Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

৩০ জুন, ২০২২ ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ

কুরবানির গুরুত্ব

বনের পশুকে নয়, মনের আমিত্বকে উৎসর্গ করারই হলো কুরবানী! 


কুরবানি কী ও কেন?


কুরবানির বিধান যুগে যুগে সব শরিয়তেই বিদ্যমান ছিল। মানব সভ্যতার সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রমাণিত যে, পৃথিবীর সব জাতি ও সম্প্রদায় কোনো না কোনোভাবে আল্লাহর দরবারে তার প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করতেন। উদ্দেশ্য একটাই- আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন।


আল্লাহ তাআলা বলেন,

 ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানির এক বিশেষ রীতি পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, যেন তারা ওই সব পশুর ওপর আল্লাহর নাম নিতে পারে, যা আল্লাহ তাদেরকে দান করেছেন।’ (সুরা হজ : আয়াত ৩৪)


কুরবানি কি?

আরবি করব বা কুরবান (قرب বা قربان) শব্দটি উর্দূ ও ফার্সীতে (قربانى) কুরবানি নামে রূপান্তরিত। এর অর্থ হলো-নৈকট্য বা সান্নিধ্য। কুরআনুল কারিমের কুরবানির একাধিক সমার্থক শব্দের ব্যবহার দেখা যায়।


>>نحر অর্থে। আল্লাহ বলেন, فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ‘সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য নামাজ এবং কুরবানি আদায় করুন। এ কারণে কুরবানির দিনকে

 يوم النحر বলা হয়


>> نسك অর্থে। আল্লাহ বলেন, قُلْ إِنَّ صَلاَتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ‘আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু; সবই বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার জন্য।’ (সুরা আনআ’ম : আয়াত ১৬২)>> منسك অর্থে। আল্লাহ বলেন, ‘ لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكاً ‘আমি প্রত্যেক উম্মাতের জন্য কুরবানির বিধান রেখেছি।’ (সুরা হজ্জ : আয়াত ৩৪)।


>> الاضحى অর্থে। হাদিসের ভাষায় অর্থে কুরবানির ঈদকে (عيد الاضحى) ‘ঈদ-উল-আজহা’ বলা হয়।


কুরবানি সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশনা কুরবানির হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য মাধ্যম। কুরবানির শুরু হয়েছিল হজরত আদম আলাইহিস সালামের দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের মধ্যে সংঘটিত করবানির মাধ্যমে।


আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে রাসূল! আপনি তাদেরকে আদমের পুত্রদ্বয়ের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়েই কুরবানি করেছিল, তখন একজনের কুরবানি কবুল হ’ল এবং অন্যজনের কুরবানী কবুল হ’ল না।সে (কাবিল) বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব।অপরজন (হাবিল) বলল, অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিদের কুরবানি কবুল করেন।সে (হাবিল) বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হস্ত প্রসারিত কর, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার প্রতি হস্ত প্রসারিত করব না। কেননা আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ সুরা মায়েদা : আয়াত ২৭-২৮


এ হলো কুরবানি কবুল হওয়া ব্যক্তির ভাবাবেগ ও মানসিকতা। কেননা কুরবানি তাকওয়াবান লোকদের আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য নিদর্শন।


কুরবানির প্রচলন হজরত আদম আলাইহিস সালামের যুগ থেকে শুরু হলেও মুসলিম উম্মাহ কুরবানি মূলতঃ হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আল্লাহর সন্তুষ্টির পরীক্ষায় হজরত ইসমাইল আলাইহি সালামকে কুরবানির স্মৃতিময় ঘটনা নিজেদের মধ্যে বিরাজমান করা।


আল্লাহ তাআলা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে কঠিন অগ্নি পরীক্ষায় ফেলেছিলেন এ কুরবানির নির্দেশ প্রদান করে। যা তিনি হাসিমুখে পালন করে আল্লাহর প্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।


আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) কে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করলেন, তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে মাবনজাতির নেতা বানিয়ে দিলাম।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১২৪)


কেন কুরবানি প্রচলন!হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম যখন চলাফেরা করার বয়সে উপণীত হলেন; তখন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর প্রাণপ্রিয় সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় কুবানির জন্য স্বপ্নে আদিষ্ট হন। আর নবিদের স্বপ্নও কোনো কল্পনা প্রসূত ঘটনা নয় বরং তা ‘ওহি’ বা আল্লাহর প্রত্যাদেশ।


তখন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম পুত্র ইসমাইলকে বললেন, ‘হে ছেলে! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে জবেহ করছি। এ বিষয়ে তোমার অভিমত কি?


