Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

১৪ মার্চ, ২০২২ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

“My class My pride”

প্রত্যেকটি সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের শ্রেণী কক্ষ যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে তাই নিজের ক্লাশরুমকে নিয়ে যেন সবাই অহংকার করতে পারে, এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসক “My Class My pride” স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে পড়ার পরিবেশ উপযোগী করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।“My Class My pride” ইনোভেশন কার্যক্রম শুরু করার পূর্বে প্রতিটি ক্লাশরুম পড়াশুনার উপযোগী ছিলনা। শ্রেণীকক্ষে অনেক ময়লা আবর্জনা থাকত। শ্রেণীকক্ষের দেয়ালে দেয়ালে শিক্ষা বহির্ভূত লেখা থাকত, যা ছাত্র-ছাত্রীদের কোন শিক্ষা দেয়না। প্রতিটি শ্রেণীকক্ষ অপ্রাসঙ্গিক লেখালেখিতে পূর্ণ থাকত। বাহির থেকে কোন মানুষ পরিদর্শন করতে গেলে সেই শ্রেণীকক্ষকে পড়াশুনার ঘর মনে করত না। প্রতিটি শ্রেণীকক্ষ পড়াশুনার অনুপযোগী ছিল। যাতে শিক্ষার মান বজায় রাখা অনেক দূরহ ব্যাপার হয়ে যেত।

জেলা প্রশাসক মহোদয় জানান যে, পড়াশুনার মান উন্নয়নে শ্রেণিকক্ষ অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থীর কাছে আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করতে হলে শ্রেণিকক্ষ এমনভাবে সাজিয়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে একজন শিক্ষার্থী অনায়াসে তার পাঠ বুঝতে পারে। পাঠ সহায়ক উপকরণের সহায়তায় বেশ জটিল বিষয়কেও সহজে শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট ও বোধগম্য করে তোলা যায়। শ্রেণীকক্ষে পঠন-পাঠন আকর্ষণীয়, গ্রহণযোগ্য ও ফলপ্রসূ করতে হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে, মাঠে, পুকুরে, বাগানে, নিকটস্থ হাটবাজারে এমন কিছু জিনিসপত্র অহরহই পাওয়া যায়, যা শিক্ষক নিজে কিংবা শিক্ষার্থীদের দিয়ে সংগ্রহ করে শ্রেণীকক্ষে ব্যবহার করে সমাজ পাঠ, সাধারণ বিজ্ঞান, ভূগোল, বাংলা, আরবি ভাষা, কৃষিবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ের পাঠদানকে বাস্তবভিত্তিক, আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করে তুলতে পারেন। অনেক সময় তাৎক্ষণিভাবে কোন জিনিসের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দেয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে বাস্তব জিনিসের মডেল তৈরি করে তা শ্রেণীতে প্রদর্শন করা যেতে পারে। শহীদ মিনার, তাজমহল, পিরামিড, সৌরজগৎ, মানুষের দেহের অভ্যন্তরস্থ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মডেল তৈরি করে দেখালে শিক্ষার্থীরা বাস্তবের কাছাকাছি অভিজ্ঞতা অর্জন করে সহজেই পাঠ্যবিষয় অনুধাবন করতে পারবে এবং প্রচুর আনন্দও পায়। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে “My Class My pride” ইনোভেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

বাংলাদেশের অনেক প্রধান শিক্ষক গর্ব করে বলেছেন যে, “My Class My pride” চালু করায় আগের থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনায় মনোযোগী হয়েছে। এতে পড়াশুনার মান আরও উন্নত হয়েছে। এই ইনোভেশন কার্যক্রম চালু করার পর থেকে পরীক্ষার ফলাফলে অভাবনীয় সাফল্য দেখা যাচ্ছে।” বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী জানান যে, “আমরা শ্রেণীকক্ষ শিক্ষকদের সহায়তায় পড়ার উপযোগী করে তুলেছি। প্রত্যেকটি শ্রেণিকক্ষের দেয়াল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহ কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রপসী বাংলার কবি জসিম উদ্দীন সহ আর বিশ্বখ্যাত কবি সাহিত্যিকের মহা মূল্যবান উদ্ধৃতি দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ ফুল এবং বেলুন দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এতে পড়াশুনার প্রতি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ছে।”

মন্তব্য করুন