এবার একটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী ২৯ জন। পরীক্ষা কেন্দ্র করে জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।
এদিকে, মেধাবীদের শিক্ষকতায় আগ্রহী করতে বিশেষ বেতন কাঠামোর পরামর্শ গবেষকদের।
দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়েই পাঠদান চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে। শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ অবস্থায় ২০২০ সালে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।
পরে শূন্য হওয়া আরও পদ মিলিয়ে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ২২ এপ্রিল ২২টি জেলায় হবে প্রথম ধাপের পরীক্ষা।
এবার রেকর্ডসংখ্যক ১৩ লাখ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন পরীক্ষায়। সে হিসাবে প্রতি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ২৯ জন। ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮০ নম্বর লিখিত এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় প্রতি পদের জন্য দুজন নারী ও একজন পুরুষকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হবে।
প্রতিবারই প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মাঠে নামে জালিয়াত চক্র। এবার যেকোনো অপতৎপরতা রোধে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহাম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল সরাসরি বোর্ড থেকে আপলোড হয়েছে। সুতরাং তাদের যে ছবি আছে সেগুলো ভেরিফাই হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ভেরিফাই হয়েছে এবং আরও যে বিকল্প ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি, তাদের হাতের লেখাগুলো যাচাই করার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’
প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে শিক্ষকতায় আগ্রহীদের নিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুসারে বেতন নির্ধারণের পরামর্শ শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষকদের যে প্রশিক্ষণ, সেটা হবে চাকরির আগেই। যারা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী তারাই শুধু ওই কোর্সগুলো গ্রহণ করবে। শিক্ষকদের জন্য এ ধরনের কোনো সুযোগ-সুবিধা আমাদের এখানে নেই। এই পদ্ধতিটি যদি চালু করা যায়, তখন শিক্ষকতা চাকরি থাকবে না, শিক্ষকতা পেশা হিসেবে আসবে। শুধু যারা আগ্রহী এবং যারা মন-প্রাণ দিয়ে পেশাকে ভালোবাসে এবং শিশুদের জন্য সময় দিতে চায়, তারাই আমাদের এই পেশায় আসবে।’
আগামী ২০ মে দ্বিতীয় এবং ২৭ মে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।