সহকারী শিক্ষক
২৭ মার্চ, ২০২২ ০৮:৩৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
অধ্যায়ঃ সপ্তম অধ্যায়
রাষ্ট্রের মতাদর্শিক স্তম্ভ এবং সেই সঙ্গে গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের স্মারক। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান এবং সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি হলো : জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এই মূলনীতির কথা এককভাবে ৮ম অনুচ্ছেদেও বর্ণিত হয়েছে।
১. জাতীয়তাবাদ : একই ধরনের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বাঙালি জাতির মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য সৃষ্টি করেছে। তাই সংবিধানে বলা হয়েছে, একই ভাষা ও সংস্কৃতিতে আবদ্ধ বাঙালি জাতি যে ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে সেই ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।
২. সমাজতন্ত্র : অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতা আনার মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই হলো সমাজতন্ত্রের মূল্য লক্ষ্য। শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।৩. গণতন্ত্র : রাষ্ট্রের সব কাজে নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূলনীতি। এর মাধ্যমে নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে; মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হবে।
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা : রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে এবং ধর্ম পালনে কেউ কাউকে বাধা প্রদান করবে না- এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লিখিত মূলনীতিগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে অনুসৃত হয়। প্রতিটি নাগরিকের উচিত এগুলো মেনে চলা। এ ছাড়া সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দলিল। অতএব সংবিধান সম্মান করা ও তা মেলে চলা প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য্ ।