সহকারী শিক্ষক
০৩ মার্চ, ২০২২ ১২:১২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সুচনাঃ
পান আমাদের দেশের একটি অতি পরিচিত খাবার।বাংলাদেশের বিভিন্ন
জেলার ছোট-বড় সবাই পান খেয়ে থাকে। বিশেষ করে নানী-দাদীদের অনেকেরই অভ্যাস থাকে এ পান পাতা
খাওয়ার। তাই বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক ভাবে এর চাষও করা হয়। তবে মশলা, সুপারি,
জর্দা ব্যবহারে খাওয়ার মধ্যেই পান পাতার উপকারিতা শেষ নয়। আসুন জেনে নেই পান পাতার
কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ব্যবহার সম্পর্কে এর ইতিহাস।
পান কী?
পান Piperaceae পরিবারের গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের একপ্রকার
লতাজাতীয় গাছের পাতা। আর্য এবং আরবগণ পানকে তাম্বুল নামে অভিহিত করত। নিশ্বাসকে
সুরভিত করা এবং ঠোঁট ও জিহবাকে লাল করার জন্য মানুষ পান খায়।
পানের বিস্তৃতিঃ
প্রধানত দক্ষিণ এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ পান খায়।
পানের ব্যবহারঃঃ
পান ( সংস্কৃত পর্ণ যার অর্থ "পাতা") হচ্ছে সুপারির সাথে পান পাতার সংমিশ্রণের একটি প্রস্তুতি। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া (প্রধানত তাইওয়ান) এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে পান ব্যবহৃত হয়। উত্তেজনা এবং মানসিক প্রভাবের জন্য পান চিবানো হয় । চিবানোর পরে তা থুতু হয়ে যায় বা গিলে ফেলা হয়। পান এর বিভিন্ন প্রকরণ রয়েছে । চুন (চুনম) পেস্ট সাধারণত পাতা বাঁধতে যোগ করা হয় । ভারতীয় উপমহাদেশের কয়েকটি প্রস্তুতির মধ্যে শ্বাসকে সতেজ করার জন্য কাঠের পেস্ট বা মুখওয়াসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পান চিবানোর ব্যবহৃত উপদানগুলি প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছে । পান সুপারি বিভিন্নভাবে ভাঁজ করা রয়েছে । শুকনো আরকা বাদামের টুকরা উপরের বাম দিকে এবং উপরের ডানদিকে টেন্ডার অ্যারেকা বাদামের টুকরাগুলি। ডানদিকে থলিতে তামাক রয়েছে, এটি একটি ঐচ্ছিক উপাদান। নিচের ডানদিকে শুকনো লবঙ্গ রয়েছে।
পান চিবানোর উৎস এবং প্রসারণটি অস্ট্রোনেশীয় জনগণের নিওলিথিক সম্প্রসারণের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ । এটি প্রাগৈতিহাসিক সময়ে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে, ওশেনিয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছিল ৩,৫০০ থেকে ৩,০০০ বিপি; দক্ষিণ ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় ৩,৫০০ বিপি ; মেইনল্যান্ড দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে ৩,০০০ থেকে ২,৫০০ বিপি ; উত্তর ভারতে ১৫০০ বিপি ; এবং মাদাগাস্কার ৬০০ বিপি। ভারতে এটি পশ্চিম দিকে পারস্য এবং ভূমধ্যসাগরেও ছড়িয়ে পড়েছিল ।
এশীয় কয়েকটি দেশ এবং বিশ্বের অন্য কোথাও কিছু এশিয়ান অভিবাসীর পান তামাক সহ বা তামাক সারা খাওয়া হয় । এটি আসক্তি হয়, আনন্দদায়ক এবং স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে ।পাপুয়া নিউ গিনিতে সুপারি বাদাম থেকে আসা থুতু "বুয়াই পেকপেক" নামে পরিচিত, প্রায়শই এটিকে চোখের জল হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে অনেক জায়গায় "বুয়াই" বিক্রি ও চিবানো নিষিদ্ধ করেছে ।
