সহকারী অধ্যাপক
৩১ মে, ২০২২ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
ঢাকা শাহীনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার
তথ্যপ্রযুক্তি বলতে সাধারণত তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহার করার প্রযুক্তিকেই বোঝানো হয়। অর্থাৎ তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবর্তন, স্থানান্তর, উপস্থাপন, ব্যবহার, নিরাপত্তা বিধান প্রভৃতি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া বা ব্যাবস্থাকেই তথ্যপ্রযুক্তি (Information Technology-IT) বলা হয়। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তাই তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্ব অনেক। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে খুব সহজে এবং স্বল্প সময়ে তথ্য আদান-প্রদানসহ যাবতীয় কাজ করা যায়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাথে তথ্যের আদান-প্রদানসহ সার্বিক যোগাযোগ হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর। তাই তথ্যপ্রযুক্তিকে (Information Technology) আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT-Information & Communication Technology) বলা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাকে আজ সহজলভ্য ও আধুনিক করেছে। বই-পুস্তক, জার্নাল, ম্যাগাজিন আজকাল সিডিতে পাওয়া যাচ্ছে। শিশুদের বর্ণমালার শেখার স্থান দখল করেছে শিশুতোষ মাল্টিমিডিয়া সিডি। ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে গবেষণার সকল উপকরণ। একজন গবেষক দিনের পর দিন লাইব্রেরিতে রেফারেন্স না খুঁজে ইন্টারনেটে একটি ক্লিক করেই পেয়ে যাচ্ছে যে কোন গবেষণা সামগ্রী, তথ্য বা দূর্লভ কোন চিত্র। ইচ্ছা করলে যে কোন শিক্ষার্থী বাংলাদেশে বসেই জাপানের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছে কিংবা আমেরিকার কোন লাইব্রেরির বই পড়তে পারছে।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বিএএফ শাহীন কলেজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, ব্যবহারিক ক্লাসে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি প্রচার, দাপ্তরিক কাজে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ, অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কাজ সম্পদন প্রভৃতি কাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিচে তথ্যপ্রযুক্তি কয়েকটি ক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
ওয়েববেসড ইনফরমেশন সিস্টেম (Web based Information System)
ওয়েব বা ইন্টারনেটের উপর ভিত্তি করে তৈরি ইনফরমেশন সিস্টেমকে ওয়েব ইনফরমেশন সিস্টেম বলা হয়। ইনফরমেশন সিস্টেম এমন এক ধরনের সফটওয়্যার সিস্টেম ইন্টারনেট টেকনোলজি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী বা অন্য কোন ইনফরমেশন সিস্টেম বা অ্যাপলিকেশন জন্য তথ্য বা সেবা প্রদান করে। এই সিস্টেমর প্রধান উদাহরণ হচ্ছে ওয়েবসাইট। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই যুগে ইলেকট্রনিক মিডিয়া হিসেবে শিক্ষা ও গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংবাদপত্র, বিনোদন প্রভৃতি ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ওয়েবসাইট। বর্তমানে তথ্য আদান-প্রদান, পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রচার, ব্যক্তিগত ও সামাজিক যোগযোগ প্রভৃতি কাজে ওয়েবসাইট এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং কলেজের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেটের মাধ্যমে কলেজের বিভিন্ন তথ্যাদি জানা, কলেজের প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনা, কলেজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে তথ্যাদি বিনিময়, সর্বোপরি কম্পিউটার ও ওয়েবভিত্তিক ইনফরমেশন সিস্টেম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১২ সালের ৩ জুন কলেজের একটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উন্মুক্ত করা হয়। ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস হচ্ছে www.bafsd.edu.bd এবং অফিসিয়াল ই-মেইল অ্যাড্রেস হচ্ছে info.bafsd.edu.bd কলেজের সকল ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিনিয়ত ওয়েবসাইটটি ভিজিট করার জন্য পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে।
