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা কম ২ যশোর, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশালের কিয়দংশ পলিযুক্ত এটেল ক্ষারীয় হালকা ও বাদামী গাঢ় ধূসর প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা বেশি ৩ ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ঢাকা, রংপুর, বগুড়া, পাবনা ও ফরিদপুরের কিয়দংশ পলিযুক্ত দো-আঁশ নিরপেক্ষ থেকে ক্ষারীয় ধূসর ও গাঢ় ধূসর প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক বেশি ৪ রংপুর-দিনাজপুরের কিয়দংশ, মানিকগঞ্জ, গাইবান্ধা, ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলের কিয়দংশ বালি ও বালিযুক্ত পলি কিছুটা অম্লীয় ধূসর প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম ৫ নদী সন্নিকটস্থ অঞ্চল বালিযুক্ত পলি অম্লীয়/ক্ষারীয়/নিরপেক্ষ ধূসর থেকে কালচে ধূসর প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম ৬ উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ পলি ও কাদার ভাগ বেশি অম্লীয় কালো বা ছাই রং প্রাকৃতিক উৎপাদনশীলতা কম।

মন্তব্য করুন