Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

২৬ জুন, ২০২২ ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

এক জন সাহাবীর কথা

এক আশেকা সাহাবীয়ার নাম হজরতে উম্মে আম্মারা রাঃ

==============================

হজরতে উম্মে আম্মারা রাঃ একজন বীর সিংহীর নাম। যার নাম ইসলামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ। উম্মে আম্মারা রাঃ চর্চা শুধু দুনিয়া ও কিয়ামতের ময়দানে নয়। জান্নাতেও হবে।


যারা ইসলামের প্রাথমিক যুগে হজ্ব মৌসুমে মদিনা শরিফ থেকে আকাবায় ( গিরি সন্কট ) গিয়ে রসুলে পাক দঃ এর হাতে ইসলাম গ্রহন করেছেন। তার মধ্যে একজন হজরতে উম্মে আম্মারা রাঃ । হজরত উম্মে আম্মারা রাঃ দ্বিতীয় আকাবায় ইসলাম গ্রহন করেন এবং তিনি বনী নজ্জার গোত্রের এক মহিয়ষী মহিলা খাতুন। যেই গোত্রের পক্ষে রসুলে পাকের মদিনার শরিফের শুভাগমনকে তালায়াল বদরু,,,,,,,,, ওয়া দায়ী বলে স্বাগতম জানিয়েছিলেন।


ইতিহাসে হজরত উম্মে আম্মারা রাঃ সম্পর্কে দুইটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

---------------------------

১) মদিনার মোনাফেকরা গুজব ছড়ায় ওহুদ যুদ্ধে হুজুর দঃ শহীদ হয়ে গেছেন। রসুলের আশেকা হজরতে উম্মে আম্মারা রাঃ শুনে বিচলিত অবস্থায় এক নজর রসুল দঃকে দেখার জন্য ওহুদের ময়দানের দিকে দৌড়াতে লাগলেন।


পথিমধ্য কারো দেখা হয়। বলেন হে উম্মে আম্মারা রাঃ তোমার স্বামী ওহুদের ময়দানে শহীদ হয়ে গেছেন। উম্মে আম্মারা রাঃ বলেন অসুবিধা নেই। আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমার রসুলের কি অবস্থা বলুন ? আরো কতটুক দুর গেলেন। হে উম্মে আম্মারা রাঃ তোমার ভাই শহীদ হয়ে গেছেন। উম্মে আম্মারা রাঃ বলেন কোন অসুবিধা নেই। আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমার রসুলের কি অবস্থা কেউ বলুন ? আরো কিছু দুর গেলেন। হে উম্মে আম্মারা রাঃ তোমার পিতা শহীদ হয়ে গেছেন। উম্মে আম্মারা রাঃ বলেন আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমার রসুলের খবর দাও কি অবস্থা ?


উম্মে আম্মারা রাঃ ওহুদের ময়দানের নিকট পৌঁছে গেলেন। কেউ বলেন হে উম্মে আম্মারা রাঃ তোমার ছেলে শহীদ হয়ে গেছেন। উম্মে আম্মারা রাঃ একই জবাব আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমার রসুল কোথায় ? কি অবস্থায় আছেন আমাকে একবার দেখাও। কেউ বললেন ঐ যে দেখ রসুল দঃ। দেখে উম্মে আম্মারা রাঃ এক দৌড়ে রসুলে পাকের কাছে পৌঁছে গেলেন। আল্লাহর দরবারে হাত তুলে উম্মে আম্মারা রাঃ আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করলেন। হে আল্লাহ আমার ভাই বাবা স্বামী সন্তান সব তোমার জন্য কোরবান। কারো দরকার নেই। আমার রসুল সাল্লাল্লাহু আছেন তাহা যথেষ্ট।