সে (হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম) বলল, ‘পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তা পালন করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০২)


৯৯ বছরের বৃদ্ধ হজরত ইবরাহিম তার প্রাণপ্রিয় পুত্রকে আত্মনিবেদনে আল্লাহ তাআলা যে পরীক্ষার সম্মুখীন করেছিলেন। আর তিনিও মিনা প্রান্তরে প্রাণাধিক সন্তানকে কুরবানির যে নির্দেশ পালন করেছিলেন।


আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে তাঁর মানসিকতা আল্লাহর নিকট কবুল হয়েগিয়েছিল। যা আজও মুসলিম উম্মাহ প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ এ তিন দিনের যে কোনো একদিন পালন করে থাকেন।


আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে লোক দেখানোর জন্য কুরবানি নয় বরং পশুকে জবাইয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মনের পশু ও আমিত্বকে জবাই করার তাওফিক দান করুন। কুরবানির মাধ্যমে নিজেকে তাকওয়াবান হিসেবে তৈরি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


‘কুরবানি’ এর গুরুত্ব ও ফজিলত

ধর্মপ্রান মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, ঈদুল আজহা। হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়ে থাকে। ঈদুল আজহার সবচেয়ে বড় আমল হলো, কুরবানি করা। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মুহাম্মদ, লাইস ইবন সাআদ, ইমাম আওযায়ী প্রমুখের মতে, সামর্থনবানদের উপর কুরবানি করা ওয়াজিব।


হযরত মুহাম্মদ (সা.) এ সম্পর্কে ইরশাদ করেন, তোমরা মোটা তাজা পশু দেখে কোরবানি কর, কারণ এ পশুই পুলসিরাতের বাহক হবে। (মুসলিম-২৬৩৯)


কুরবানি

কোরবানি (قربانى) শব্দটি আরবি।‘কোরবানুন’ মাসদার থেকে শব্দটির উৎপত্তি। কুরবানি শব্দের অর্থ হলো, নিকটবর্তী হওয়া, সান্নিধ্য লাভ, আত্নত্যাগ, জবেহ ইত্যাদি। শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তোষ লাভের আশায় নির্ধারিত তারিখের মধ্যে হালাল কোন পশু আল্লাহর নামে জবেহ করা।


কুরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:


وَلِكُلِّ اُمَّةٍ جَعَلۡنَا مَنۡسَكًا لِّيَذۡكُرُوا اسۡمَ اللّٰهِ عَلٰى مَا رَزَقَهُمۡ مِّنۡۢ بَهِيۡمَةِ الۡاَنۡعَامِ ؕ فَاِلٰهُكُمۡ اِلٰـهٌ وَّاحِدٌ فَلَهٗۤ اَسۡلِمُوۡا​ ؕ وَبَشِّرِ الۡمُخۡبِتِيۡنَ ۙ‏-


‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানি নির্ধারণ করেছি যাতে তারা হালাল পশু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। (সূরা হজ-৩৪)।


মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

لَنۡ يَّنَالَ اللّٰهَ لُحُـوۡمُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلٰـكِنۡ يَّنَالُهُ التَّقۡوٰى مِنۡكُمۡ​ؕ كَذٰلِكَ سَخَّرَهَا لَـكُمۡ لِتُكَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰى مَا هَدٰٮكُمۡ​ؕ وَبَشِّرِ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏-


‘নিশ্চই আমার নিকট কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত কিছুই কবুল হয় না, তবে আমার নিকট পৌঁছে একমাত্র তাকওয়া। (সূরা হজ-৩৭)।


হয়রত আয়েশা (রা.) বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)ইরশাদ করেছেন, ‘কোরবানির দিন কোরবানির চেয়ে উত্তম কোনো আমল আল্লাহর কাছে নেই।’


হযরত যায়দ বিন আরকাম রা.থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাহাবিগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এই কোরবানী কী? তিনি বলেন, তোমাদের পিতা ইব্রাহিম আ. এর সুন্নত। তারা পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসূল! এতে আমাদের জন্য কী (সওয়াব) রয়েছে? তিনি বলেন, প্রতিটি পশমের বিনিময় নেকি হবে। সাহাবাগণ বললেন,দুম্বা ও ভেড়ার পশমের কী হুকুম? তিনি বলেন, দুম্বা ও ভেড়ার প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকী রয়েছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ-৩১২৭)


কুরবানির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের কাছে নেক সন্তানের দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর এ দোয়া কবুল করে সহনশীল এক ছেলে সন্তান দান করেছিলেন। তিনি হলেন হজরত ইসমাইল (আ)।


হজরত ইবরাহিম (আ)-এর প্রার্থনাঃ


رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ 


’হে আমার প্রভু! আমাকে এক সৎ ছেলে সন্তান দান করুন।’ (সুরা সাফফাত-১০০)


হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর বয়স যখন মতান্তরে ৯০ বা ১০০ বা ১২০ বছর তখন বিবি হাজেরার গর্ভে পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করলো। তার নাম রাখা হয় ইসমাঈল। এই পুত্রকে নিয়ে কিছুদিন পর কঠিন পরীক্ষায় উপনীত হলেন পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.)।


পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

অতঃপর সে (ইসমাঈল) যখন পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো, তখন ইব্রাহিম তাকে বলল, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে জবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বলল, পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহিম (আ.) তাকে জবেহ করার জন্য শায়িত করল, তখন আমি তাকে ডেকে বললাম : হে ইব্রাহিম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবেই সত্কর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু।’ (সূরা সাফফাত-১০২-১০৭)


এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলমানগন মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি উদযাপন করে থাকে।


কুরবানির গুরুত্বপূর্ণ আমল

গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, সর্বোত্তম কাপড় পরিধান করা সুন্নত।

ঈদের সালাত আদায় করা ওয়াজিব।

পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত।

মসজিদের বাইরে উন্মুক্ত ময়দানে ঈদের জামাত করা সুন্নত।

এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ঈদগাহ থেকে ফিরে আসা সুন্নত।

ঈদের জামাত শেষে খুতবা শোনা ওয়াজিব।

ঈদগাহে যাওয়া ও আসার পথে নিম্নোক্ত তাকবির পাঠ করা সুন্নত:

اَللهُ َكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَاإِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الحَمْدُ (আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ)।


ঈদের দিনে শুভেচ্ছা বিনিময়

হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন ‘যুবাইর ইবনে নফীর থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন, تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَم (তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম)। অর্থ আল্লাহ তা‘আলা আমাদের ও আপনার ভালো কাজগুলো কবুল করুন। (ফাতহুল বারী শরহু সহীহিল বুখারী-৬/২৩৯, আসসুনানুল কুবরা লিলবাইহাকী ৬৫২১)


কুরবানির হুকুম

কুরবানি প্রত্যেক স্বাধীন মুসলমান মুকিমের ওপর ওয়াজিব অর্থাৎ যিনি কুরবানির ঈদের দিন নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক থাকবে। জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো মুসলিম যদি সাহেবে নিসাব অর্থাৎ সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রৌপ্য অথবা এর যেকোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা ব্যবসার পণ্যের মালিক হন, তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ ঈদের নামাজ পড়ার পর থেকে জিলহজ্ব মাসের বারো তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে।


সামর্থ্য থাকা সত্বেও যারা কুরবানী করে না,তাদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করে রাসুল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে। (ইবনে মাজাহ-৩১২৩)


কুরবানির পশুর বয়স

ইসলামি শরিয়ত অনুসারে নির্ধারিত ৬ ধরনের গৃহপালিত পশু দিয়ে কুরবানি করা যাবেঃ উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াও দুম্বা। এগুলোকে পবিত্র কুরআনের ভাষায় বলা হয় ‘বাহীমাতুল আনআম’।


উটের বয়স ৫ বছর হতে হবে। গরু/ মহিষ এর বয়স ২ বছর হতে হবে। এবং একটি গরু/মহিষে ৩,৫ বা ৭ জন শরীক হতে পারবেন। ছাগল, দুম্বা, ভেড়ার ক্ষেত্রে ১ বছর হতে হবে।


হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, হরজত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা (কোরবানিতে) ‘মুছিন্না’ ছাড়া জবেহ করবে না। তবে সংকটের অবস্থায় ছ’মাস বয়সী ভেড়া-দুম্বা জবেহ করতে পারবে।’ (সহিহ মুসলিম-২/১৫৫)


