Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

২৫ জুন, ২০২২ ০৮:০১ অপরাহ্ণ

মাদরাসা অধিদপ্তরের যুগান্তকারী পদক্ষেপ কে ধন্যবাদ জানাই

# মাদরাসা অধিদপ্তরের যুগান্তকারী পদক্ষেপ বনাম বাস্তবতা!


আলিম,ফাজিল ও কামিল স্তরে মূল আরবি কিতাব পড়ানোসহ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। অবশ্যই এটা প্রশংসনীয়।তবে বর্তমান মাদরাসা কাঠামোতে এটা মোটামুটি অসম্ভবই!

কারন আলিমের আগে দাখিল ও ইবতেদায়ী আরো দুটি স্তর রয়েছে।এই দুটি স্তরে যদি কোন ছাত্রের আরবিতে বেসিক মজবুত না হয় তাহলে আলিম স্তরে গিয়ে যতই উদ্যোগ নেয়া হোক না কেন সেটা বুমেরাং হবে!

এটা একেবারেই সিম্পল বিষয়।যারা শিক্ষকতার পেশায় জড়িত তারা এই বিষয়টি অবশ্যই বুঝেন।

এবার একটু দেখি ইবতেদায়ী ও দাখিল স্তরের কি অবস্থা!?


১.শুনতে একটু কঠিন হলেও এটাই বাস্তবতা যে, ৯০% মাদরাসার ইবতেদায়ী স্তর লাইফ সাপোর্টে আছে!শিক্ষক সংকট,যোগ্য শিক্ষকের অভাবের প্রকট! অবকাঠামোগত আর সরকারের অবহেলার কথা বলার প্রয়োজন নেই!

তাহলে চিন্তা করুন প্রতিষ্ঠান যতই আন্তরিক হোক না কেন তারা কিভাবে এই ক্লাসগুলো পরিচালনা করবে???

প্রতিষ্ঠান থেকে এখন আর শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ নেই!আর সরকারিভাবে বছরের পর বছর চলে গেলেও শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে না!


২.এবার আসুন দাখিল স্তরের দিকে!শিক্ষকের দিক থেকে এটা ইবতেদায়ী স্তর থেকে ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত মানের নয়।সরকারি অবকাঠামো অনুযায়ী দাখিল ৬ষ্ঠ থেকে দশম পর্যন্ত আরবির জন্য শুধু তিনজন সহকারী মৌলবি শিক্ষক রয়েছে!তাও আবার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই এই স্তরের দুয়েকটা করে পোস্ট খালি রয়েছে!আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে এই স্তরের অনেক শিক্ষকই এই স্তরে আরবি পাঠদানে সক্ষম নয়।

মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সরেজমিনে দেখলে বাস্তবতা টের পাবেন।

তো ইবতেদায়ী ও দাখিল স্তরে এত এত সমস্যা, জরাজীর্ণ অবস্থা রেখে আপনি আলিম স্তরে পরিবর্তনটা কিভাবে আশা করেন???

তারপরেও আমরা আশাবাদী।কতৃপক্ষ সকল স্তরের এসব সমস্যা দূর করনে সচেষ্ট হবেন বলে আমরা আশা রাখি।এ


৩.এরপরে আসুন আলিম থেকে উপরের স্তরের দিকে।এখানেও সমস্যা কম নয়।বিশেষকরে এই স্তরে আরবি প্রভাষক যে পদ্ধতিতে নিয়োগ হয় তাতে এই স্তরে আরবি পড়ানোর মত শিক্ষক পাওয়া আকাশকুসুম ব্যাপার!

এভাবে আরো দশবছর শিক্ষক নিয়োগ হলে ছাত্রতো দূরের কথা আরবি কিতাব পড়ার মত শিক্ষকও খোঁজ করে পাওয়া যাবেনা!


৪.এর সাথে তো প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছেই।সবাই না তবে অনেকেই পরিবর্তনের ব্যাপারে আন্তরিক না।আবার অনেক প্রধানদের চেষ্টা ও আন্তরিকতার কারনে অনেক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তনও এসেছে। আলহামদুলিল্লাহ!

এত শত সমস্যার পরেও আমরা আশাবাদী পরিবর্তন হবেই ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য করুন