Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

৩০ জুন, ২০২২ ০৫:৩৩ অপরাহ্ণ

জিলহজ্জ মাসের আমল

বাংলাদেশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০/০৬/২০২২ অথবা ০১/০৭/২০২২ জুলাই মাগরিবের পর থেকে যিলহজ মাস শুরু হবে।


যিলহজ মাসের প্রথম দশদিনের ফজিলতপূর্ণ আমল:

---------------------------------------------------------------------------

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন:والفجر، وليال عشر

"ভোরের শপথ আর দশ রাতের শপথ।" (সূরা ফজর ১-২)


ইবনে আব্বাস, ইবনে জুবায়ের ও মুজাহিদ(রা:) বলেছেন, এর অর্থ যিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত।

সূত্র: তাফসিরে ইবনে কাসির।


কুরআন মজীদে বলা হয়েছে:

وَیَذۡكُرُوا۟ ٱسۡمَ ٱللَّهِ فِیۤ أَیَّامࣲ مَّعۡلُومَـٰتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِیمَةِ ٱلۡأَنۡعَـٰمِۖ 

অর্থ: নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তারা যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে সেই পশুগুলোর উপর যেগুলো তিনি তাদের দান করেছেন।(সূরা আল হজ: ২৮)


ইবনে আব্বাস রা. এর  মতে ‘নির্দিষ্ট দিনগুলো’ বলতে যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন।


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

ما من أيام أفضل عند الله من أيام عشر ذي الحجة

"যিলহজ মাসে (প্রথম) দশ দিনের চেয়ে আর কোনো দিনই আল্লাহর কাছে এতটা মর্যাদাপূর্ণ নয়।" 

(ইবনে হিব্বান: ২৮৪২)


তিনি আরো বলেছেন:

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ" -يَعْنِي عَشَرَ ذِي الْحِجَّةِ -قَالُوا: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: "وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، إِلَّا رَجُلًا خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، ثُمَّ لَمْ يَرْجِعُ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ.

"আল্লাহর কাছে যিলহজ মাসের (প্রথম) দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর অপর কোনো দিনের আমল নেই। সাহাবায়ে কেরাম জানতে চান, হে আল্লাহর রসুল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি(এর চেয়ে উত্তম) নয়? তিনি বলেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে হ্যাঁ, সেই ব্যক্তির জিহাদ এর চেয়ে উত্তম, যে নিজের জানমাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হয়েছে, তারপর আর(জানমাল) কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।" (সহীহ বুখারী ৯৬৯)


এই দশদিনের আমল:

...............................

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ، وَلَا أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنَ الْعَمَلِ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ ؛ فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ، وَالتَّكْبِيرِ، وَالتَّحْمِيدِ .

" আল্লাহর কাছে থেকে আমলের দিক থেকে যিলহজ মাসের প্রথম দশদিনের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা সেই দিনগুলোতে বেশি বেশি সুবহানাল্লাহ, আল হামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ও আল্লাহু আকবার পাঠ করো।

সূত্র: মুসনাদে আহমদ: ৫৪৪৬


যিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানির আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, মোচ, নাভীর নিচের পশম ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

إِذَا رَأَيْتُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلْيُمْسِكْ عَنْ شعَرِهِ، وَأَظْفَارِهِ.

"তোমরা যদি যিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাও আর তোমাদের কেউ কুরবানি করার নিয়ত করে, তবে সে যেন নিজের চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।" (সহিহ মুসলিম: ১৯৭৭)


যিনি কুরবানি করতে অক্ষম তিনিও এ আমলটি করতে পারবেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى، جَعَلَهُ اللَّهُ عِيدًا لِهَذِهِ الْأُمَّةِ ". فَقَالَ الرَّجُلُ : أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا مَنِيحَةَ ابْنِي، أَفَأُضَحِّي بِهَا ؟ قَالَ : " لَا، وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ، وَتُقَلِّمُ أَظْفَارَكَ، وَتَقُصُّ شَارِبَكَ، وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ، فَذَلِكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللَّهِ

"আমি কুরবানীর দিন(অর্থাৎ কুরবানি করার) ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ তাআলা এ দিনটি এ উম্মতের জন্য ঈদ হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি আরজ করে, হে আল্লাহর রসুল! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানীহা থাকে (অর্থাৎ যা শুধু দুধপানের জন্য রয়েছে?) সেটিও কি কুরবানি করে দেবো? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: না, বরং সেদিন তুমি তোমার চুল কাটবে, নখ কাটবে, মোচ এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর কাছে তোমার পূর্ণ কুরবানি গণ্য হবে।

সূত্র: মুসনাদে আহমদ: ৬৫৭৫।


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন রোযা রাখতেন।

বর্ণিত হয়েছে:

أَرْبَعٌ لَمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : صِيَامَ عَاشُورَاءَ، وَالْعَشْرَ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ.

