Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ০৩:২৫ অপরাহ্ণ

বাবুরের মহত্ত্ব, কালিদাস রায়,

বাবুরের মহত্ত্ব, কালিদাস রায়, কবিতা, কবিতা আবৃতি, কবিতা আবৃতি, কবিতা আবৃতি শিক্ষা প্রার্থনা কবিতার আবৃতি, বড়ই কঠিন জীবন দেওয়া যে জীবন নেওয়ার চেয়ে’— কেন? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বড় মিয়ার আচরণে ‘বাবুরের মহত্ত্ব কবিতায় ফুটে ওঠা দিকটি ব্যাখ্যা করাে। ‘বাবুরের মহত্ব’ কবিতার একটা বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও সমভাব ধারণ করে না’ যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখাে। ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ক। রণবীর চৌহান ছিলেন এক স্বদেশপ্রেমিক রাজপুত যুবক। খ। কোনাে মানুষকে হত্যা করা যতটা কঠিন তার জীবন রক্ষা করা এর চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। কোনাে মানুষকে হত্যা করা সহজসাধ্য বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রেই হত্যাকারীকে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়। তবে কোনাে মানুষের প্রাণ বাঁচানাে আরও কঠিন। প্রাণ নেওয়ার ক্ষমতা মানুষের থাকলেও প্রাণ দেওয়ার ক্ষমতা কারাে নেই। তাছাড়া কারাে প্রাণ বাঁচানাের জন্য যেমন মানসিকতার প্রয়ােজন হয় তা খুব বেশি মানুষের মাঝে লক্ষ করা যায় না। তাই জীবন কেড়ে নেওয়া যত কঠিন জীবন দান করা তার চেয়েও বেশি কঠিন। গ। উদ্দীপকে বর্ণিত বড় মিয়ার আচরণে বাবুরের মহত্ত্ব’ কবিতার সম্রাট বাবুরের মহানুভবতার দিকটি ফুটে উঠেছে। ‘বাবুরের মহত্ত্ব কবিতায় কালিদাস রায় মুঘল বাদশাহ বাবুরের মানবপ্রেমের কথা তুলে ধরেছেন। এক মেথরের শিশুকে বাঁচানাের জন্য তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করেন। মত্ত হাতির কবল থেকে শিশুটির জীবন রক্ষা করেন তিনি। উদ্দীপকে বর্ণিত বড় মিয়া একজন মহৎপ্রাণ মানুষ। স্রোতের তােড়ে ডুবে যাওয়া অসহায় শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য জীবনের ঝুঁকি নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করতে সমর্থ হলেও নিজে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সম্রাট বাবুরের মতােই উদ্দীপকের বড় মিয়াও মহানুভবতার অনুপম দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। ঘ। উদ্দীপকে ‘বাবুরের মহত্ত্ব’ কবিতার একটি বিশেষদিক ফুটে উঠলেও কবিতা ও উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট এক নয়, ‘বাবুরের মহত্ত্ব’ কবিতায় কালিদাস রায় মুঘল সাম্রাজ্যের মহান শাসক বাবুরের মহত্ত্বের পরিচয় তুলে ধরেছেন। ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পরে বাবুর প্রজাদের মন জয় করতে ব্রতী হন। এই লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে দিল্লীর পথে পথে ঘুরে বেড়াতে থাকেন তিনি। উদ্দীপকে বড় মিয়া নামক এক নিঃস্বার্থ মানসিকতার ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া শিশুটিকে বাচাতে তিনি নিজের জীবনের পরােয়া করেননি। শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনের বিনিময়ে শিশুটিকে বাঁচাতে সক্ষম হন তিনি। বাবুরের মহত্ত্ব’ কবিতায় সম্রাট হিসেবে বাবুরের মহত্ত্বের পরিচয় ফুটে উঠেছে। সেই সঙ্গে তার আদর্শ ও মানবিক মূল্যবােধও প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার মাধ্যমে আমরা কেবল বড় মিয়ার উদার মানসিকতারই প্রমাণ পাই। আলােচ্য কবিতায় ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের গােড়াপত্তনের ইতিহাস এবং বাবুরের সংগ্রামী অভিযাত্রার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের কোনাে প্রসঙ্গ উদ্দীপকে নেই। কবিতায় বাবুরের যে মহত্ত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় তার সঙ্গে উদ্দীপকের রয়েছে ঘনিষ্ট সম্পর্ক। কিন্তু উদ্দীপকের ঘটনায় তেমন কোনাে বিশেষ পটভূমির ইঙ্গিত নেই। তাই সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথাযথ। বাচিতে চাই না আর জীবন আমার সঁপিলাম, পীর, পুত পদে আপনার। ইব্রাহিমের গুপ্তঘাতক আমি ছাড়া কেউ নয়, ঐ অসিখানা এ বুকে হানুন সত্যের, হােক জয়। ক. বাবুর-এর আসল নাম কী? খ. সঁপিনু জীবন, করুণ এখন দণ্ডবিধান মাের।’- উক্তিটি কার, কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ইব্রাহিমের গুপ্তঘাতকের সাথে ‘বাবুরের মহত্ত্ব’ কবিতায় বর্ণিত রাজপুত বীরের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করাে। ঘ. উদ্দীপকটি বাবুরের মহত্ত্ব’ কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশে কতটুকু সক্ষম তা যুক্তি সহকারে বুঝিয়ে বল। ২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ক। বাবুর-এর আসল নাম জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ। খ। সম্রাট বাবুরের মহত্ত্বের পরিচয় পেয়ে রণবীর চৌহান তার কাছে আত্মসমর্পণ করে প্রশ্নোত উক্তিটি করেন। রণবীর চৌহান নিজ জাতির পরাজয়ের প্রতিশােধ নেওয়ার জন্য বাবুরকে হত্যা করতে চান। এজন্য তিনি দিল্লির পথে পথে বাবুরের সন্ধান করতে থাকেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, পর্যটকবেশী বাবুর নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মত্ত হাতির কবল থেকে রাজপথে পড়ে থাকা একটি মেথর শিশুকে উদ্ধার করেন। রাজপুত যুবক রণবীর চৌহান বাবুরের এই মহত্ত্বে বিস্মিত হন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তার কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং প্রশ্নোত্ত উক্তিটি দ্বারা নিজের অপরাধের শাস্তি পেতে চান। গ। উদ্দীপকে বর্ণিত গুপ্তঘাতক ও বাবুরের মহত্ত্ব’ কবিতায় বর্ণিত দুজনেই মহৎ ব্যক্তিত্বের কাছে নিজেদের জীবন সঁপে দিয়েছেন রাজপুত বীর। ‘বাবুরের মহত্ত্ব’ কবিতায় বর্ণিত সম্রাট বাবুরের উত্থানকে কোনাে ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না রাজপুতগণ। রাজপুত বীর তরুণ রণবীর চৌহান বাবুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে দিল্লীর রাজপথে ঘুরছিলেন। কিন্তু বাবুরের মহানুভবতার পরিচয় তার মনের পরিবর্তন ঘটায়। বাদশাহ বাবুরের কাছে পরিচয় প্রকাশ করে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত গুপ্তঘাতক নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে। মহৎ ব্যক্তির কাছে নিজের জীবন সমর্পণ করেছে। বাবুরের মহত্ত্ব কবিতায় বর্ণিত গুপ্তঘাতক একইভাবে নতি স্বীকার করে বাদশাহ বাবুরের কাছে। সুতরাং, এদিক থেকে চরিত্র দুটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

মন্তব্য করুন