সহকারী শিক্ষক
২৭ মার্চ, ২০২২ ০৭:১৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
অধ্যায়ঃ দ্বিতীয় অধ্যায়
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের শরণার্থী শিবিরে এক কোটিরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। কী যে দুর্বিষহ ছিল সে জীবন, তা এখন কল্পনাও করা যায় না। বাঁচার জন্য সেখানে গিয়ে অনেকেই আর ফেরেনি। রোগেশোকে ভুগে, না খেয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়েছে অগণিত বাঙালিকে।পথের পাশে পড়ে থাকত লাশ। বাবা ছেলের লাশ, ছেলে বাবার লাশ, আত্মীয় আত্মীয়র লাশ দেখেও দেখত না যেন। লাশ কবর দেওয়ার বা দাহ করারও জায়গা ছিল না। একসঙ্গে ১০ থেকে ৩০টি লাশ বিশাল গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হতো। সেখানে যাঁরা ছিলেন, সেই দিনগুলোর কথা ভেবে আজও শিউরে ওঠেন। আশ্রয় শিবিরগুলোতে মারা যায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ। যাঁরা দেখেছেন তাঁদের মতে সেই সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। আশ্রয়গ্রহণকারী, সাধারণ মানুষ, ডাক্তারসহ অনেকেই সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কাজও করেছিলেন। তাঁদের স্মৃতিচারণায় এই ‘শরণার্থী শিবির’ সংখ্যা
১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা যখন বাংলাদেশে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে, তখন বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়—সীমান্তঘেঁষা এসব রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়প্রার্থী হয়। এসব ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া ভাসমান মানুষ বানের পানির মতো প্রতি মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বদেশ ত্যাগ করে বাঁচার আশায়। রোগশোকে, ক্ষুধায় যন্ত্রণাক্লিষ্ট এসব ভীতসন্ত্রস্ত মানুষকে দীর্ঘ ৯ মাসের সেই দুঃসময়ের দিনগুলোতে ভারতের মানুষ আর ইন্দিরা গান্ধীর সরকার দুমুঠো খাবার আর আশ্রয় দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিল, সাহায্যের মানবিক হাত প্রসারিত করেছিল। ভারত উপমহাদেশে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের গৃহত্যাগ ও অন্য দেশে শরণার্থী হওয়া ইতিহাসে এর আগে আর ঘটেনি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বেতাই গ্রাম আর বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা শহর মেহেরপুরের মাঝখানে যে সীমান্ত, ওই সীমান্ত দিয়েই মেহেরপুর-চুয়াডাঙা-কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী-ফরিদপুর-ঢাকার বিক্রমপুরের হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে-বাসে-সাইকেলে-গরুর গাড়িতে, হেঁটে প্রতিদিন মেহেরপুর এসে জমতে শুরু করে এবং পশ্চিম দিকের বুড়িপোঁতা খালপাড়া সীমান্ত দিয়ে নদীয়া জেলার বেতাই, করিমপুর, শিকারপুর, চাপড়ার বড় আন্দুলিয়া, কল্যাণীসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে
বিজ্ঞাপন