"চারটি আমল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ছাড়তেন না। আশুরার রোযা, যিলহজ্বের প্রথম  ৯দিনের রোযা, প্রত্যেক মাসে(আইয়ামে বীজের) তিন দিনের রোযা, ফজরের আগের দুই রাকাত সুন্নত নামায।


আরাফার দিনের (যিলহজ মাসের ৯ তারিখ) রোজা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ

"আরাফার দিনের (নয় তারিখের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশাবাদী যে, তিনি এর দ্বারা বিগত এক বছর ও আগামি এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দিবেন। (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)


এই দশদিনের আমলের মধ্যে রয়েছে কুরবানি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেন:

مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ إِنَّهَا لَتَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلاَفِهَا وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الأَرْضِ فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا ‏"‏ ‏

"কুরবানির দিন রক্ত প্রবাহিত করা (যবাহ করা) অপেক্ষা আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় মানুষের কোনো আমল নেই। কিয়ামতের দিন এসব পশু শিং, লোম ও পায়ের খুরসহ উপস্থিত হবে। এগুলোর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদায় পৌছে যায়। সুতরাং পরিতৃপ্ত হৃদয়ে তোমরা কুরবানি করবে। সূত্র: (তিরমিজি: ১৪৯৯)


তাকবির পাঠঃ 

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরা নির্দিষ্ট কয়েকদিন বেশী করে আল্লাহর যিকির কর।' (সুরা বাকারা, আয়াতঃ ২০৩)। অত্র আয়াতের নির্দিষ্ট দিন বলতে যিলহজ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ উদ্যেশ্য। এদিন গুলোকে আইয়্যামে তাশরিক বলা হয়। যিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর হতে যিলহজ মাসের ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্তের ফরজ নামাজের পড় নিম্নোক্ত তাকবিরটি পাঠ করতে হবে এবং পাঠ করতে ভুলে গেলে যখন স্মরণ হবে তখনই পাঠ করে নিবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:(পুরুষরা উচ্চস্বরে এবং মহিলারা নিচু স্বরে তাকবীর পাঠ করবে)


তাকবীরঃ 

الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله و الله اكبر الله اكبر ولله حمد

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার,আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার,আল্লাহু আকবার,ওয়া লিল্লাহিল হামদ। 

অর্থাৎঃ আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান এবং সকল প্রশংসা তার জন্যই। 


এছাড়াও দান-সদকাহ, কোরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ, দোয়া ও ইস্তেগফার সহ অন্যান্য নফল এবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে যিলহজ মাসের প্রথম দশদিন অতিবাহিত করা অতিব উত্তম কাজ।


হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি যিলহজ মাসের প্রথম দশদিনকে সম্মান করবে মহান আল্লাহ পাক তাকে দশটি বস্তু দান করবেন। ১. হায়াতের বরকত ২. সম্পদে বরকত ৩. পরিবার পরিজনের হেফাজত ৪. গুনাহের কাফফারা ৫. নেক আমল বৃদ্ধি ৬. মৃত্যুকালীন সাকারাত সহজ ৭. অন্ধকারে আলো ৮. মীজানে নেকির পাল্লা ভারী ৯. দোযখ থেকে নাজাত ১০. জান্নাতে উঁচু মর্যাদা লাভ। (গুনিয়াতুত তালেবীন)


সতর্কতা অবলম্বন:

..........................

যিলহজ মাসের এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ দশদিন সুন্দর সঠিক ও ফলদায়ক পদ্ধতিতে পালনের উদ্দেশ্যে আমাদেরকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখতে হবে:


১। যিলহজ মাসের চাঁদ উদয়ের সঠিক তারিখ জানতে হবে। 

২। যিলহজ মাস শুরুর আগেই চুল, নখ, গোঁফ কাটবেন এবং নাভীর নিচের পশম পরিস্কার করবেন। 

৩। জেনেবুঝে সঠিকভাবে এই দশদিনের আমলগুলো করার চেষ্টা করতে হবে।

৪। যারা কুরবানি করবেন হালাল উপার্জন দিয়ে আল্লাহর জন্যে আল্লাহর নামে কুরবানি করা।

৫। প্রতিটি ইবাদত ইখলাস ও নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করবেন।

