Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ০৪:৩৮ অপরাহ্ণ

@@@ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা-উপকরণ ব্যবহার#

শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার :
শিক্ষা উপকরণ তৈরি করার পর তার ব্যবহার-উপযোগিতা যাচাই করা আবশ্যক। শিক্ষক বা শিক্ষিকার পাঠদানে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণে শিক্ষা উপকরণ কি পরিমাণ সাহায্য করতে সক্ষম তা পরখ করে দেখার পরই মন্তব্য করা যাবে যে, শিক্ষা উপকরণ শিক্ষোপযোগী হয়েছে কিনা। শিক্ষোপকরণের সুবিবেচনাপ্রসুত ব্যবহারই শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও শিক্ষণীয় বিষয় শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় ও উপাদেয় করতে পারে। একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে উদ্ধুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য এর পরিকল্পনা প্রয়োগ ও পরখ করে উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে তৎপর হতে পারে না। শিক্ষা উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহারে নিম্নিলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি দেয়া উচিত-




ক. শিক্ষা উপকরণ বাছাই : শিক্ষার্থীর বয়স, গ্রহণ ক্ষমতা, আগ্রহ ইত্যাদির প্রতি খেয়াল রেখে কি ধরণের শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার যথোপযুক্ত হবে তা নির্বাচন করা বা বাছাই করা আবশ্যক।
খ. শিক্ষকের পূর্ব প্রস্তুতি : শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করার পূর্বেই তার পূর্ণ ব্যবহারের কলাকৌশল আয়ত্ত করবেন, যাতে ক্লাসে গিয়ে কোন সমস্যা বা অসুবিধার সম্মুখীন না হন।
গ. উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতনতা : শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিজে অবহিত থাকবেন এবং শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের ফলে সেই উদ্দেশ্য কতটকু সফল হয়েছে তাও সচেতনতার সাথে লক্ষ্য করবেন।




শিক্ষা উপকরণ তৈরি, পরিকল্পনা ও ডিজাইন :

স্থানীয়বাবে যা কিছু কাঁচামাল পাওয়া যায়, তা দিয়ে যথাসম্ভব ভালোভাবে পরিকল্পনা করেই শিক্ষা উপকরণ প্রস্তুত করা উচিত। খেয়াল রাখতে হবে যে, এটি যেন বাস্তবে রূপ দেয়া যায় এবং তৈরি জিনিস শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যবহারের উপযোগী হয়। অবস্থার প্রেক্ষিতে একে কিভাবে আরো উন্নত, আরো উপযোগী করা যায় তার ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক। এছাড়া উপকরণ তৈরিতে নিম্নলিখিত বিষয়ের প্রতি নজর দেয়া উচিত-

ক.কোন স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য উপকরণ তৈরি বা ডিজাইন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বয়স, পূর্বজ্ঞান পারিপার্শ্বিক অবস্থা, শিক্ষা গ্রহণের উচ্ছা, ক্ষমতা ইত্যাদির প্রতি খেয়াল রেখে শিক্ষা উপকরণ তৈরির পরিকল্পনা কর া আবশ্যক।
খ. বিষয়বস্তুর দিক থেকে বিবেচনা করে নির্দিষ্ট পাঠের জন্য তৈরি উপকরণ আদৌ পাঠসহায়ক উপকরণ হবে কি না।
গ. যে উপকরণটি তৈরি করা হবে তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কতটুকু উপকার হবে।
ঘ. কোন্ পন্থা অবলম্বন করলে উপকরণটির দ্বারা শিক্ষার্থীর মনে পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব হবে।
ঙ. প্রয়োজনবোধে বিভিন্ন বিষয়ের পাঠদানে এটি ব্যবহার করা যাবে কি না।
চ. উপকরণের কাঁচামাল, স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কিনা, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে পাওয়া সম্ভব কি না।
ছ. শিক্ষক একটি উপকরণটি তৈরি করতে পারবেন, নাকি ছাত্র, অভিভাবক কিংবা অন্য কোন বিশেষজ্ঞ কারিগরের সাহায্য প্রয়োজন হবে।

জ. সাধারণ হাতযন্ত্র কিংবা স্বল্পমূল্যের যন্ত্রপাতির সাহায্যে কম সময়ে তৈরি করা সম্ভব কিনা।
ঝ. উপকরণটি কতদিন পর্যন্ত ব্যবহারের যোগ্য থাকবে, কিভাবে প্রস্তুত করলে তার স্থায়িত্ব আরো বাড়ানো সম্ভব।
ঞ. শিক্ষোপকরণটির কাঠামো শ্রেণীতে ব্যবহার-উপযোগী কিনা।




উপস্থাপন :




উপকরণগুলো শিক্ষকের হাতের কাছে মওজুদ থাকবে এবং কোন উপকরণ কোন সময় প্রদর্শন করা আবাশ্যক সে সম্পর্কেও তিনি পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। উপকরণটি ব্যবহার শেষে তা শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে থাকলে পাঠদানের পরবর্তী বিষয়বস্তুতে মনোসংযোগ বিঘিœত হবার সম্ভাবনা থাকে।




শিক্ষাপোকরণ সংরক্ষণ :




শিক্ষা উপকরণ যদিও আলমারিতে সাজিয়ে রাখার উদ্দেশ্য তৈরি করা হয় না, তবুও যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে এগুলো নষ্ট হতে পারে, হারিয়ে যেতে পারে। এজন্য শিক্ষককে সাধারণ মেরামতের কাজটুকু নিজেকেই জানতে হবে, করতে হবে। শিক্ষা উপকরণ যথার্থভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে বছরের পর বছর তা ব্যবহার করা সম্ভব। উপকরণ সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা না থাকলে শিক্ষক/শিক্ষিকা নিজের গরজে সেগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন।




উপসংহার :




শিক্ষা উপকরণ সম্পর্কে উপরে যা কিছু আলোচনা করা হলো তা একটা ধারণা মাত্র। শিক্ষা উপরকণ সময় ও বাস্তবতার আলোকে পরিবর্তনশীল। শহর ও গ্রামভেদে এর ভিন্নতা হবে এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষককেই সময় ও বাস্তবতা বুঝে শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ ও ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শেণীর সকল শিক্ষার্থীদের শিখনফল অর্জন করার জন্য বস্তবমূখী পদক্ষেপ গ্রহণই শিক্ষকের মূল কাজ।

মন্তব্য করুন