সহকারী অধ্যাপক
০৬ জুন, ২০২২ ০২:০৫ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈতিকতা (Ethics in uses of ICT)
নৈতিকতা হলো এক ধরনের মোরাল কোড যেখানে বেশ কিছু নিয়ম-কানুন থাকে, যা স্বাভবিকভাবে সকলের দ্বারা স্বীকৃত। এটি কোনো ব্যক্তিকে বোঝাতে সহায়তা করে যে, কোনটি সঠিক বা ভুল, কোনটি ন্যায় বা অন্যায়, কোনটি উচিত বা অনুচিত। এই বোধকে জাগ্রত করা এবং নীতিবোধকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া নৈতিকতা মূল লক্ষ্য। নৈতিকতা এক ধরনের মানদণ্ড যা আচরণ, কাজ ও পছন্দের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করে। আমরা দৈনন্দিন জীবনে তথ্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করছি। যেমন- তথ্য সংগ্রহ, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান প্রভৃতি। এইসবের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নৈতিকতা যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষতি ও ঝুঁকি মূল্যায়নের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নৈতিকতার বিষয়টি বর্তমানে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কম্পিউটার ভাইরা, হ্যাকিং, স্প্যামিং, সাইবার ক্রাইম, পাইরেসি ইত্যাদি শব্দগুলো বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি অভিধানের শব্দ হিসেবে অন্তর্ভুক্তির ফলে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে নৈতিকতার বিষয়টি প্রবলভাবে আলোচনায় এসেছে। কম্পিউটার নৈতিকতা হচ্ছে নৈতিকতার একটি ধারণা, যা কমিপউটার ব্যবহারে নৈতিকার বিষয়, সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিরোধ করাকে বুঝায়। নৈতিকতার বিষয়টি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক আদর্শ, বিশ্বাসকে ভঙ্গ না করে বা কোনো ক্ষতিসাধন না করে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারের পদ্ধতি, মান, চর্চা ও শৃঙ্খলার সাথে সম্পর্কিত।
কম্পিউটার নৈতিকতা কাজের পদ্ধতি, মূল্য ও জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত যা কোনো বিষয়, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না করে এবং সঠিক মূল্যবোধ ও বিশ্বাস বজায় রেখে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। নৈতিকতা এমন একটি বিষয়, যা কোনো বিষয়ের মূল্যবোধের সাথে সম্পর্কিত, যেখানে মানুষের ভালো বা মন্দ কাজের বিষয়টি বিবেচিত হয়ে থাকে। কম্পিউটারের ক্ষেত্রে নৈতিকতার বিষয়টি আলাদা কিছুই নয়। কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট প্রাইভেসি, সফটওয়্যার স্বস্ত বা মালিকানা, সাইবার ক্রাইম বা কম্পিউটার অপরাধ, অননুমোদিত অ্যাক্সেস বা হস্তক্ষেপ ইত্যাদি বিষয়গুলো কম্পিউটার নৈতিকতার প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে নৈতিকতার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে কম্পিউটার রিসোর্স ব্যবহার ও নৈতিকতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন করা এবং কোনো ডিজিটাল কনটেন্টের অননুমোদিত ব্যবহার প্রভৃতি রোধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে থাকে। অনেকক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর আচরণবিধি ও কার্যপরিধি, কর্মক্ষেত্র কিংবা কম্পিউটার ব্যবহারের চারপাশের জগৎ প্রভৃতি কম্পিউটার নৈতিকতার আওতায় পড়ে।