আল্লাহ্ পাক আমাদের এই আমলগুলো সুন্দরভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুন! আমীনবাংলাদেশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০/০৬/২০২২ অথবা ০১/০৭/২০২২ জুলাই মাগরিবের পর থেকে যিলহজ মাস শুরু হবে।


যিলহজ মাসের প্রথম দশদিনের ফজিলতপূর্ণ আমল:

---------------------------------------------------------------------------

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন:والفجر، وليال عشر

"ভোরের শপথ আর দশ রাতের শপথ।" (সূরা ফজর ১-২)


ইবনে আব্বাস, ইবনে জুবায়ের ও মুজাহিদ(রা:) বলেছেন, এর অর্থ যিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত।

সূত্র: তাফসিরে ইবনে কাসির।


কুরআন মজীদে বলা হয়েছে:

وَیَذۡكُرُوا۟ ٱسۡمَ ٱللَّهِ فِیۤ أَیَّامࣲ مَّعۡلُومَـٰتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِیمَةِ ٱلۡأَنۡعَـٰمِۖ 

অর্থ: নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তারা যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে সেই পশুগুলোর উপর যেগুলো তিনি তাদের দান করেছেন।(সূরা আল হজ: ২৮)


ইবনে আব্বাস রা. এর  মতে ‘নির্দিষ্ট দিনগুলো’ বলতে যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন।


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

ما من أيام أفضل عند الله من أيام عشر ذي الحجة

"যিলহজ মাসে (প্রথম) দশ দিনের চেয়ে আর কোনো দিনই আল্লাহর কাছে এতটা মর্যাদাপূর্ণ নয়।" 

(ইবনে হিব্বান: ২৮৪২)


তিনি আরো বলেছেন:

مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ" -يَعْنِي عَشَرَ ذِي الْحِجَّةِ -قَالُوا: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: "وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، إِلَّا رَجُلًا خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، ثُمَّ لَمْ يَرْجِعُ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ.

"আল্লাহর কাছে যিলহজ মাসের (প্রথম) দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর অপর কোনো দিনের আমল নেই। সাহাবায়ে কেরাম জানতে চান, হে আল্লাহর রসুল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি(এর চেয়ে উত্তম) নয়? তিনি বলেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে হ্যাঁ, সেই ব্যক্তির জিহাদ এর চেয়ে উত্তম, যে নিজের জানমাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হয়েছে, তারপর আর(জানমাল) কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।" (সহীহ বুখারী ৯৬৯)


এই দশদিনের আমল:

...............................

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ، وَلَا أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنَ الْعَمَلِ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ ؛ فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ، وَالتَّكْبِيرِ، وَالتَّحْمِيدِ .

" আল্লাহর কাছে থেকে আমলের দিক থেকে যিলহজ মাসের প্রথম দশদিনের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা সেই দিনগুলোতে বেশি বেশি সুবহানাল্লাহ, আল হামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ও আল্লাহু আকবার পাঠ করো।

সূত্র: মুসনাদে আহমদ: ৫৪৪৬


যিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানির আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, মোচ, নাভীর নিচের পশম ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

إِذَا رَأَيْتُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلْيُمْسِكْ عَنْ شعَرِهِ، وَأَظْفَارِهِ.

"তোমরা যদি যিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাও আর তোমাদের কেউ কুরবানি করার নিয়ত করে, তবে সে যেন নিজের চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।" (সহিহ মুসলিম: ১৯৭৭)


যিনি কুরবানি করতে অক্ষম তিনিও এ আমলটি করতে পারবেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى، جَعَلَهُ اللَّهُ عِيدًا لِهَذِهِ الْأُمَّةِ ". فَقَالَ الرَّجُلُ : أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا مَنِيحَةَ ابْنِي، أَفَأُضَحِّي بِهَا ؟ قَالَ : " لَا، وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ، وَتُقَلِّمُ أَظْفَارَكَ، وَتَقُصُّ شَارِبَكَ، وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ، فَذَلِكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللَّهِ

"আমি কুরবানীর দিন(অর্থাৎ কুরবানি করার) ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ তাআলা এ দিনটি এ উম্মতের জন্য ঈদ হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি আরজ করে, হে আল্লাহর রসুল! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানীহা থাকে (অর্থাৎ যা শুধু দুধপানের জন্য রয়েছে?) সেটিও কি কুরবানি করে দেবো? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: না, বরং সেদিন তুমি তোমার চুল কাটবে, নখ কাটবে, মোচ এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর কাছে তোমার পূর্ণ কুরবানি গণ্য হবে।

সূত্র: মুসনাদে আহমদ: ৬৫৭৫।


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন রোযা রাখতেন।

বর্ণিত হয়েছে:

أَرْبَعٌ لَمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : صِيَامَ عَاشُورَاءَ، وَالْعَشْرَ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ.