দ্বিতীয় বর্ণনা

-------------------

ওহুদের যুদ্ধে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা সেবা করার জন্য উম্মে আম্মারা রাঃ ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সাহাবায়ে কেরামদের ভুলের কারণে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। উম্মে আম্মারা রাঃ দুর থেকে দেখেন। কাফের ইবনে কামিয়া হুজুর দঃকে একা পেয়ে দল বল নিয়ে হুজুর দঃ এর উপর হামলা করার জন্য  দৌড়াচ্ছেন। মুজাহেদা আশেকা হজরতে উম্মে আম্মারা রাঃ এক দৌড়ে রসুলে পাকের সামনে হাজির।


হজরতে উম্মে আম্মারা রাঃ কাফের ইবনে কামিয়াদের সাথে লড়তে লাগলেন। লড়তে লড়তে তিনি শরীরের কয়েক জায়গায় আঘাত প্রাপ্ত হন। এক পর্যায়ে রসুলে করিম রউফুর রহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম স্বাক্ষী দিচ্ছেন। আমি যেই দিকে তাকাই না কেন ডানে বামে আগে পিছে সব দিকে দেখছি হজরত উম্মে আম্মারা রাঃকে ।  তার রসুলকে রক্ষার জন্য শুধূ লড়াই করে যাচ্ছেন।


ওহুদ যুদ্ধ শেষে রসুল দঃ জিজ্ঞাসা করলেন। হে উম্মে আম্মারা তুমি কি চাও আজ চেয়ে নাও। উম্মে আম্মারা রাঃ বলেন দুনিয়ার কিছু চাইনা। আপনার খেদমত করার জন্য শুধু জান্নাতে আপনার পাশে থাকতে চাই। রসুল দঃ দোয়া করলেন। উম্মে আম্মারা রাঃ খুশিতে আত্মহারা হয়ে বললেন আর কোন কিছুর দরকার নেই। জান্নাতে রসুলে পাকের পাশে থাকা যথেষ্ট।


এটাই একমাত্র উম্মতে মোস্তফা দঃ এর চাওয়া পাওয়া। রসুলের প্রশ্নে সব কিছুর বিনিময়ে রসুল দঃ এর ইজ্জত সন্মান রক্ষা করা। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করা।


যদিও বৃদ্ধ শিশু মহিলা যুদ্ধে অংশ গ্রহন নিষেধ। কিন্তু মুজাহেদা হজরতে উম্মে আম্মারা রাঃ অনেক যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। শেষমেশ সিদ্দিকে আকবর রাঃ যুগে ভন্ড নবী দাবিদার মুসাইলামুতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন।


হজরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ নিষেধ করলেন। হজরত উম্মে আম্মারা রাঃ জীত ধরলেন না তিনি ইয়ামামায় যাবেন। পরে সিদ্দিকে আকবরের অনুমতি নিয়ে সাহাবায়ে কেরামদের সাথে ইয়ামামার যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন।


ঐতিহাসিকরা বলেন। ইয়ামামার যুদ্ধে কাফেরদের তীর তলোয়ারের আঘাতে হজরত উম্মে আম্মারা রাঃ শরীরের আশি জায়গায় আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর তার সন্তান হাবিব রাঃকে কাফেররা টুকরো টুকরো করে আগুনে নিক্ষেপ করেন।  উম্মে আম্মারা রাঃ দেখে বলেন রসুলে পাকের জন্য ছেলেকে তৈয়ার করেছিলাম। আজ সেই রসুলের জন্য টুকরো টুকরো হয়েছে। অসুবিধা নেই। আলহামদুলিল্লাহ।


মুজাহেদা আশেকা সাবেরা সাহাবীয়া হজরতে উম্মে আম্মারা রাঃ বলেন এবং দুনিয়াকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। রসুলে পাকের ইজ্জত সন্মান রক্ষায় কারো সাথে আপোষ নাই। খতমে নবুয়তের ব্যপারে কাউকে ছাড় নাই । আমার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম শেষ নবী। কিন্তু আজ কি হজরত উম্মে আম্মারা রাঃ মত কোন বাঘিনী সিংহী মহিলা মা বোন আছে ?

মন্তব্য করুন