যে ধরনের পশু দিয়ে কুরবানি হবে না

দুই চোখ অন্ধ, এক চোখ অন্ধ, পা ভাঙা যা জবেহের স্থান পর্যন্ত হেটে যেতে পারে না, এমন বু্ড়ো যে হাড্ডিতে মজ্জা নেই এ ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে না। কান কাটা ও লেজ কাটা, অথবা কান অথবা লেজের বেশি অংশ অংশ কাটা পশু দিয়ে কুরবানি করলে হবে না। তবে কান বা লেজের বেশি অবশিষ্ট থাকলে বৈধ হবে।


হজরত বারা ইবনে আযিব (রা.) কোরবানির পশু সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হাত দিয়ে ইশারা করেছেন এবং বলেছেন, চার ধরনের পশু দ্বারা কোরবানি করা যায় না। সেগুলো হলো- যে পশুর এক চোখের দৃষ্টিহীনতা স্পষ্ট, যে পশু অতিশয় রুগ্ন, যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং যে পশু এত শীর্ণ যে- তার হাড়ে মজ্জা নেই। লোকেরা বলল, আমরা তো দাঁত, কান ও লেজে ত্রুটিযুক্ত প্রাণী (দ্বারা কোরবানি করা)ও অপছন্দ করি? তিনি বললেন, যা ইচ্ছা অপছন্দ করতে পারো। তবে তা অন্যের জন্য হারাম করো না। (সহিহ ইবনে হিব্বান-৫৯১৯)


সর্বোপরি, ঈদুল আজহার গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। পশু জবাই করে গোশত আহার করার মধ্যে কুরবানি সীমাবদ্ধ নয়। কুরবানি হচ্ছে, আন্তত্যাগ। অর্থাৎ নিজেদের বিভিন্ন কিছুর মাধ্যমে আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য আমরা যা কিছু করি। তাই প্রত্যেক সামর্থবানদের উচিত একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানি করা।


কুরবানীর জরুরি ৬৭ টি মাসয়ালা!

________________________________________________


১.কার উপর কুরবানী ওয়াজিব?

উঃ জিলহজ্জ মাসের ১০ সুবহে সাদিক থেকে১২ তারিখ

সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারো কাছে যদি নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে ৭ঃ৫ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা থাকে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।


২.নিছাবের মেয়াদ কত দিন?

উঃ ৩ দিন, জিলহজ্জ মাসের ১০,১১ এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।


৩. তিন দিনের মধ্যে কোন দিন কুরবানী করা উত্তম?

উঃ ১০ তারিখে প্রথম দিন।


৪.যদি নাবালক এর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?

উঃ না।


৫.বালেক সুস্থ মস্তিষ্ক না নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?

উঃ- না


৬.যদি নাবালেক এর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এর পক্ষে থেকে কুরবানী দেওয়া কি?

উঃ মুস্তাহাব, ওয়াজিব না।


৭.দরিদ্র লোকের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?

উঃ- না, তবে যদি কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে

তখন সে পশু কুরবানী করা ওয়াজিব।


৮.কেউ যদি কুরবানির দিন গুলোতে কুরবানির দিতে না পারে তাহলে কি করবে, যদি সে নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, কোন সমস্যায় দিতে পারে নি তাহলে কি করবে?


উঃ-একটা ছাগল যে কুরবানী উপযুক্ত সে ছাগলের সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দিবে ন এটা হলো যারা পশু ক্রয় করতে পারেনি তাদের জন্য।

কিন্তু যারা পশু কিনেছেন কিন্তু তিন দিনের মাঝে কুরবানী দিতে পারেন নি তাহলে তার জন্য করণীয় হলো সে পশু সদকা করে দেওয়া।


আবার যদি কেউ তিন দিন পর জবাই করে ফেলে তাহলে সে ঐ পশুর গোশত ওজন করবে তারপর যদি ঐ পশুর ক্রয়ের টাকা থেকে কম হয় তাহলে গোশত সহ

যতো টাকার গোশত কম হয়েছে পুরো টাই সদকা করতে হবে। ধরনে আপনি ২০ হাজার দিয়ে কিনেছেন ওজন দিয়ে দেখলেন ১৮ হাজার টাকার গোশত হয়েছে

গোশতের আরও ২ হাজার টাকা সদকা করতে হবে।


৯.প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে?