ওয়েবসাইটটি তৈরির ফলে কলেজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম, দৈনিক কর্মকাণ্ড, ভর্তি, পরীক্ষার রুটিন, ফলাফল, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কিত তথ্যাদি খুব সহজে প্রকাশ ও প্রচার করা সম্ভব হচ্ছে। ২ জুন ২০১২ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রভাষক-শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ৯ জুন তারিখে প্রকাশের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ওয়েবসাইটে কলেজের ইতিহাস, ফলাফল, পরীক্ষার রুটিন, পঠিত বিষয়সমূহের তালিকা, শাখাসমূহের তালিকা, শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা, বার্ষিক শিক্ষা কর্মসূচি, শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত খবরাখবর, ছুটির নোটিশ, ফটো গ্যালারি প্রভৃতি প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্র্রশ্ন আর্কাইভ, ডিজিটাল কননেন্ট, অনলাইন ফলাফল প্রভৃতি কার্যক্রম চালু রয়েছে। তাছাড়া অনলাইনে বেতন প্রদান, অনলাইনে ক্লাস করাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে লিংক রয়েছে।
কলেজের সকল শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের স্থিরচিত্র, ভিডিওচিত্র, খবরাখরব, নোটিশ প্রভৃতি যুক্ত থাকায় ওয়েবসাইটটি পরিপূর্ণ ও তথ্যসমৃদ্ধ হয়েছে। এই প্রতিবেদনের লেখক নিজেই শুরু থেকে অদ্যবধি ওয়েব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে এর ভিজিটর সংখ্যা প্রায় ১লক্ষ ২০ হাজার।
কলেজের ওয়েবসাইটে শিক্ষক-কর্মচারি নিয়োগ, শিশু শ্রেণিতে ভর্তি, অনলাইন ফলাফল কার্যক্রমে ৩টি লিংক রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারি নিয়োগের জন্য প্রার্থীর ও শিশু শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা, প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা, ফলাফল জানা প্রভৃতি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য এই লিংকের মাধ্যমে ৩টি স্বতন্ত্র সিস্টেম রয়েছে। এই সিস্টেমগুলো বাস্তবায়ন করেছে অন্যরকম সফটওয়্যার লিমিটেড।
ভার্চুয়াল ডেস্কটপ সিস্টেম (Virtual Desktop System)
একটিমাত্র সার্ভার কম্পিউটারেরর সাথে একাধিক মনিটর যুক্ত করে একই সাথে অনেক ব্যবহারকারী কম্পিউটার ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে ভার্চুয়াল ডেস্কটপ সিস্টেম বলে এই পদ্ধতির প্রতিস্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অপেক্ষাকৃত কম হয়। ব্যবহারিক ল্যাবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে একইসাথে অনেক ছাত্র-ছাত্রী একই প্রোগ্রাম বা ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে পারে। এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি মনিটরের সাথে অতিরিক্ত একটি ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে এবং সবগুলো মনিটর আবার স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি প্রধান কম্পিউটার বা সার্ভার কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। ব্যবহৃত ডিভাইসটির সাথে কী-বোর্ড, মাউস, স্পিকার এমনকি ইউএসবি ভিভাইস যুক্ত করা যায়। সার্ভার কম্পিউটারের গতি ও ক্ষমতা বেশি হলে ব্যবহারকারীর কাজের কোন অসুবিধা হয়না। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারী স্বতন্ত্রভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করার গতি ও সুবিধা উপলব্ধি করে থাকেন। এই পদ্ধতির আরো সুবিধা হচ্ছে একটিমাত্র পাওয়ার বাটন অন-অফ করে শিক্ষক সবগুলো কম্পিউটার চালু বা বন্ধ করতে পারেন, এমনকি বিভিন্ন ব্যবহারকারীর অ্যাক্সেস পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ২০১০ সাল থেকে অদ্যবধি কলেজ শাখার কম্পিউটার ল্যাবে এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। এতে একটি কোর আইফাইভ মানের কম্পিউটারকে সার্ভার হিসেবে কনফিগার করে তার সাথে ২০টি মনিটর যুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রতি ওয়ার্কস্টেশনে দু'জন শিক্ষার্থী হিসেবে একটিমাত্র কম্পিউটারে একইসাথে সর্বোচ্চ ৪০জন ছাত্র-ছাত্রী ব্যবহারিক ক্লাস করার সুযোগ রয়েছে।
অফিস অটোমেশন সিস্টেমে (Office Automation System-OAS)
অফিস অটোমেশন বলতে অফিসের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবহার, আদান-প্রদান প্রভৃতি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, সফ্টওয়্যার ও নেটওয়ার্কের সমন্বিত ব্যবস্থাকে বুঝায়। অফিস অটোমেশন অফিসের বিভিন্ন কাজের পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়তা ও গতিশীলতা অর্জনে সহায়তা প্রদান করে। অফিসের যাবতীয় কাজ যেমন- ডকুমেন্ট তৈরি, কপি ও প্রিন্ট করা, ইমেইল আদান-প্রদান, নথিপত্র সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, প্রভৃতি এই ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে। অফিস অটোমেশন সিস্টেম তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। এই সিস্টেম অফিসের কর্মীদের কাজের চাপ ও পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং কর্মদক্ষতা, কাজের গতি, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে কাজের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয়।
বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকায় একসময় কয়েকটি টাইপ রাইটার ও সাইক্লোস্টাইল মেশিনের মাধ্যমে অফিসের চিঠিপত্র টাইপ করা, কপি করা প্রভৃতি কাজ সম্পন্ন করা হতো। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবিকাশের ফলে ধীরে ধীরে টাইপরাইটারের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে কম্পিউটার। শুরুতেই একটিমাত্র কম্পিউটার ও ১টি প্রিন্টার দিয়ে অফিস অটোমেশনের অধিকাংশ কাজ সম্পাদন করা হতো। ধীরে ধীরে অফিসিয়ার কাজের চাহিদা ও ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে অফিসের দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পদন করা, চিঠিপত্র টাইপ করা, কপি করা, অন্যান্য অফিসের সাথে তথ্য আদান-প্রদান প্রভৃতি কাজে অটোমেশন সিস্টেম ব্যবহার হচ্ছে। এই সিস্টেমের আওতায় ব্যবহৃত হার্ডওয়্যারের মধ্যে ৩টি কম্পিউটার, ১টি প্রিন্টার, ১টি মডেম, ১টি ফটোকপিয়ার এবং সফটওয়্যারের মধ্যে এমএস ওয়ার্ড, এমএস এক্সেল, ফটোশপ, ইলাসট্রেটর, মজিলা ফায়ারফক্স উল্লেখযোগ্য। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সিলেবাস তৈরি, পরীক্ষার সময়সূচি, সিলেবাস, বার্ষিক শিক্ষা কর্মসূচি, অফিসিয়াল চিঠিপত্র তৈরি ও সংরক্ষণ, ক্লাস রুটিন তৈরি, বার্ষিক ম্যাগাজিন কম্পোজ, ই-মেইল আদান-প্রদান প্রভৃতি কাজ করা হয়। অফিস সুপারের অধীনে এই সিস্টেমে কাজ করছেন বোরহান উদ্দিন, বজলুর রহমান ও তানিয়া হাওলাদার।
ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (Management Information System-MIS)
Management Information System (MIS) প্রতিষ্ঠানের তথ্যের অভ্যন্তরীণ উৎসের সাথে সম্পর্কিত। MIS সাধারণত ট্রান্সজেকশন প্রসেসিং সিস্টেম (Transaction Processing System-TPS) থেকে ডেটা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করে সামারি আকারে ব্যবস্থাপনার জন্য রিপোর্ট প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানের মাঝারি পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা এবং অপারেশনাল সুপারভাইজার কর্তৃক এই রিপোর্ট ব্যবহৃত হয়। এই রিপোর্ট নিয়মিত হতে পারে, আবার ব্যবস্থাপনার চাহিদার পেক্ষিতেও তৈরি হতে পারে। এই সিস্টেম নিম্নতর ব্যবস্থাপনাকে সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা মূল্যায়নে এই সিস্টেম ব্যবস্থাপককে বর্তমান ও পূর্ববর্তী ফলাফল তুলনা করে উচ্চতর সুসংগঠিত তথ্য প্রদানে সহায়তা করে। পেরোল সিস্টেম, বাজেটিং সিস্টেম, জনসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্টুডেন্টস ইনফরমেশন সিস্টেম, রেজাল্ট প্রসেসিং সিস্টেম, লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রভৃতি এই সিস্টেমের উদাহরণ।
সকল কাজের জন্য এই ধরনের সিস্টেম বাস্তবায়ন অনেকটা সময়সাপেক্ষে ও ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকায় বর্তমানে স্টুডেন্টস ইনফরমেশন সিস্টেম ও রেজাল্ট প্রসেসিং সিস্টেম চালু রয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। স্কুল ও কলেজ শাখার জন্য নিজস্ব সফটওয়্যার উন্নয়নের মাধ্যমে পৃথক পৃথক দুইটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই সাথে এই সিস্টেম সম্পাদন করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের সকল তথ্যাবলি ডেটাবেসে সংরক্ষণ, পরিচয়পত্র তৈরি, অভ্যন্তরীণ সকল পরীক্ষার প্রবেশপত্র, টেবুলেশন ও গ্রেডশীট তৈরি, প্রশংসাপত্র তৈরি, উত্তীর্ণ-অনুত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের তালিকা তৈরি, বিভিন্ন কুয়েরি রিপোর্ট তৈরি প্রভৃতি কাজ এই সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়।
ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম (Electronic Payment Systems)
২০১৩ সাল থেকে বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকায় সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করার সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে মেনুয়্যাল পদ্ধতিতে বেতন-ফি গ্রহণ করা হতো। এতে অনেক অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীরা দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বেতন-ফি প্রদান করতে হতো। নতুন শ্রেণিতে ভর্র্তি বা পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়ে একসাথে অনেক শিক্ষার্থীকে ভর্তি ফি বা পরীক্ষার ফি জমা দেয়ার কারণেএই সমস্যা প্রকট আকারে ধারণ করতো। বর্তমানে অনলাইনে বেতন-ফি প্রদানের ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়াতে হয় না, অফিসে বা ঘরে বসেই যেকেউ যেকোনো সময় বেতন-ফি পরিশোধ করতে পারে। অনেক অভিভাবক দেশের বাইরে থেকেই নিজ সন্তান বা পোষ্যদের বেতন-ফি বকেয়া আছে কিনা জানতে পারেন কিংবা বেতন-ফি প্রদান করতে পারে। ২০১২ সালের জুন মাস থেকে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সর্বমোট ৭৮,২৫১ জন ব্যবহারকারীর মধ্যে ৩৮,৯৯৩ জন ইউনিক ভিজিটর। একই সময়ে মোট ব্যবহারকারীর মধ্যে ১৯,১৬৫ জন দেশের বাইরে থেকে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করেছেন। মনে করা হচ্ছে তাদের একটা বৃহৎ অংশ শুধুমাত্র অনলাইন ফি প্রদানের জন্য ওয়েবসাইটটি ভিজিট করেছেন।
এডুকেশন ইনফরমেশন সার্ভিস (Education Information Service)
শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নভেম্বর ২০১৩ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকায় এডুকেশন ইনফরমেশন সার্ভিস চালু রয়েছে । বর্তমানে এডু স্মাট, অন্যরকম ও অধ্যায়ন নামে ৩টি প্রতিষ্ঠান ৩টি ভিন্ন ক্ষেত্রে এই সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। এই সার্ভিসের আওতায় বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকার ছাত্র-ছাত্রীদের সব ধরনের তথ্যাবলি ডেটাবেজে সংরক্ষণ, শিক্ষার মান ও সার্বিক শৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত ও যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল ও প্রয়োজনীয় নোটিশ তাদের অভিভাবকদের যথাসময়ে অবহিতকরণ প্রভৃতি কাজ করা সম্ভব হবে। ফলে কোনো শিক্ষার্থা ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে কিংবা দেরিতে ক্লাসে উপস্থিত হলে কিংবা কলেজে উপস্থতি থেকে ক্লাস ফাঁকি দিলে বাবা-মা কিংবা অভিভাবককে দ্রুততম সময়ে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের নোটিশ বা নম্বরপত্রসহ পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থী-অভিভাবককে জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা লগইন করে তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাদি ডেটাবেসে আপডেট করা, পরীক্ষার বিবরণ দেখা যেমন নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় কতটি উত্তর সঠিক হয়েছে, কতটি ভুল হয়েছে, এমনকি সঠিক উত্তর কোনটি হবে প্রভৃতি জানতে পারছে।
লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (Library Management System)
২০২১ সালে কলেজে চালু হলো লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এই সিস্টেম বাস্তবায়নের ফলে কলেজ লাইব্রেরির প্রায় ১২হাজার বই শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা অনুসন্ধান, ইস্যু প্রভৃতি কাজে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেকোনো বইয়ের নাম বা লেখকের নাম ধরে কম্পিউটারে সার্চ দিয়ে বইটির অবস্থান জানতে পারবে। এর ফলে লাইব্রেরিয়ান অতি সহজে কোনো একটি কোথায় রয়েছে, কার নামে ইস্যু করা হয়েছে, লেখকের নাম, বইয়ের মূল্য, সংস্করণ, আইএসবিএন প্রভৃতি সহজে জানতে পারছেন। সিস্টেমটি বাস্তবায়ন করেছে S3 Technology নামে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান।
লেখক: মনির আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা