সহকারী শিক্ষক
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ০১:১৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল অনেক ধরনের। এর কয়েকটি শিক্ষককেন্দ্রিক এবং কয়েকটি শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। শিখন-শেখানো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ শিক্ষালাভে সহায়ক। সব পদ্ধতিরই কমবেশি সুবিধা ও অসুবিধা আছে। এমন কোনো পদ্ধতি বা কৌশল নেই যেটি সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমভাবে উপযোগী বা সব ধরনের বিষয়বস্তুর জন্য উপযোগী। শিক্ষকের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশলের উপর দক্ষতা এবং শ্রেণি ও পাঠ উপযোগী পদ্ধতি ও কৌশলের যথাযথ প্রয়োগের উপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীর শিখন সাফল্য। এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে একটি পাঠ পরিচালনায় শিক্ষককে এক বা একাধিক পদ্ধতির উপর নির্ভর করতে হয়। পাঠকে ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষক পরিস্থিতি অনুসারে একাধিক পদ্ধতি ও কৌশলের সংমিশ্রণে নিজের মতো করে পাঠ পরিচালনা করতে পারেন। পাঠের সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষকের বিচক্ষণতা এবং বিষয়জ্ঞান ও শিখন পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগের উপর। এজন্য বলা হয় শিক্ষকই সর্বোৎকৃষ্ট পদ্ধতি।
পদ্ধতি বা মেথড (Method) হলো কোনও কিছু করার নির্ধারিত উপায়, প্রক্রিয়া বা পথ। উপযুক্ত প্রক্রিয়া ব্যতীত কোনো কাজ সম্পাদন করলে তা যথাযথ হয় না। পাঠদান পদ্ধতি হলো পাঠদানের প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়া হবে যথাযথ ওকার্যকর অর্থাৎ শিখনফল অর্জন উপযোগী। এক্ষেত্রে বিষয়বস্তু, শিক্ষক, শিক্ষার্থী পারস্পারিক সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে পাঠের লক্ষ্যও উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়াই হলো পদ্ধতি। শিক্ষক যে প্রক্রিয়ায় সার্থক, ফলপ্রসু, কার্যকর পাঠদান করেন, শিখনফল অর্জন করেন তাকে পদ্ধতি বলে।
শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষক কর্তৃক পরিচালিত পদ্ধতি ও কৌশলের উপর। শিক্ষার্থীদের ক্ষমতা ও প্রবণতা এবং পাঠের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পদ্ধতি ও কৌশল নির্বাচন করা প্রয়োজন। পদ্ধতি ও কৌশল সঠিক হলে এবং যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে শিক্ষার্থী সহজে শিখতে পারে।
সনাতন এ পদ্ধতিতে শুধু শিক্ষকেরই প্রাধান্য থাকে, তিনি একনায়ক পন্থায় গতানুগতিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের তথ্য ও জ্ঞান সরবরাহ করে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। প্রশ্নের সাহায্যে শিক্ষার্থীদের ভেতর থেকে তথ্য বের করে আনতে পারেন। যে পন্থাই অবলম্বন করেন না কেন শিক্ষক যখন কেন্দ্র বিন্দুতে থেকে শ্রেণি পরিচালনা করেন তখন শিক্ষার্থীরা পরোক্ষ শিখনে উদ্বুদ্ধ হয়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষক নির্দেশিত গে․ণ ভূমিকা পালন করে তা শিক্ষক কেন্দ্রিক পদ্ধতির অন্তর্গত।
শিক্ষক কেন্দ্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষক শিক্ষণীয় উপদানগুলো নিজের মতো করে সাজিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন। শিক্ষার্থীদের সরাসরি শিক্ষণীয় উপাদানগুলোর সাথে সম্পর্ক থাকে না। বিষয়বস্তুর সাথে পরোক্ষভাবে শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে দাতা গ্রহীতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শিক্ষক- শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থী-শিক্ষার্থী মিথষ্ক্রিয়া হয় না।
শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী শিক্ষনীয় উপদানগুলো নিজের মতো করে সাজিয়ে শেখে। শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি শিক্ষণীয় উপাদানগুলোর সাথে সম্পর্ক থাকে। বিষয়বস্তুর সাথে প্রত্যক্ষভাবে শিক্ষকের সহচর্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শিক্ষক- শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থী-শিক্ষার্থী মিথষ্ক্রিয়া হয়। শিখনের একজন সহায়ক বা ফ্যাসিলিটেইটর (Facilitator) হিসেবে কাজ করেন। তারা শিখন পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য দায়িত্বশীল হন, কিন্তু শিখন ফলাফল তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।
শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষক কর্তৃক পরিচালিত পদ্ধতি ও কৌশলের উপর। শিক্ষার্থীদের ক্ষমতা ও প্রবণতা এবং পাঠের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পদ্ধতি ও কৌশল নির্বাচন করা প্রয়োজন। পদ্ধতি ও কৌশল সঠিক হলে এবং যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে শিক্ষার্থী সহজে শিখতে পারে।
সফল ও সার্থক পাঠদানের জন্য শিক্ষককে যে-কোনো পদ্ধতি বা পদ্ধতির অংশ যে কোনো সময় প্রয়োগ করতে হয়, শিক্ষক একটি বা সুনির্দিষ্ট কয়েকটি পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে পাঠদান করেন না, পরিস্থিতি অনুযায়ী নানা কৌশল প্রয়োগ করে সফল পাঠদান প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হন; এগুলো হলো পাঠদানের কৌশল।
পদ্ধতির সফল ও যথোপযুক্ত প্রয়োগের জন্য শিক্ষক যে সকল কৌশল ব্যবহার করেন তাকে পাঠদানের কৌশল বলে।
বক্তৃতা পদ্ধতি, আলোচনা, অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি : (প্রশ্ন-উত্তর পদ্ধতি, সহযোগিতামূলক শিখন পদ্ধতি, ওয়ার্কশ, সমস্যা সমাধান পদ্ধতি, প্রকল্প পদ্ধতি, অভিজ্ঞতামূলক পদ্ধতি, পোস্ট বক্স, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি, সংশ্লেষণ পদ্ধতি, মাইক্রোটিচিং, আরোহী, অবোরহী, বিশ্লেষণ)
একক কাজ, দজাড়ায় কাজ, দলীয় কাজ, ফাড়ির কাজ, দফারডজ র কাজ, নির্ধারিত কাজ, মার্কেট প্লেস, মৎস্যপাত্র, পোস্ট বৈ, VIPP CARD, শোনা এবং পর্যবেক্ষণ করা, স্নোবলিং (Snowballing), ভূমিকা পালন, সাক্ষাৎকার, মাথা খাটানো, এৈপাট জিগস, মাইন্ড ম্যাপিং Buzz-groups, আইসব্রেকিং (Ice Breaking)।