কেবল স্বভাব হিসেবেই নয়, ভারতে ঐতিহ্যগতভাবে সামাজিক রীতি, ভদ্রতা এবং আচার-আচরণের অংশ হিসেবেই পানের ব্যবহার চলে আসছে। অনুষ্ঠানাদিতে পান পরিবেশন দ্বারা প্রস্থানের সময় ইঙ্গিত করা হয়। এক সময় উৎসব, পূজা ও পুণ্যাহে পান ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীন অভিজাত জনগোষ্ঠীর মাঝে পান তৈরি এবং তা সুন্দরভাবে পানদানিতে সাজানো লোকজ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পেত।
পানের সাথে সবসময়ই সুপারি দেয়া হয়, তবে অনেকেই সুপারি ছাড়া পান খেতে পছন্দ করেন।অনেকে জর্দা দিয়েও পান খান।পান সাধারণত: কোনকিছু খাওয়ার পর মুখে নিয়ে চিবুনো হয়৷
পানের স্বদেশীয় নামঃ
পান পাতাকে বাংলা ভাষায় “পান” , হিন্দী ভাষায় ‘‘পান’’ (पान), সংস্কৃতে ‘‘তাম্বুলা’’ ও ‘‘নাগাভাল্লী’’, ফারসি ভাষায় ‘‘তানবুল’’ প্রভৃতি নামে ডাকা হয় ।
আগুন পানঃ
পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকায় মিষ্টি পানে বৈচিত্র্য আনতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্রি করা হয়। এটি প্রথম শুরু হয় ভারতের দিল্লিতে। ঢাকায় প্রায় তিন বছর আগে প্রথম আগুন পানের প্রচলন করেন বশির আহমেদ। আগুন পানের জন্য সাঁচি পান ব্যবহার করা হয়। এই বিশেষ জাতের পান কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও বগুড়া থেকে আনা হয়। আর মসলা আসে ভারত থেকে।
তৈরির পদ্ধতিসম্পাদনাঃ
আগুন পান তৈরি করতে একটি বড় আকৃতির পান পাতার ওপর একে একে উপাদান সাজানো হয়। এরপর বিভিন্ন রকমের প্রায় ৪৫টি উপাদান দেওয়া শেষে সেগুলোর ওপর একধরনের বিশেষ তরল পদার্থ দেওয়ার পর সেটিতে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। উপাদানগুলোতে আগুন জ্বলে ওঠার পর পান ভাঁজ করে ক্রেতাদের পরিবেশন করা হয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকিসম্পাদনাঃ
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাধারণত গ্লিসারিন পার পটাশিয়াম ও জলের মিশ্রণে এ ধরনের আগুন তৈরি হয়। এ উপাদানগুলো বেশি মাত্রায় থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে। কিন্তু পানে এ মাত্রা কম থাকায় লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, মানুষের শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে আগুন পানের তাপ বেশি থাকবে। সেক্ষেত্রে মুখের ভেতরের কোষগুলো পুড়ে যেতে পারে। নিয়মিত খেলে খাদ্যনালিতে ক্যানসার হতে পারে।
খাসিয়া পানঃ
সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় খাসিয়াপুঞ্জি (গ্রাম) রয়েছে। খাসিয়া জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধান উৎস হচ্ছে পান চাষ। সুপারিগাছ জড়িয়ে পানগাছ বেড়ে ওঠে।
সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় খাসিয়াপুঞ্জি (গ্রাম) রয়েছে। খাসিয়া জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধান উৎস হচ্ছে পান চাষ। সুপারিগাছ জড়িয়ে পানগাছ বেড়ে ওঠে। খাসিয়াদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে পানপাতা। অতিথি আপ্যায়ন, জন্মদিন, বিয়ের আয়োজন ও পালা-পার্বণে প্রধান অনুষঙ্গ পান-সুপারি। সিলেট অঞ্চলে এর প্রচলন আরও বেশি। তাই সিলেটে অঞ্চলে কমেনি পানের কদর। খাসিয়াদের পাহাড়ে উৎপাদিত ‘খাসিয়া পান’-এর সুনাম দেশজুড়ে। এ বছরও পুঞ্জিগুলোয় পানের ফলন ভালো হয়েছে। মাস দুয়েক আগে থেকেই খাসিয়াপুঞ্জিতে শুরু হয়েছে নতুন পান উত্তোলন। পানের ভালো দামও পাচ্ছেন তাঁরা। উঁচু-নিচু পাহাড়ের পানের বরজে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন পুরুষেরা। পান গোছানোয় ব্যস্ত থাকেন খাসিয়া পরিবারের নারী সদস্যরা। সম্প্রতি সিলেটের জৈন্তাপুর ও মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জি থেকে ছবিগুলো তোলা।
বাংলা পানঃঃ
বাংলা পান, মিঠা পান, ঝাল পান বা রাজশাহীর পান নামেও পরিচিত। পান ও ফসলের অধিক লাভজনক ও লাভজনক দ্রুত বর্ধনশীল জাতের উত্থানের ফলে বর্তমানে এই জাতটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সাধারণত পান পাতা চুন, বীজ দারচিনি, এলাচ এবং অন্যান্য স্বাদযুক্ত উপাদান দিয়ে খাওয়া হয়।
পানের ঔষধি গুনাগুণ:
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে পান খেলে ক্যান্সারের মতো
ভয়াবহ রোগকেও প্রতিহত করা যায়। সেক্স লাইফের জন্য পানের মহিমা অপরিসীম। পান খেলে
বাড়ে যৌন আকাঙ্খা। শুনতে অবাক লাগছে? গবেষকরা সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন।
জানা যায়, পানের রসে মধ্যে থাকা সুপুরি, চুন, লবঙ্গ, গুলকন্দ হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু মাত্র হজম শক্তিই যে পান বাড়ায় তা নয়, সুগন্ধি হিসেবেও কাজ করে পান। পাশপাশি, পানের মধ্যে থাকা গুলকন্দ কর্ম ক্ষমতা বাড়িয়ে সচল রাখে শরীরকে। যৌন জীবন সতেজ রাখতে পানের গুনাগুণ অপরিসীম। পান বাড়ায় কামশক্তি। অর্থৎ, যদি পান খাওয়া অভ্যেস করেন, তাহলে নিশ্চিন্তে থাকুন, আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর কাছে হয়ে উঠবেন আরো বেশি প্রানচ্ছ্বল।
১). মাউথ ফ্রেশনার : পান পাতা খাওয়ার ফলে যে রস উৎপাদন হয় তা আমাদের দাঁত আর মাড়ি সুস্থ রাখে | এছাড়াও পান পাতার রস আমাদের মুখের ভেতরটা পরিষ্কার রাখে | এমনকী মুখের মধ্যে রক্তপাতও বন্ধ করে | পান বেটে তার রস এক কাপ হাল্কা গরম পানিতে মিশিয়ে রোজ সকালে তা দিয়ে গর্গর করুন | কয়েকদিনর মধ্যেই তফাত দেখতে পাবেন |
(২). নাক থেকে রক্ত পড়া থামায় : অনেক সময় সান স্ট্রোক হওয়ার ফলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে | এটা বন্ধ করতে একটা পান পাতা পাকিয়ে তা নাকের মধ্যে গুঁজে দিন | মাথা পিছনের দিকে হেলিয়ে রাখেতে হবে | কিছুক্ষণের মধ্যেই রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে | আসলে পান পাতা খুব তাড়াতাড়ি রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দিতে পারে |
(৩). কানের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে : পান পাতার আরো একটা বড় বেনিফিট হল এটা কানের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে | কয়েক ফোঁটা পানের রস আর কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে কানের মধ্যে দিলে ব্যথা কমে যাবে | তবে এই ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো |
(৪). অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন : ছোটখাটো কাটা ছেড়ায় পান পাতা বেটে লাগিয়ে দিতে পারেন | এছাড়াও যাদের আর্থারাইটিস আছে তাদের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে পান পাতা |
(৫). ডিওডোরেন্টের কাজ করে : বিশ্বাস হচ্ছে না তো? তাহলে নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন | গোসল করার পানিতে কিছুটা পান পাতার রস মিশিয়ে নিন | এই জল দিয়ে চান করলে সারাদিন ফ্রেশ লাগবে | এছাড়াও ঘাম কম হবে | পান পাতা দিয়ে পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই পানি পান করলে ঘামের গন্ধ কমবে | এমনকী মহিলাদের মেনস্ট্রুয়েশন স্মেল ও কমবে |