উঃ যে এলাকায় জুমার নামাজ,এবং ঈদের নামাজ ওয়াজিব সে এলাকায় ঈদের নামাজের আগে কুরবানী করা জায়েজ নেই। তবে কোন প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে গেলে

যদি ঈদের নামাজ না পড়া যায় তাহলে করনীয় হলো সূর্য মধ্যে আকাশ অতিক্রম করার পর কুরবানী করা জায়েজ হবে।


১০.রাতে কুরবানী দিলে কি হবে?

উঃ ১০,১১ তারিখে রাতে দিলে হবে ১২ তারিখ রাতে দিলে হবে না।


১১.কোন কোন পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া জায়েজ?

উঃ- গরু,উট,মহিষ,দুম্বা, ছাগল এবং ভেড়া।


১২.পশু দের লিঙ্গ ভেদ করতে হবে কি?

উঃ- না, পুরুষও মহিলা উভয় দিয়ে হবে।


১৩.পশুর বয়স সীমা কত?

উঃ উট কম পক্ষে ৫ বছর,গরু মহিষ ২ বছর

ভেড়া, দুম্বা ছাগল ১ বছর।

ভেড়া এবং দুম্বা ১ বছর হয়নি তবে বলিষ্ঠ মনে হয়

যে এক বছর হয়েছে তাহলে এটা দিয়ে কুরবানী হবে।

তবে ছাগল ১ বছরের নিচে কোন ভাবে হবে না।


১৪.শরীক সর্বোচ্চ কত জন হওয়া যাবে?

উঃ উট,গরু,মহিষে সর্বোচ্চ ৭ জন কমে হলে সমস্যা নেই তবে একা দেওয়া উত্তম । ছাগল, দুম্বা, ভেড়া তে একজন।


১৫.গোশত ভাগে কম বেশি হলে?

উঃ- কারো কুরবানী সহীহ হবে না।


১৬. শরীকের মাঝে কেউ যদি গোশত খাওয়ার নিয়তে দেয় তাহলে?


উঃ- কারো কুরবানী হবে না।


১৭.কুরবানীর পশুতে আকিকা দেওয়া যাবে?

উঃ- হ্যাঁ, তবে উট, গরু,এবং মহিষে।


১৮. শরীক দার দের মাঝে যদি কারো অধিকাংশ বা পুরা টাকা হারাম হয় তাহলে কি কুরবানী হবে?


উঃ- না না না! কারো কুরবানী হবে না।


১৯. গরু, মহিষ উট একা কুরবানী নিয়তে কিনার অন্য কাউকে কি শরীক করা যাবে?


উঃ- ধনী হলে পারবে অর্থাৎ যার উপর ওয়াজিব , তবে গরিব ওয়াজিব না কুরবানী তার উপর। পশু কিনে ফেলছে কুরবানীর নিয়তে তাহলে শরীক করা যাবে না একাই দিতে হবে।


২০.কোন ধরনের পশু নির্বাচন করা উত্তম?

উঃ- রিষ্ট পুষ্ট, তাজা পশু নির্বাচন করা সুন্নত।


২১.যে পশু তিন পায়ে ভর করে চলে এমন পশু ধারা কি কুরবানী হবে?


উঃ- না


২২.রোগ্ন পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?

উঃ- না


২৩.দাঁত ছাড়া পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?

উঃ একটা দাত নেই এটা কোন ভাবেই হবে না ,অথবা কিছু আছে তবে ঘাস খেতে পারে না এমন পশু ধারা কুরবানী হবে না।


২৪. শিং ছাড়া পশু দিয়ে কুরবানী হবে কি ?

উঃ জন্মগত যে পশুর শিং নেই সেটা ধারা হবে।

তবে পরবর্তীতে যেটা ভেঙ্গে যায় আর তার ফলে মস্তিষ্কে ক্ষতি হয় এমন পশু ধারা হবে না। তবে অর্ধে হলেও হবে।


২৫.লেজ কাটা, কান কাটা পশু দিয়ে কুরবানি হবে কি?

উঃ যদি পশুর লেজ বা কান অর্ধেক বা তার বেশি কাটা হয় তাহলে সে পশু ধারা কুরবানী হবে না।

তবে অর্ধেকের কম হলে হবে।


২৬.অন্ধ পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?

উঃ- না তবে যে পশুর এক চোখ ও অন্ধ সেটা দিয়েও হবে না।


২৭.কুরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করার পর হারিয়ে গেলে দাতা কি করবে?


উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।

এবং গরিব ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তি ক্রয় করতে হবে না

তবে কিনার পরে যদি আবার প্রথম পশু ফিরে পাওয়া যায় তাহলে ধনী ব্যক্তি যেকোন একটা কুরবানী করলে হবে, তবে দুটা করা উত্তম একটা করলেও হবে।


** আর গরিব ব্যক্তি যদি হয় তাহলে দুটাই দিতে হবে।

দুটাই দেওয়া তখন ওয়াজিব।


২৮.গর্ভবতী পশু কুরবানী করা কি জায়েজ আছে?

উঃ- হ্যা জায়েজ।


২৯.পশু জবাইয়ের পরে যদি বাচ্চা কে জীবিত পাওয়া যায় তাহলে কি করবে?

উঃ- বাচ্চা ও জবাই দিতে হবে।


৩০.জবাইয়ের আগ মুহূর্তে যদি পশু প্রসব অবস্থায় উপনীত হয় তখন করনীয় কি?


উঃ- সে পশু জবাই করা জায়েজ আছে, তবে মাকরূহ!


৩১.পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোন দোষ দেখা যায় যে দোষ গুলো থাকিলে কুরবানী হয় না তখন করনীয় কি?

উঃ- এই পশু ধারা কুরবানী হবে না।

তবে এখানে গরিব ব্যক্তির জন্য জায়েজ আছে

ধনী ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয়।


৩২.আপনি কোন পশু ক্রয় করার সময় জিজ্ঞেস করলেন বয়স কত সে বললো ২ বছর যদি সেটার আসলে বয়স ২ বছর না হয় তখন কি করনীয় বা কুরবানী কি হবে?


উঃ- হ্যা হবে তবে যে বিক্রেতা মিথ্যা বলেছে তার গুনা হবে।


৩৩.পশু কোথায় জবাই করা উত্তম?

উঃ- যেখানে পরিবেশ দূষিত হওয়ার আশংকা কম থাকে।


৩৪. পশু কে জবাই করা উত্তম?

উত্তমঃ- নিজের পশু নিজে কুরবানী করা উত্তম।


৩৫.বন্ধা পশু ধারা কুরবানী হবে কি?

উঃ- হ্যা হবে ।


৩৬.অনেক সময় হুজুর জবাই করার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ হয় নি আবার অন্য জন তরবারি হাতে নিয়ে

রগ বা শিরা কাটতে যায় এটা কি জায়েজ হবে?


উত্তরঃ- হ্যা জায়েজ আছে তবে উভয় ব্যক্তি বিসমিল্লাহি আল্লাহ আকবার না বললে কুরবানী হবে না।

একজন যদি না বলে সেক্ষেত্রে ও কুরবানী বাতিল হয়ে যাবে।


৩৭. কুরবানীর পশু ধারা উপকৃত হওয়া যাবে কি?

উঃ না এটা কোন ভাবে জায়েজ নেই।


৩৮.কুরবানীর পশু ধারা যদি আপনি হাল চাষ করে ফেলেন সেক্ষেত্রে করনীয় কি?

উঃ অন্য পশু ধারা করলে যে পারিশ্রমিক আসত সে পরিমান টাকা সদকা করে দেওয়া।


৩৯.কুরবানির পশুর,দুধ পান করা যাবে কি?

উঃ- না


৪০. যদি পশুর জবাইর আগে মন হয় দুধ দহন না করলে পশুর কষ্ট হবে তাহলে করনীয় কি?


উঃ- সে দুধ দহন করে সদকা করে দিতে হবে.

ভুলে খেয়ে ফেললেন তখন যে পরিমাণ পান করেছেন সে পরিমাণ অর্থ সদকা করতে হবে।


৪১.পশু ক্রয় করার পর শরীক মারা গেল তখন কি করবে?


উঃ- তার ওয়ারিশ রা যদি বলে কুরবানী করেন তাহলে

করতে পারবেন, আর যদি বলে না করতে পারবেন না তাহলে টাকা দিয়ে দিতে হবে।

তবে চাইলে পরবর্তী আরেক জন শরীক করতে পারবেন।


৪২.জবাইয়ের আগে পশু বাচ্চা দিলে কি করবেন?


উঃ- ঐ বাচ্চা জীবিত সদকা করে দিতে হবে।

সদকা না করলে পশুর সাথে জবাই করতে হবে।

এখানে জবাই করা বাচ্চার গোশত সদকা করে দিতে হবে, আপনে খেতে পারবেন না।


৪৩.মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কুরবানী করা যাবে?


