Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

১৬ এপ্রিল, ২০২২ ০২:৩২ অপরাহ্ণ

Uponnash Kaktarua। Selina Hossain ।উপন্যাস কাকতাড়ুয়া। সেলিনা হোসেন। education

Nine Ten Bangla 1st Paper Uponnash Kaktarua। Selina Hossain ।উপন্যাস কাকতাড়ুয়া। সেলিনা হোসেন। education
#Nine_Ten_Bangla_1st_Paper #Uponnash_Kaktarua #Selina_Hossain ।#উপন্যাস_কাকতাড়ুয়া। #সেলিনা_হোসেন। #education
#NURUN_NAHAR_BEGUM
#NAHAR_MAM
#NNB
⏯️উপন্যাস আধুনিক কালের সৃষ্টি। বাংলা সাহিত্যে মাত্র দেড়শো বছর আগে ইংরেজি উপন্যাসের আদলে উপন্যাস রচনার সূত্রপাত ঘটে।
⏯️বাংলা উপন্যাসের আরেক কীর্তিমান লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি। উপন্যাস রচনাতেও তাঁর সাফল্য ঈর্ষণীয়। ব্যক্তির মন ও মননের অপূর্ব সমন্বয়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর উপন্যাসগুলো রচনা করেছেন। বঙ্কিমের উপন্যাসে আমরা দেখেছি সমাজের চাপে ব্যক্তি আত্মপ্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। তাঁর চত্রিরগুলো সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসে পাওয়া গেল নতুন কালের নারী ও পুরুষকে। তাঁর লেখা বহুল আলোচিত উপন্যাসগুলো হচ্ছে চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, চার অধ্যায় ও যোগাযোগ।
⏯️ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোশাররফ হোসেন, মাতার নাম মরিয়মন্নেসা বকুল। তিনি পিতামাতার চতুর্থ সন্তান।
⏯️১৯৬০-এর দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে  লেখালেখির সূচনা। এ পর্যন্ত বড়দের জন্যে তাঁর প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা তেত্রিশ, ছোটদের পঁচিশ। সেলিনা হোসেনের লেখার জগৎ বাংলাদেশের মানুষ, তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। তাঁর উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংকটের সামগ্রিকতা। বাঙালির অহঙ্কার ভাষা-আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তাঁরলেখায় নতুন মাত্রা অর্জন করেছে।
⏯️ইংরেজি, রুশ, ফরাসি, হিন্দি, জাপানি, কোরিয়ান, ফিনিশ, উর্দু, আরবি, মালে, মালায়লাম ইত্যাদি বেশ কয়েকটি ভাষায় তাঁর বেশকিছু গল্প ও উপন্যাস অনূদিত হয়েছে। বিদেশি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর উপন্যাস পাঠ্যসূচিভুক্ত হয়েছে।
⏯️তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হচ্ছে : হাঙর নদী গ্রেনেড, পোকামাকড়ের ঘরবসতি, নীল ময়ুয়ের যৌবন, গায়ত্রী সন্ধ্যা, পূর্ণছবির মগ্নতা, যমুনা নদীর মুশায়েরা, ভূমি ও কুসুম।
⏯️একুশে পদক, বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কারসহ পেয়েছেন দেশের প্রধান প্রধান সমস্ত পুরস্কার। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন সুরমা চৌধুরী আন্তর্জাতিক স্মৃতি পুরস্কার (ভারত)। ২০১০ কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে।
⏯️কর্মজীবনে তিনি বাংলা একাডেমীর পরিচালক ছিলেন। এখন সার্বক্ষণিকভাবে লেখালেখি, নারী উন্নয়ন আর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছেন।
⏯️আলোচ্য উপন্যাস "কাকতাড়ুয়া"। বাংলাদেশের কোন একটি গ্রাম। এই গ্রামেরই এক কিশোর বুধা। এক চাচি আর চাচাতো বোন কুস্তি ছাড়া তিন কুলে আপন বলতে কেউ নেই। তবে আজ না থাকলেও একদিন ছিল। সে বছর দুয়েক আগের কথা। বাবা মা ছাড়াও ছিল.. দুই বোন আর এক ভাই । সবচেয়ে ছোট বোন বিনুর বয়স ছিল দেড় বছর। ছিল পিঠাপিঠি এক ভাই তালের আর বোন শিলু।
