সহকারী শিক্ষক
২৫ মার্চ, ২০২২ ০৬:২০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
#SwamiSivananda #স্বামীশিবানন্দ
#PadmaBhushanAward
পোশাক সাদামাটা। পরনে সাদা রঙের সাধারণ কুর্তা এবং ধুতি। পা নিরাবরণ। আটপৌরে এই বেশেই পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করলেন যোগী স্বামী শিবানন্দ (Swami Sivananda)। কাশীর ১২৫ বছর বয়সী এই যোগ গুরু স্বামী শিবানন্দ সোমবার যোগের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের কাছ থেকে পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছেন। সবথেকে বেশি বয়সে তিনিই ভূষিত হলেন পদ্মশ্রীতে। তাঁর জন্ম ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে সাবেক পূর্ববঙ্গের, আজকের বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার হরিতলা গ্রামে।
স্বামী শিবানন্দের পাসপোর্ট অনুসারে, তিনি ৮ আগস্ট, ১৮৯৬ সালে পূর্ব বাংলায় জন্মগ্রহণ করেন। সময়ের হিসেব অনুযায়ী বর্তমানে তার বয়স ১২৫ বছরের বেশি। কথিত আছে যে তার বাবা-মা তাকে ৪ বছর বয়সে বাবা ওমকারানন্দ গোস্বামীর কাছে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে দান করেছিলেন স্বামী শিবানন্দের বাবা-মা এবং বোন ৬ বছর বয়সে মারা যান। গুরু ওমকারানন্দের কাছ থেকে দীক্ষা নেওয়ার পর স্বামী শিবানন্দ ২৯ বছর বয়সে লন্ডনে যান।
একবিংশ শতাব্দীতে একজন মানুষের পক্ষে ১০০ বছর বেঁচে থাকা অসম্ভব বলে মনে হয়, কিন্তু স্বামী শিবানন্দ যোগের মাধ্যমে এই মিথ ভেঙে দিয়েছেন। ১২৫ বছর বয়সেও স্বামী শিবানন্দ সম্পূর্ণ সুস্থ। তিনি ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রমাগত যোগব্যায়াম করছেন। ভোর ৩টায় উঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যোগব্যায়াম করেন এবং শুধু সেদ্ধ খাবার এবং সবজি খান।
বারাণসীর বাসিন্দা স্বামী শিবানন্দ দুর্গাকুন্ড এলাকায় ‘শিবানন্দ’ নামে একটি আশ্রম চালান । যোগব্যায়াম ও ধর্মের প্রতি তার বরাবরই প্রবল আগ্রহ ছিল। স্বামী শিবানন্দ যোগব্যায়ামের জন্য তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি তাঁর বিনয়ী ব্যক্তিত্বের জন্য সকলের কাছে অনুপ্রেরণা।
আজ রাষ্ট্রপতি ভবনে অভিবাদন জানিয়ে আলোচনায় আসা স্বামী শিবানন্দ সম্পর্কে সবাই জানতে চান। বিশেষ করে মানুষ তার দীর্ঘায়ুর রহস্য জানতে আগ্রহী।
স্বামী শিবানন্দ কয়েক বছর আগে তার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে প্রতিদিন যোগব্যায়াম করার পাশাপাশি তিনি যৌনতা এবং মশলা খাওয়া থেকে দূরে থাকেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে যোগব্যায়ামের মতো পদ্ধতি অবলম্বন করে মানুষ সুস্থ দীর্ঘ জীবনযাপন করতে পারে। প্রতিদিন যোগব্যায়াম করার কারণে তিনি আজ সেঞ্চুরি দেখেছেন। এছাড়াও, তিনি যোগব্যায়াম এবং ভারতীয় জীবন পদ্ধতিতে তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন।
একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে স্বামী শিবানন্দ বলেছিলেন, “আমি একটি সাধারণ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করি। আমি খুব সাধারণ খাবার খাই, যার মধ্যে শুধুমাত্র সেদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত। এতে কোনো ধরনের তেল বা মশলা থাকে না। আমি সাধারণত ডাল, ভাত এবং কাঁচা মরিচ খাই। আমি দুধ ও ফল খাই না কারণ এগুলো সবই অভিনব খাবার। আমি শুধু মাদুরে ঘুমাই।
আমার প্রযুক্তিতে যোগদানের কোন আগ্রহ নেই এবং আমি পুরানো পদ্ধতিতে জীবনযাপন করতে পছন্দ করি। আগে মানুষ কম জিনিসে খুশি হতো। আজ মানুষ অসুখী, অসুস্থ, সততাও কমে গেছে। এটা আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। আমি চাই মানুষ সুখী হোক, সুস্থ থাকুক এবং শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করুক।”
যোগের জন্য স্বামী শিবানন্দ ইংল্যান্ড, গ্রীস, ফ্রান্স, স্পেন, অস্ট্রিয়া, ইতালি, হাঙ্গেরি, রাশিয়া, পোল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি এবং বুলগেরিয়া সহ ৫০ টিরও বেশি দেশ সফর করেছেন।
তথ্যসূত্র - কিছু পত্রিকা ঘেটে