করোনা একটি শব্দ যা আমাদের জীবীন কে করেছে স্থবির। শিক্ষা বাবস্তায় এনেছে স্থবিরতা। শিক্ষার্থীদের মেধা মননে আনছে অনেক প্রতিবন্ধকতা। দীর্ঘ ১৮ মাস পরে যখন শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হলো তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল অনেক উৎকন্ঠা ও ভয় । পাশাপাশি দীর্ঘদিন পড়া লেখার বাইরে থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে তেমন মনোযোগ দিতে পারছিল না। ঠিক তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম শিক্ষার্থীদের কি ভাবে পাঠে মনোযোগী করা যায় তখনই মনে পড়লো মাউশি এক নির্দেশনার কথা যেখানে বলা ছিল বিদ্যালয় খোলার পরে কয়েক সপ্তাহ সহ পাঠক্রমিক কার্যক্রমের মাধ্যেমে তাদেরকে বিদ্যালয় মুখী করতে হবে। এই বিষয়টিকে মাথায় নিয়ে আমার এই উদ্ভাবনী গল্প।
আমি ইন্টার ভেনশন হিসেবে যে কাজ গুলো করেছি, খেলা ধুলার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ একেবারেই নেই। কারণ তারা করোনা কালীন বন্ধের সময় এত বেশি মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস এর প্রতি আসক্ত হয়ে গেছে যে সেখান থেকে তাদেরকে বের করে আনা খুবই কষ্টকর কাজ। আমি সেই কাজটি হাতে নিলাম এবং সকলের সহযোগিতায় সফল ও হয়েছি। আমি শুরু থেকে তাদেরকে গ্রাম বাংলার স্থানীয় খেলাধুলার সাথে পরিচয় করিয়ে দেতে চেয়েছিলাম। তাই তাদের কে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে দিয়ে তাদের বাবা মা ও দাদা দাদির কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের গ্রামীন খেলাধুলার ধারণা নিয়ে বাড়িতে অনুশীলন করে আসতে বলেছিলাম এবং বিদ্যালয়ে এসে প্রতিদিন নিজেদের মধ্যে দল গঠন করে খেলতে বলেছিলাম। এর ফলে শিক্ষার্থীরা যখন অভিভাবক দের সাথে আলোচনা করে তখন অভিভাবকরা আমরা এই বিষয়টিকে অনেক সাধুবাদ জানায়। তারা জানান এখন তাদের ছেলে মেয়েরা মোবাইলের পরিবর্তে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করে বিশেষ করে বিলুপ্ত হতে যাওয়া গ্রামীণ খেলাধুলা বাড়িতে অনুশীলন নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকে। যা তাদেরকে খুব মজা দেয়। পাশাপাশি তারা প্রাচীন খেলাগুলির সাথে পরিচিত হতে পেরেছে।ফলে তাদের পাঠের প্রতি যেমন মনোযোগ এসেছে তেমনি বিদ্যালয় আসার প্রতিও আগ্রহ বেড়েছে।
আশা করি আমরা সবাই এধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করলে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিতরূপে বিদ্যালয় মুখী হবে ইনশাআল্লাহ।