"চারটি আমল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ছাড়তেন না। আশুরার রোযা, যিলহজ্বের প্রথম  ৯দিনের রোযা, প্রত্যেক মাসে(আইয়ামে বীজের) তিন দিনের রোযা, ফজরের আগের দুই রাকাত সুন্নত নামায।


আরাফার দিনের (যিলহজ মাসের ৯ তারিখ) রোজা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ

"আরাফার দিনের (নয় তারিখের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশাবাদী যে, তিনি এর দ্বারা বিগত এক বছর ও আগামি এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দিবেন। (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)


এই দশদিনের আমলের মধ্যে রয়েছে কুরবানি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেন:

مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ إِنَّهَا لَتَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلاَفِهَا وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الأَرْضِ فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا ‏"‏ ‏

"কুরবানির দিন রক্ত প্রবাহিত করা (যবাহ করা) অপেক্ষা আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় মানুষের কোনো আমল নেই। কিয়ামতের দিন এসব পশু শিং, লোম ও পায়ের খুরসহ উপস্থিত হবে। এগুলোর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদায় পৌছে যায়। সুতরাং পরিতৃপ্ত হৃদয়ে তোমরা কুরবানি করবে। সূত্র: (তিরমিজি: ১৪৯৯)


তাকবির পাঠঃ 

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরা নির্দিষ্ট কয়েকদিন বেশী করে আল্লাহর যিকির কর।' (সুরা বাকারা, আয়াতঃ ২০৩)। অত্র আয়াতের নির্দিষ্ট দিন বলতে যিলহজ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ উদ্যেশ্য। এদিন গুলোকে আইয়্যামে তাশরিক বলা হয়। যিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর হতে যিলহজ মাসের ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্তের ফরজ নামাজের পড় নিম্নোক্ত তাকবিরটি পাঠ করতে হবে এবং পাঠ করতে ভুলে গেলে যখন স্মরণ হবে তখনই পাঠ করে নিবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:(পুরুষরা উচ্চস্বরে এবং মহিলারা নিচু স্বরে তাকবীর পাঠ করবে)


তাকবীরঃ 

الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله و الله اكبر الله اكبر ولله حمد

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার,আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার,আল্লাহু আকবার,ওয়া লিল্লাহিল হামদ। 

অর্থাৎঃ আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান এবং সকল প্রশংসা তার জন্যই। 


এছাড়াও দান-সদকাহ, কোরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ, দোয়া ও ইস্তেগফার সহ অন্যান্য নফল এবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে যিলহজ মাসের প্রথম দশদিন অতিবাহিত করা অতিব উত্তম কাজ।


হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি যিলহজ মাসের প্রথম দশদিনকে সম্মান করবে মহান আল্লাহ পাক তাকে দশটি বস্তু দান করবেন। ১. হায়াতের বরকত ২. সম্পদে বরকত ৩. পরিবার পরিজনের হেফাজত ৪. গুনাহের কাফফারা ৫. নেক আমল বৃদ্ধি ৬. মৃত্যুকালীন সাকারাত সহজ ৭. অন্ধকারে আলো ৮. মীজানে নেকির পাল্লা ভারী ৯. দোযখ থেকে নাজাত ১০. জান্নাতে উঁচু মর্যাদা লাভ। (গুনিয়াতুত তালেবীন)


সতর্কতা অবলম্বন:

..........................

যিলহজ মাসের এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ দশদিন সুন্দর সঠিক ও ফলদায়ক পদ্ধতিতে পালনের উদ্দেশ্যে আমাদেরকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখতে হবে:


১। যিলহজ মাসের চাঁদ উদয়ের সঠিক তারিখ জানতে হবে। 

২। যিলহজ মাস শুরুর আগেই চুল, নখ, গোঁফ কাটবেন এবং নাভীর নিচের পশম পরিস্কার করবেন। 

৩। জেনেবুঝে সঠিকভাবে এই দশদিনের আমলগুলো করার চেষ্টা করতে হবে।

৪। যারা কুরবানি করবেন হালাল উপার্জন দিয়ে আল্লাহর জন্যে আল্লাহর নামে কুরবানি করা।

৫। প্রতিটি ইবাদত ইখলাস ও নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করবেন।


আল্লাহ্ পাক আমাদের এই আমলগুলো সুন্দরভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুন! আমীন

মন্তব্য করুন