⏯️এই ভাই-বোনদের নিয়ে ভালই কাটছিল তার দিনগুলো। কিন্তু একরাতে সব শেষ হয়ে গেল। কলেরাই মারা গেল সবাই। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেল বুধা। চাচির বাড়িতে প্রথমে আশ্রয় মিলেছিল। কিন্তু দারিদ্র্যের কথা তুললে বুধা সেই বাড়ি ত্যাগ করে। সেই থেকে বুধা একা। যখন যেখানে খুশি রাত কাটায়। যা খুশি তাই করে। যখন যা জোটে তাই দিয়ে ক্ষুণ্ণিবৃত্তি নিবারণ করে।
⏯️পুরো গ্রাম আর হাটবাজার হয়ে উঠলো তার বিচরণ ক্ষেত্র। চেনা-জানা সব মানুষ হয়ে উঠলো তার আপনজন। এভাবে দিন যায়, দিন আসে। কিন্তু একদিন ঐ গ্রামে মিলিটারি ঢুকে পড়লো। পুড়িয়ে দিল বাজারের দোকানপাট। বিস্মিত বুধা, কেন মিলিটারিরা এমন করলো? কী এমন অপরাধ করেছে বাংলাদেশের মানুষ? ভীষণ ক্ষুব্ধ হলো সে। ভাবলো, এর প্রতিকার হওয়া দরকার। প্রতিশোধ নেওয়া দরকার।
⏯️বুঝতে তার অসুবিধা হল না, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ কী, তা সে বোঝেই না। তবে এটা বুঝেছিল, ঐ মিলিটারিরা বিদেশি। বাংলাদেশের মানুষ নয়। এদের বিরুদ্ধে লড়াই করা জরুরি। শুধু এরা নয়, যারা এদের সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হবে। অন্যদের মতো গ্রাম ছেড়ে সে পালিয়ে যাবে না। কিন্তু সে তো খুব ছোট, যুদ্ধ করবে কী করে?
⏯️এক রাতে মুক্তিযোদ্ধা আলি ও মিঠু রাতের আঁধারে গ্রামে এলো। বুধাকে বললো স্কুলের মিলিটারি ক্যাম্পটা উড়িয়ে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লো বুধা। প্রথমে পুড়িয়ে দিল শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আহাদ মুন্সির বাড়ি।তারপর রাজাকার কমান্ডারের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিল। বাপ-মা হারানো কিশোর বলে কেউ তাকে তেমন একটা সন্দেহ করলো না।
⏯️তারপর এল সেই দিন মুক্তিযোদ্ধাদের নেতা শিল্পী শাহাবুদ্দিন তাকে মাইন পেতে ক্যাম্পটা উড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দিল। বাঙ্কার খুঁড়বার সময় কৌশলে সে তার ভেতর মাইন পুঁতে চলে এল নদীর ধারে। এখানেই অপেক্ষা করছিলেন শাহাবুদ্দিন এবং তার সহযোদ্ধারা।
⏯️এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ পাকিস্তানি সেনারা বাঙ্কারে ঢুকতেই পুরো ক্যাম্পটা মাইনের বিস্ফোরণে উড়ে গেল। নদীতে নৌকায় বসে শাহাবুদ্দিন, বুধা শুনতে পেল সেই শব্দ। তাদের অভিযান সফল হলো। নৌকা সরে গেল নিরাপদ দূরত্বে। সংক্ষেপে এই হচ্ছে কাকতাড়ুয়া উপন্যাসে কাহিনী । এক সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনী।
⏯️আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না, উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।
⏯️ ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন বুধার মধ্য দিয়ে 'প্রতিশোধ গ্রহণের কথা বলেন। এই হচ্ছে
লেখকের জীবনভাবনা। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে যে রুখে দাঁড়াতে হয়, প্রতিশোধ গ্রহণ করতে হয়, এই ভাবনারই প্রকাশ ঘটেছে এই উপন্যাসে।শুধু বড়রা নন, একজন কিশোরও যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারে, এ হচ্ছে সেই কাহিনী।
⏯️গ্রামের অবহেলিত, প্রান্তিক এক কিশোরের স্বাধীনতা সংগ্রামের গল্প। নতুন প্রজন্মের যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি,তারা এই উপন্যাসটি পড়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পাবে। উপন্যাসাটির স্বার্থকতা মূলত এইখানে।

মন্তব্য করুন