(৬). প্রস্রাব করতে সাহায্য করে : বিশেষত কিডনির রোগ আছে যাদের তাদের প্রস্রাব করতে কষ্ট হয় | এই কষ্ট কমাতে সাহায্য করে পান পাতা | শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার ক্ষমতা আছে পান পাতার | দুধের সঙ্গে পান বেটে খেলে এই ব্যাপারে সাহায্য পাবেন |
(৭). ভ্যাজাইনাল হাইজিন ঠিক রাখে : ভ্যাজাইনাল বার্থের পর তাজা পান পাতা ভ্যাজাইনাকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে | এছাড়াও ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ বা ভ্যাজাইনাল ইচিং ও সারিয়ে দেয়
(৮). ত্বকের জন্য ভালো : খুব কম লোকেই জানে পানে যে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল প্রপার্টি আছে তা পিম্পল‚ অ্যাকনে সহজেই সারিয়ে তোলে | এছাড়াও বিভিন্ন স্কিন অ্যালার্জি‚ ফুসকুড়ি‚ কালো ছোপ‚ সান বার্ন সারিয়ে দেয় | এর জন্য কয়েকটা তাজা পান পাতা আর কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে লাগাতে হবে |
(৯). মাথা ব্যথা কমায় : গরমের কারণে মাথা ব্যথা করলে কপালে কয়েকটা পান পাতা রাখুন | এছাড়াও পান পাতার রস লাগালে তাড়াতাড়ি মাথা ব্যথা কমে যায় |
(১০). অ্যান্টি ফাংগাল : শরীরের যে সব অংশে ফাংগাল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা আছে‚ যেমন পায়ের আঙুল‚ প্রভৃতি সেই সব জায়গায় পানপাতার রস লাগান | কয়েকদিনের মধ্যে ইনফেকশন সেরে যাবে |
(১১). সতর্কতা বাড়ায় : ইদানিং কি লেথার্জিক লাগছে? তাহলে মধুর সঙ্গে পান পাতা বেটে খান | এতে এনার্জি তো ফিরে পাবেনই একই সঙ্গে মেন্টাল ফাংশানিংও জোরদার হবে |
(১২). সর্দি কমায় : বুকে সর্দি জমে গেলে সরিষার তেল আর পান পাতা ভালো করে গরম করে বুকে লাগাতে হবে | এছাড়াও ঠান্ডা লেগে সর্দি হলে পান পাতা‚ এলাচ‚ লবঙ্গ একসঙ্গে ফুটিয়ে গাঢ় করে খেতে হবে |
(১৩). হজমশক্তি বাড়ায় : সাধারণত খাওয়ার পর পান খাওয়া হয় | এটা করা হয় কারণ পান হজম করতে সাহায্য করে | গ্যাস‚ অম্বলও কমায় | এছাড়াও যাদের কনস্টিপেশনের সমস্যা আছে তাদের জন্যেও উপকারী | পেট খারাপ হলে পেটে যে ব্যথা করে অনেকসময় তাও কমাতে সাহায্য করে |
(১৪). মেটাবলিজম বাড়ায় : নিয়মিত পান খেলে শরীরের মেটাবলিজম বাড়ে | এর ফলে ব্লাড সার্কুলেশন বেড়ে যায় | যা বিভিন্ন প্রটিন‚ ভিটামিন‚ মিনারেল অ্যাবজর্ব করতে সাহায্য করতে |
(১৫). খিদে বাড়ায় : পেটের পিএইচ লেভেল ঠিক করতে সাহায্য করে পানের রস | এর ফলে পেটে বায়ু হয় না এছাড়াও পেট ফাঁপা কমায় | পান পাতা শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে | এর ফলে খিদে বাড়ে |
(১৬). ক্ষত নিরাময়ে: পান পাতায় আছে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল রাসায়নিক। তাই পান পাতা বেটে ক্ষতস্থানে দিলে দ্রুত ক্ষত নিরাময় হয়। পান পাতা ব্যবহার করলে সংক্রমণের ভয়ো থাকে না। পানের বেদনানাশক গুণ থাকায় ব্যথা হতে মুক্তি মেলে।
(১৭). গলা খুসখুস কমাতে: গলা খুসখুস করলে পান পাতার ৫ মিলিলিটার রস এক গ্লাস গরম পানিতে মিশিয়ে আস্তে আস্তে খান। আরাম পাবেন। বিখ্যাত অনেক গায়ক গলা ভাল রাখতে এই সূত্র ব্যবহার করেন।
পরিশেষেঃ
উক্ত আলোচনার মধ্য থেকে আমরা বলতে পারি পানের ক্ষতিকর দিক গুলো বর্জন করে, পান খেলে এতে কোনো সমস্যা হবে না বরং পান পাতা খাওয়ার মধ্য দিয়ে অনেক উপকারই হয়।
লেখকঃঃ
মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ
সহকারী শিক্ষক
মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বালাগঞ্জ, সিলেট।
২৭/০২/২০২২
তথ্য সংগ্রহঃ (ইন্টারনেট, উইকেপেডিয়া)