প্রাণীর কোন আচরণই উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘটে না। প্রাণী তিনটি কারণের জন্য আচরণ করে বেঁচে থাকা বংশ রক্ষা এবং বংশগতির উন্নতি। আর প্রাণীর এই সকল আচরণ তাড়না দ্বারা পরিচালিত হয়। উদ্দেশ্য মূলক আচরণের লক্ষ্য পূরণের জন্য এইযে আভ্যন্তরীণ তারণা বা তাগিদ তাকেই বলে প্রেষণা।
অর্থাৎ প্রেষনা এমন একটি মানসিক অবস্থা যা আমাদের বিশেষ একটি ক্রিয়া সম্পাদন করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং কাজকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য মুখী করে ও লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সেই কাজে ব্যাপৃত রাখে।
প্রেষণার সংজ্ঞা থেকে প্রেষণার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় যেমন -
- প্রেষণা চিরস্থায়ী নয়। মাঝপথে কমে যেতে পারে। এমনকি কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে হলে প্রেষণা মাঝপথে শেষ হয়ে যেতে পারে।
- প্রেষণা আচরণ সম্পন্ন করে না আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
- প্রেষণা আচরণের অভিমুখ নির্দেশ করে মাত্র।
- একটি উদ্দেশ্য পূরণের প্রেষণা অন্য উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কার্যকর হতে পারে না।
- প্রেষণা কার্যপদ্ধতি স্থির করে না, কার্যপদ্ধতি বক্তি নিজেই স্থির করে নেয় ধনী হওয়ার জন্য বাসনায় ব্যক্তি কোন পথ বেছে নেবে তা ব্যক্তির নিজস্ব।
- প্রেষণা বাধাপ্রাপ্ত হলে মানুষের প্রক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
- প্রেষণার তীব্রতা অনুযায়ী কাজের গতি ও উদ্দেশ্য বাছাই করা প্রয়োজন হয়।প্রেষণার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মনোবিদ কয়েকটি তথ্য আলোচনা করেছেন, এই সকল তত্ত্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাসলোর চাহিদার ক্রমপর্যায় তত্ত্ব। শারীরবৃত্তীয় চাহিদা:
অন্যান্য ইতর প্রাণীদের মতোই বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজন খাদ্য বাসস্থান ইত্যাদি অর্থাৎ যে সমস্ত উপাদান বিভিন্ন ক্রিয়া-কলাপ এর মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজন মেটায়। এই চাহিদা মানুষকে খাদ্য সংগ্রহ খাদ্য গ্রহণ করার জন্য প্রেরনা যোগায় যার অভাবে এই চাহিদার পূরণ হয় না। আর এই শারীরবৃত্তীয় চাহিদা পূরণ হলে তবেই পরবর্তী পর্যায়ের চাহিদা পূরণ করার জন্য মানুষ সচেষ্ট হয়।আত্মসম্মানের চাহিদা:
নিজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গুরুত্ব আস্থা ইত্যাদি মিলে যে জটিল কিন্তু ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় আত্মসম্মান। যে ব্যক্তি নিজেকে অশ্রদ্ধা করে তার পক্ষে অপরকে শ্রদ্ধা করা কঠিন। মানুষ সামাজিক জীব গোষ্ঠী হলেও প্রত্যেকটি ব্যক্তির একটি নিজস্ব স্থান থাকে। কোন ব্যক্তির ভালোবাসা ও একাত্মতার চাহিদা পূরণ না হলে আত্মসম্মানের চাহিদা পূরণের জন্য কোন প্রেষণা জাগ্রত হওয়া সম্ভব নয়।
আত্মপ্রতিষ্ঠার চাহিদা:
মসলোর তত্ত্বে আত্মপ্রতিষ্ঠা কে সর্বোচ্চ স্তরে রাখা হয়েছে। প্রত্যেক ব্যক্তি যে নিজের সম্বন্ধে শ্রদ্ধা পোষণ করে যার আত্মসম্মানের চাহিদা পূরণ হয়েছে সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এবং সেই মতো কাজে উদ্বুদ্ধ হয়। যেমন প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করতে চাই তার দক্ষতা গুলিকে ক্রমাগত পরিশীলিত করতে চাই তার নিজের সুপ্ত ক্ষমতা গুলিকে চূড়ান্ত বিকাশের পথে নিয়ে যেতে চাই আর এর মধ্য দিয়েই তার আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ হয়মসলোর তত্ত্বে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যাা পরবর্তীকালে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায়়় প্রমাণিত হয়েছে, তত্ত্বের প্রয়োগের স্থানগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো -