Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

০৯ মার্চ, ২০২২ ০৬:০১ পূর্বাহ্ণ

নারী দিবসে নারীদের উন্নয়নের কথা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

১৯১০ সালের ৮ মার্চ নিউ ইয়র্কের সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানাতে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়ে থাকে। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সাল থেকে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন শুরু করে। এর পর থেকে দিনটিকে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো সরকারিভাবে নারী দিবস হিসাবে পালন করে আসছে।

বেগম রোকেয়ার তেইশ বছরের কর্মযজ্ঞের আলোকবর্তিকা এখনো আমাদের আলো দিয়ে যাচ্ছে। এই আলো এবং আদর্শে আজ অনেক দুর এগিয়ে গেছে আমাদের নারী সমাজ। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাঁর লেখা থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। আশা করি  এ লেখার মাধ্যমে আমরা আমাদের বর্তমান সমাজের সাথে অতীত সময়ের কিছুটা হলেও পার্থক্য বুঝতে পারা যাবে।

(১) সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সবসময় এই গল্পটি বলতেন। তাঁর পত্রিকায় বেগম রোকেয়া লিখতেন। সেই  লেখা চেয়ে আনার জন্য যেতেন তখন রোকেয়া পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলতেন। এমনটা দেখে একদিন জিজ্ঞেস করেই ফেললেন, ‘আপনি এতো প্রগতির কথা বলেন, নারী স্বাধীনতার কথা বলেন, সেই আপনি যদি পর্দার আড়ালে থাকেন তাহলে কিভাবে কি হবে!’ তখন রোকেয়া বলেছিলেন, ‘আজকে আমি আপনার সামনে এসে কথা বললে কোনোভাবে যদি বাইরের মানুষের কাছে চলে যায় তাহলে কেউই তাদের মেয়েদের আমার স্কুলে পাঠাবে না।’ মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন অবাক হয়ে গভীরভাবে বিষয়টি নিয়ে ভেবেছিলেন এবং সেইসাথে দেখেছিলেন রোকেয়ার দূরদর্শিতা। নারীমুক্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে রোকেয়া কতটা ধৈর্য এবং বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন তা কল্পনাতীত। 

(২) সে যুগে পর্দা পালনে অত্যধিক বাড়াবাড়ি কেবল মুসলিম নারীদের মধ্যে ছিল, তা কিন্তু নয়। অমুসলিম নারীদের মধ্যেও কিছুমাত্র কম ছিল না। তেমনই একটি ঘটনা: ‘পশ্চিম দেশের এক হিন্দু বধূ তাহার শাশুড়ি ও স্বামীর সহিত গঙ্গাস্নানে গিয়াছিল। স্নান শেষ করিয়া ফিরিবার সময় তাহার শাশুড়ি ও স্বামীকে ভীড়ের মধ্যে দেখিতে পাইল না। অবশেষে সে এক ভদ্রলোকের পিছু চলিল। কতক্ষণ পরে পুলিশের হল্লা। সেই ভদ্রলোককে ধরিয়া কনস্টেবল বলে, তুমি অমুকের বউ ভাগাইয়া লইয়া যাইতেছ। তিনি আচম্বিতে পিছনে ফিরিয়া দেখেন, আরে! এ কাহার বউ পিছন হইতে তাঁহার কাছার খুঁটি ধরিয়া আসিতেছে! প্রশ্ন করায় বধূ বলিল, সে সর্বক্ষণ মাথায় ঘোমটা দিয়া থাকে—নিজের স্বামীকে সে কখনও ভালো করিয়া দেখে নাই। স্বামীর পরিধানে হলদে পাড়ের ধূতি ছিল, তাহাই সে দেখিয়াছে। এই ভদ্রলোকের ধূতির পাড় হলদে দেখিয়া সে তাহার সঙ্গ লইয়াছে!- অবরোধ-বাসিনী।

(৩)এক বোরকা পরিহিতাকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখে তার স্বামী প্রয়োজনবশত কোথাও যান। স্বামী ফিরতে দেরী হওয়ায় ভদ্রমহিলা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং অস্ফুট স্বরে কাঁদতে থাকেন। লোকেরা মহিলার দুরবস্থা দেখে দয়াপরবশ হয়ে তার সঙ্গীর নাম জানতে চান, যাতে খুঁজে বের করা যায়। প্রত্যুত্তরে মহিলা একবার সূর্যের দিকে ইশারা করেন, আরেকবার হাতের ব্যাগ দেখান। পরে জানা গেল মহিলার স্বামীর নাম আফতাব বেগ। উল্লেখ্য, সূর্যকে ফার্সিতে আফতাব বলা হয়। আর ব্যাগ দ্বারা বেগ বুঝিয়েছেন!

(৪) রবীন্দ্রনাথের পরিবারেও পর্দা প্রথার কম বাড়াবাড়ি ছিল না। মাঝে মধ্যে কবি গুরুর মা সারদা দেবী গঙ্গাস্নান করতে চাইলে তাঁকে পাল্কিতে করে গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু তিনি কখনো পাল্কি থেকে বের হতেন না। পাল্কি বেহারারা তাঁকে পাল্কিসুদ্ধ গঙ্গার পানিতে চুবিয়ে তুলতেন।

আমাদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতির চিত্র

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পীকারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে নারীদের সাফল্যমন্ডিত অবস্থান।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গত বছরের আগস্টের মাসিক পরিসংখ্যান বুলেটিনের (নভেম্বরে প্রকাশিত) তথ্য বলছে, দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের স্বাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে সবশেষ শ্রম জরিপের তথ্য বলছে, দেশের মোট কর্মজীবী নাগরিকের প্রায় ৩৮ শতাংশ । 

সেবা খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরে বেড়েছে নারীর অংশগ্রহণ। চলতি বছরের মার্চের হিসাব বলছে, দেশে সচিব ও সচিব পদমর্যাদার ৭৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১০ জন নারী, ৫১১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে নারী ৮৩ জন, ৬৩৬ জন যুগ্ম-সচিবের মধ্যে নারী ৮১ জন, ৬৯৫ উপসচিবের মধ্যে নারী ৩৪৯ জন, এক হাজার ৫৪৯ জন সিনিয়র সহকারী সচিবের মধ্যে নারী ৪৫৪ জন এবং এক হাজার ৫২৮ জন সহকারী সচিবের মধ্যে নারী ৪৭২ জন। স্থানীয় প্রশাসনে দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসক পদে রয়েছেন ১০ নারী।

বিচার বিভাগেও নারীদের এখন সরব উপস্থিতি। হাইকোর্ট বিভাগে আছেন ছয় জন, অধস্তন আদালতে আছেন চারশ নারী বিচারক। ১৯৭৪ সালে সাত জন নারী উপপরিদর্শক (এসআই) ও সাত জন নারী কনস্টেবল নিয়োগের মাধ্যমে পুলিশ বিভাগে নারীরা অন্তর্ভুক্ত হন। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত নারী ১৫ হাজার ১৬৩ জন, যা মোট সদস্যের ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। বর্তমানে দু’জন ডিআইজি, দু’জন অ্যাডিশনাল ডিআইজি, ৭১ জন পুলিশ সুপার, ১০৯ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১০০ জন সহকারী পুলিশ সুপার রয়েছেন।

মন্তব্য করুন