সহকারী শিক্ষক
১১ মার্চ, ২০২২ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
এমন একটা সময়ে আমরা আছি, যখন শিক্ষা ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব কিছু ধারণা উদঘাটিত হচ্ছে, নতুন নতুন কৌশল তৈরি হচ্ছে। এসব সম্ভব হচ্ছে শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত ডিজিটাল শিক্ষা পৌঁছে দেয়া এখন সহজসাধ্য। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমে এসেছে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা। গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন আসছে, তা এখন আর অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এটি সম্ভব হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে। ইন্টারনেট এখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্বকে অবারিত করে দিয়েছে। যে যেখানে আছে, সেখানে থেকেই পৃথিবীর যেকোনো উৎস থেকে শিক্ষামূলক তথ্য আহরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রযুক্তির কল্যাণে মহামারিতেও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম
সাম্প্রতিক করোনায় যখন দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থবির, তখন সরকার ডিজিটাল মাধ্যম (টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) ব্যবহার করে শিক্ষাদান এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখেছে। আজ শহর-বন্দর, বাগান- হাওর, প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুকিশোরদের সামনে দিগন্ত উন্মোচিত হয়ে গেছে। আবার অনেক নতুন শিক্ষকও অনলাইনে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, ভালো ভালো শিক্ষকদের ক্লাস দেখে নিত্যনতুন অনেক কিছু শিখে নিচ্ছেন। নিভৃতে লুকিয়ে থাকা অনেক গুণী শিক্ষকও নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন বিশ্ব দরবারে। মুক্তপাঠের স্লোগান ‘আকাশ আমার পাঠশালা’ কথাটি এখন যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে।’ উদ্ভূত প্রতিকূল পরিস্থিতিকে সামলে আজ আমরা অনলাইনে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছি। শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ‘মুক্তপাঠ’ অনলাইনে ফ্রি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়াও বাতায়নে সেরা অনলাইন পারফর্মার অপশনটি চালু হওয়ার ফলে শিক্ষকরাও এ ক্ষেত্রে আরও বেশি উৎসাহ পাচ্ছেন। শিশু-কিশোরদের জন্যও রয়েছে কিশোর বাতায়নের অবারিত দ্বার। বাংলাদেশে শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো এখন আন্তর্জাতিকভাবেও বিভিন্ন স্বীকৃতি অর্জন করেছে।’
আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ায় আমরা করোনাকালীন সময়টা শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছি। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট হাতের নাগালে পাওয়ার কারণে আজ সারা দেশে ভার্চুয়াল ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে বিদ্যালয়ের সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে প্রাণের শিক্ষক বাতায়ন। সর্বদা উৎসাহ দিয়ে এ কাজগুলোকে এগিয়ে নিচ্ছে শিক্ষক বাতায়ন। শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে প্রান্তিক পর্যায়েও স্বাভাবিক রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। যা অপ্রতিরোধ্য বাংলার অগ্রগতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে।
প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠছেন শিক্ষকরা
মাত্র এক দশক আগেও যে শিক্ষকরা কম্পিউটার বা মোবাইলের মতো তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়গুলোতে অভ্যস্থ ছিলেন না, এখন তারাই মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদান করার পাশাপাশি অনলাইনে শিক্ষা প্রদানেও অভ্যস্থ হয়ে উঠেছেন। এর পেছনে বড় অবদান রেখেছে এটুআই প্রোগ্রাম। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এটুআই সময় উপযোগী বিভিন্ন প্রকার অনলাইন প্রশিক্ষণ চালু করায় কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই লাখ লাখ নিবেদিত শিক্ষক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করেছেন। এতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে শ্রেণিপাঠ গ্রহণ করে উপকৃত হচ্ছেন। পাশাপাশি শিক্ষকরা হয়েছেন যুগোপযোগী ও দক্ষ এবং শিক্ষা ব্যবস্থা হয়েছে উন্নত।
শিক্ষক বাতায়নের কল্যাণে সারা দেশের শিক্ষকদের সাথে চমৎকার নেটওয়ার্কিং তৈরি হয়েছে। যার ফলে সবার সাথে সবার যোগাযোগের একটি সহজ মাধ্যম তৈরি হয়েছে।
যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন শিক্ষকরা
শিক্ষক বাতায়নের একজন গর্বিত সদস্য হতে পেরেছি বলেই আজ আমি শুধু আমার বিদ্যালয়েই নয় বরং সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হয়ে করোনার শুরু থেকেই অনলাইন পাঠদানের সাথে যুক্ত হয়ে ‘ঘরে বসে শিখি’, ‘ডিজিটাল অনলাইন শিক্ষাসহ বিভিন্ন অনলাইন স্কুলের সাথে যুক্ত হতে পেরেছি।
‘আমি মনে করি, শিক্ষক হিসেবে আমার বড় কাজ হলো, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে কীভাবে সমাজের মানবিক পরিবর্তন আনা যায়, ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটানো যায় সেদিকে মনযোগী হয়ে পাঠদান করা। বর্তমান বিশ্বে টিকতে হলে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। আজকের বিশ্ব যখন প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা তথা বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকবে?
শিক্ষকদের মিলনমেলা
শিক্ষক বাতায়ন কেবল শিক্ষকদের একটি প্ল্যাটফর্মই নয়, বরং এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকদের মাঝে তৈরি হচ্ছে সুসম্পর্ক, বেগবান হচ্ছে সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম। এটি শিক্ষকদের একটি পরিবার। ‘শিক্ষক বাতায়ন ও মুক্তপাঠের মাধ্যমে আমরা শ্রেণি পাঠদানে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহারে দক্ষ হয়েছি। শিক্ষক বাতায়ন শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক শেয়ারিং কার্যক্রমের দারুণ সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।’
সামগ্রিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো। স্বনির্ভর ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠীর বিকল্প নেই। এরই ধারাবাহিকতায় এ ধরনের উদ্যোগ প্রান্তিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য, সর্বোপরি দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আশীর্বাদ।