উঃ- হ্যা করা যাবে, তবে উসিয়ত করে গেলে গোশত সদকা করে দিতে হবে। উছিয়ত না করলে আপনে খেতে পারবেন।


৪৪.তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখা যাবে?

উঃ- হ্যা রাখা যাবে যতো দিন ইচ্ছে!


৪৫.অনুমান করে বন্টন করা কি জায়েজ আছে?

উঃ- না, পূর্ণ ওজন করে ভাগ করতে হবে।


৪৬. তিনের এক অংশ গরীব কে দেওয়া, যদি সেটা না দেই তাহলে কি কুরবানী হবে? (আমরা যেটা কে সমাজের গোশত বলি)

উঃ- হ্যা হবে তবে সেটা বড় কৃপ্রনতার পরিচয়।


৪৭.গোশত চর্বি বিক্রি করা যাবে কি?

উঃ- না।


৪৮.জবাইকারী বা কসাই কে গোশত দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি?


উঃ না টাকা দিতে হবে, তবে পরে হাদিয়া হিসেবে গোশত দিতে পারবেন আগে পারিশ্রমিক দিতে হবে।


৪৯. জবাই করার অস্র কেমন হতে হবে?

উঃ দাড়ালো উত্তম।


৫০. জবাইয়ের কত সময় পর চামড়া আলাদা করা যাবে?

উঃ- নিসতেজ হওয়ার পর পশু।


৫১.এক পশু কে অন্য পশুর সামনে জবাই করা যাবে কি?


উঃ- যাবে তবে ঠিক না নবী কারীম সাঃ নিষেধ করেছেন?


৫২.কুরবানীর গোশত অন্য র্ধমের ব্যক্তি কে দেওয়া যাবে কি ?

উঃ- হ্যা তাতে কোন সমস্যা নেই।


৫৩.পশু মারা গেলে অথবা ছিনতাই হয়ে গেলে কি করনীয়?

উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।

গরিব হলে লাগবে না।


৫৪.মুসাফির এর উপর কুরবানী করা কি ওয়াজিব?

উঃ না।


৫৫.কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করলে কি করনীয়?


উঃ- ঐ ব্যক্তি থেকে অনুমতি নিতে হবে।


৫৬.কুরবানীর গোশত খাওয়া কি?

উঃ- মুস্তাহব, না খেলেও গুনা হবে না। তবে খাওয়া উত্তম।


৫৭.কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তি যদি ঋণ নিয়ে কুরবানী করে কুরবানী হবে কি?

উঃ হবে তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে করলে হবে না।


৫৮.হাজীরা যদি মুসাফির থাকে তখন তাদের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?

উঃ- না।


৫৯.পাগল পশু ধারা কুরবানী কি হবে?

উঃ- না।


৬০.নবী কারীম সাঃ এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা কি?

উঃ- উত্তম সামার্থ্যবান দের জন্য।

এটার গোশত সবায় খেতে পারবে।


৬১.খাসি কৃত পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?

উঃ- হ্যা


৬২.বিদেশে অবস্থানে ব্যক্তির করনীয় কি?

উঃ- উনার পক্ষ থেকে দেশে কুরবানী দিলেও হবে


৬৩.পশুর চামড়া কি নিজে ব্যবহার করা যাবে?

উঃ- হ্যা,তবে বিক্রি করলে টাকা সদকা করতে হবে।


৬৪.জবাই কারী কে পারিশ্রমিক দিতে হবে কি?

উঃ উত্তম হাদিয়া দেওয়া।


৬৫.কুরবানীর দিনে মুরগী হাঁস জবাই করা যাবে কি?

উঃ- যাবে, তবে কুরবানী নিয়তে করা যাবে না।


৬৬. মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানী করা যাবে কি?

উঃ- হ্যা যাবে।


৬৭.কুরবানীদাতা জ্বিলহজ্ব মাসের ১-১০/১১/১২ তারিখ পর্যন্ত চুল, গোফ, নখ কাটতে পারবে না!

কেউ ভুলে কেটে খেললে এর জন্য কাফ্ফারা দিতে হবে না। তবে তওবা ইস্তেগফার করতে হবে!

আলহামদুলিল্লাহ এই হলো ৬৬ টি মাসায়ালা

আল্লাহ সকল কে সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানী করার তৌফিক দান করুন আমিন।

মন্তব্য করুন