প্রভাষক
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
নতুন সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিবিএ দিয়েই শুরু করেছে। কিন্তু আমাদের তো এত বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেই। স্বভাবতই এটি এখন ব্যাকফায়ার করেছে। অন্যদিকে জাতি হিসেবে আমাদের উন্নতি করতে হলে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতার বিকল্প নেই।
এ জন্য আমাদের প্রকৌশলে দক্ষ জনবল লাগবে। জাপান, তাইওয়ান, কোরিয়া—তারা তো সেটাই করেছে। আমাদেরও সেই মাপের জনবল তৈরি করতে হবে। আর সেটা করতে হলে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় আরো বেশি জোর দিতে হবে।
এখনো বাংলাদেশে যত বড় বড় অবকাঠামো, তার প্রায় সবই বিদেশিরা তৈরি করেছে, এটিই সত্য কথা। এর পেছনে দুটি কারণ। প্রথমত, আমাদের দক্ষ জনবল নেই। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিদেশপ্রীতি আছে। মাথায় রাখতে হবে, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের যথেষ্ট দক্ষতা ও জ্ঞান আছে। এ ধারার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমাদের আত্মসম্মান বোধ বাড়াতে হবে।
আমাদের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি শিক্ষাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তবে আমাদের যত সরকার এসেছে, তারা শিক্ষাকে যথোপযুক্ত গুরুত্ব দেয়নি। কোরিয়ায় গৃহযুদ্ধের পরে তাদের অবস্থা যখন খুব খারাপ ছিল, তখন তারা কিন্তু ঠিকই শিক্ষায় বিনিয়োগ করেছে। মালয়েশিয়াও একই কাজ করেছে। আমরা কিন্তু এর ধারে-কাছেও নেই।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরো বেশি গবেষণার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা উচিত। এখনো আমাদের দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির খুব বেশি গুরুত্ব নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে লোকজন নানা ধরনের পুরস্কার পেলেও শিক্ষক, বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তিবিদরা সেভাবে পান না। ভারতে কিন্তু বিজ্ঞানকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্যই তারা অনেকদূর এগিয়ে গেছে।
আমাদের দেশে যারা প্রযুক্তিগত পণ্য উৎপাদন করছে, তাদের দারুণভাবে উৎসাহিত করতে হবে। তাহলে অনেক বেশি প্রকৌশলী সেখানে চাকরি পাবে। গবেষণায় জোর দিতে হবে। যাতে আমরা আরো ভালো পণ্য উৎপাদন করতে পারি।
এখন আমাদের দেশে বেশ কিছু কম্পানি বিভিন্ন ইলেকট্রিক, ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনে ভালো করছে। আইসিটিতেও দেশ এগোচ্ছে। তারা যদি আরো ভালো করতে পারে, তাহলে সেখানে অনেক বেশি ইঞ্জিনিয়ারের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এখানে সরকারের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
লেখক : মোহাম্মদ কায়কোবাদ, সাবেক অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)