প্রভাষক
০৫ জুলাই, ২০২২ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
নবমত: #আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হলেন ইসলামের প্রথম শানদার বাদশাহ্, যেমন হযরত আবূ বকর সিদ্দীক্ব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হলেন ইসলামের প্রথম খলীফা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমার পর ত্রিশ বছর পর্যন্ত খিলাফত-ই রাশেদাহ্ বলবৎ থাকবে, তারপর রাজতন্ত্র শুরু হবে। বাস্তবেও দেখা গেছে যে, হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর শাহাদাতের সময় উল্লিখিত খিলাফতের সময় প্রায় সাত মাস বাকী ছিলো। এ বাকী সময় হযরত ইমাম হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু পূর্ণ করে খিলাফত থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কেননা, খিলাফতের সময় তখন পূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো। এরপর থেকে গোটা মুসলিম রাজ্যে প্রথম সুলতান হন হযরত আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু। হযরত আমীর মু‘আভিয়ার বাদশাহীতে হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম যে সন্তুষ্ট ছিলেন তা সহীহ্ বোখারী শরীফের নিম্নেলিখিত হাদীস শরীফ থেকেও প্রমাণিত হয়-
সহীহ্ বোখারী শরীফে ‘স্বপ্নের বিবরণ ও জিহাদের বর্ণনা’ শীর্ষক অধ্যায়ে কয়েক জায়গায় হযরত আনাস প্রমুখ (রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুম) থেকে বর্ণিত-হযরত ওবাদাহ্ ইবনে সামিতের স্ত্রী হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহানের ঘরে হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি (হুযূর-ই আক্রাম) আনন্দিত হয়ে মুচকি হেসে জাগ্র ত হলেন। হযরত উম্মে হারাম আরয করলেন, ‘‘ইয়া রাসূলাল্লাহ্, এ আনন্দ ও মুচকি হাসির কারণ কি?’’ হুযূর-ই আক্রাম-ই আক্রাম এরশাদ ফরমালেন, ‘‘এ মাত্র স্বপ্নে আমার সামনে আমার উম্মতের গাযী (যোদ্ধা)কে উপস্থাপন করা হয়েছে, যে এ সমুদ্র এমন শান-শওকতের সাথে অতিক্রম করেছে যেন সিংহাসনে বাদশা আরোহন করে জিহাদ করতে যাচ্ছে।’’ উম্মে হারাম আরয করলেন, ‘‘ইয়া রসূলাল্লাহ্, আমার জন্য দো‘আ করুন! আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকেও যেন তাঁর সাথে জিহাদে অংশ গ্রহণ করার তাওফীক্ব দান করেন।’’ হুযূর-ই আন্ওয়ার এরশাদ ফরমালেন, ‘‘তুমিও তাদের মধ্যে থাকবে।’’ এটা এরশাদ করে হুযূর আবার শুয়ে পড়লেন। পুনরায় তিনি অনুরূপ আনন্দিত হয়ে জাগ্রত হলেন এবং পুনরায় ওই স্বপ্নের কথা উল্লেখ করলেন। উম্মে হারাম পুনরায় আরয করলেন, ‘‘হুযূর, আমার জন্য দো‘আ করুন, আমিও যেন ওই জিহাদে ওই সব গাযীর সাথে থাকতে পারি।’’ হুযূর এরশাদ ফরমালেন, ‘‘না, তুমি প্রথমোক্ত গাযীদের সাথে থাকবে।’’ হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, এ জিহাদ হযরত আমীর মু‘আভিয়ার রাজত্বকলে হয়েছিলো। উম্মে হারাম বিনতে মিলহান হযরত আমীর মু‘আভিয়ার সাথে সমুদ্র অতিক্রম করছিলেন এবং সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার পর স্বীয় উষ্ট্র থেকে পড়ে গিয়ে শাহাদৎ বরণ করেন। হাদীস শরীফটার শেষ বচনগুলো নিম্নরূপ-
فَرَكَِبَتِ الْبَحْرَ فِىْ زَمَانِ مُعَاوِيَةَ بْنِ اَبِىْ سُفْيَانَ فُصُرِعَتْ عَنْ بُدْنَتِهَا حِيْنَ خَرَجَتْ مِنَ الْبَحرِ فَهَلَكَتْ.
অর্থাৎ অতঃপর (উম্মে হারাম বিনতে মিলহান) হযরত মু‘আভিয়া ইবনে আবূ সুফিয়ানের যুগে সমুদ্রে আরোহণ করলেন। অতঃপর যখন সমুদ্র পার হলেন তখন তিনি তাঁর উট থেকে পড়ে গেলেন এবং ইন্তিক্বাল করলেন।[বোখারী শরীফ]
এ হাদীস শরীফে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, হযরত আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু ইসলামের বাদশাহ্ হবেন। তিনি গাযী হবেন। ওই জিহাদে অংশ গ্রহণকারীগণ উচ্চ মর্যাদাশীল হবেন। তাঁর শানমান দেখে হুযূর-ই আক্রাম খুশী হয়েছেন। সর্বোপরি, উক্ত হাদীস শরীফ থেকে বুঝা যায় যে, হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহানের অনুকূলে হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দো‘আ ক্ববূল হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলা হুযূর-ই আক্রামকে আগে ও পরের সব বিষয়ের জ্ঞান দিয়েছেন।